দর্জি শিল্পে জি এস টি-র
বিরুদ্ধে সভা জব্বার হাটে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৬ই জুলাই— পোশাক শিল্পে ৫ শতাংশ জি এস টি প্রত্যাহারের দাবিতে রবিবার বিকালে মেটিয়াবুরুজের জব্বার হাটের সামনে সংগঠিত হলো প্রতিবাদ সভা। গত তিন সপ্তাহ ধরেই কার্যত বিকিকিনি বন্ধ মেটিয়াবুরুজের ৪৩টি হাটে। এদিন সভা শুরু হতেই মুহূর্তের মধ্যে ভিড় জমান দর্জি শিল্পী এবং ওস্তাগররা। ভিড়ে ঠাসা সভায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল টেলার্স ইউনিয়ন’-এর সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা গায়েন বলেন, রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দর্জি শিল্পের সাথে যুক্ত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রেডিমেড পোশাকের ব্যবসায় যুক্ত দেড় লক্ষ মানুষ। এর মধ্যে সিংহভাগই অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মেটিয়াবুরুজ বা হাওড়া হাট থেকে সারা দেশে কম দামের পোশাক সরবরাহ করা হয়, যা দেশের মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ। জি এস টি চালু হওয়ার পর সংকটের সম্মুখীন দর্জি, ওস্তাগাররা। তিনি বলেন, দর্জি-ওস্তাগরদের দুটি দাবি। প্রথমত, বস্তাপিছু ভ্যাটকে জি এস টি-তে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বছরে ২০লক্ষ টাকার নিচে লেনদেনের ক্ষেত্রে জি এস টি থেকে ছাড়ের যে কথা বলা আছে, তা কেবল রাজ্যের মধ্যে ব্যবসার ক্ষেত্রে। সি আই টি ইউ-র দাবি, এই নিয়ম আন্তঃরাজ্য ক্ষুদ্র শিল্পের রেডিমেড পোশাকের ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হোক।

এদিনের সভায় সি আই টি ইউ নেতা মণিরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা প্রথম থেকেই জি এস টি-র বিরোধিতা করে এসেছেন, সংকটের কথা জানিয়ে বারবার চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রককে। বাস্তব সংকট না বুঝেই গায়ের জোরে চাপানো হলো জি এস টি। মেটিয়াবুরুজ-মহেশতলার দর্জি শিল্পের সিংহভাগ ব্যবসাই হয় ভিন রাজ্যে। জি এস টি চালু হওয়ার পর সুযোগ বুঝে পরিবহণের খরচও কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, অভিযোগ ওস্তাগরদের। তিন সপ্তাহ ধরে দলুজগুলি বন্ধ। এছাড়াও এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সি আই টি ইউ নেতা আহমেদ আলি মণ্ডল। সভায় উপস্থিত ছিলেন গণআন্দোলনের নেতা দিলীপ সেন। এদিনের সভায় সভাপতিত্ব করেন ইকবাল গাজি।