কল্যাণীতে রেজিস্ট্রার নিয়োগের
বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পিছু হটলো রাজ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা

কল্যাণী, ১৬ই জুলাই— বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে শেষে পিছু হটলো রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মীবর্গদপ্তর থেকে রাজ্যপালের অনুমতি সাপেক্ষে সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এক ডব্লিউ বি সি এস অফিসারকে রেজিস্ট্রার করে পাঠানো হয়। এহেন আজব নির্দেশ ফ্যাক্স মারফত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা মাত্রই চাঞ্চল্য ছড়ায়। নিয়ম অনুযায়ী কৃষিদপ্তরের থেকে কোন ম্যাচিং অর্ডার না বেরনো পর্যন্ত কোনভাবেই এই কাজে ওই অফিসারকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করানো যায় না। দক্ষিণ ২৪পরগনায় যুব আধিকারিক নীলাঞ্জন পালকে ওই পদে পাঠানো হয় এবং দ্রুত কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশের পর ছয় দিন পেরিয়ে গেল কৃষিদপ্তর থেকে কোন ম্যাচিং অর্ডার বের করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মীবর্গদপ্তর থেকে এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফের অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি, কৃষিদপ্তরের কাছে চিঠি দিয়ে জানান, এইভাবে সরাসরি কোন অফিসারকে ‘পরবর্তী নির্দেশ আসা না পর্যন্ত’ রেজিস্ট্রার পদে বসানো যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট, স্ট্যাটুট অনুয়ায়ী এতে পরবর্তীতে কোন এক সময়ে আইনি সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ধরণীধর পাত্র গত ১৭ই এপ্রিল কৃষিদপ্তরে চিঠি দিয়ে ‘ডেপুটেশনে’ একজন অফিসারকে ওই পদে পাঠানোর জন্য চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সে বিষয়ের কোন উল্লেখ ছিল না। পরবর্তী নির্দেশ আসা না পর্যন্ত ওই অফিসারকে রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করতে বলাতেই আদতে গোল বাধে।

কারণ হিসেবে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে ড. ধরণীধর পাত্র যোগ দেবার পর থেকেই ‘অস্থায়ী রেজিস্ট্রার’ নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কাজিয়া চরমে। এক বছরে চারজনকে ওই পদে বসানো হয়। একসময়ে তৃণমূলের গোষ্ঠী কাজিয়ায় জেরবার হয়েই তিনি সরকারের কাছে লোক চেয়েছিলেন। তারপরই সরকারের থেকে এহেন নির্দেশ আসে।

অন্যদিকে জানা যায়, দক্ষিণ ২৪পরগনায় যুব আধিকারিক নীলাঞ্জন পাল নিজের দপ্তর থেকে রিলিজ নিয়ে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ দেবেন বলে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে না পেরে তিনি প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মীবর্গদপ্তরে ফিরে যান। রবিবার নীলাঞ্জন পাল জানিয়েছেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না আসা অবধি তিনি ওই দপ্তরেই থাকছেন’।

রাজ্যপালের অনুমতি নিয়েও এক অফিসারকে রেজিস্ট্রার পদে পাঠিয়ে শেষে ফিরিয়ে নেওয়াটাও একটা লজ্জার বিষয়। তুঘলকি বিজ্ঞপ্তি জারি করে শেষে পিছু হটলো সরকার!