নাসিরুল্লাহ-তথ্য জানতে ঢাকায়
গিয়ে বৈঠক কলকাতা পুলিশের

সংবাদসংস্থা

ঢাকা, ১৬ই জুলাই — পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত সন্ত্রাসবাদী সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা নাসিরুল্লাহ বাংলাদেশে ধরা পড়ার পরে রবিবার বাংলাদেশী নিরাপত্তা অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করলো কলকাতা পুলিশের একটি দল। ধৃত সন্ত্রাসবাদীকে জেরার পরে যেসব তথ্য মিলেছে, তা নিয়েই দু’পক্ষে মতবিনিময় হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তরে এই বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী আই জি মহম্মদ মণিরুজ্জামান এদিন এখবর দিয়ে জানান, কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ৩জন অফিসার শনিবার ঢাকায় এসে পৌঁছান। এদিকে, শনিবার গভীর রাতে ঢাকার উপকণ্ঠে সাভার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে তুমুল গুলিনিময়ের পরে নয়া জে এম বি-র ৪জন সন্ত্রাসবাদী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ এবং ঢাকার গুলশন কাফে হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত নাসিরুল্লাহ এবং তার আরো ৩সঙ্গীকে গত ৭ই জুলাই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ পুলিশ। মারাত্মক ধরনের বিস্ফোরক তৈরিতে বিশেষ পারদর্শী এই নাসিরুল্লাহ দুদশক ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিল। ২০০৯থেকে ২০১৪সাল পর্যন্ত সে ভারতেই ছিলো বলে খবর। নয়া জে এম বি-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার ‘আমীর’ (প্রধান) হিসেবে সেরাজ্যে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটির প্রসারে উদ্যোগ নিয়েছিলো নাসিরুল্লাহ। এদিন সাংবাদিকদের কাছে মনিরুজ্জামান জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে যেসব তথ্য মিলেছে সেসম্পর্কেই কলকাতা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস দমনের অভিজ্ঞতা নিয়েও দুতরফে মতবিনিময় হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ৩আধিকারিক আরো কয়েকদিন বাংলাদেশে থাকবেন। এর মধ্যেই একই কারণে সোমবার ঢাকায় আসছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এন আই এ)-র একটি দল।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২রা অক্টোবরে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকেই নাসিরুল্লাহকে খুঁজছিলো ভারতের এন আই এ। তার খোঁজ দেওয়া হলে ১০লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছিলো ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে মজুত বিস্ফোরক ফেটে ২জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারপরেই সেই ঘটনায় সন্ত্রাসবাদী যোগ এবং সোহেল ওরফে নাসিরুল্লাহের ভূমিকা জানতে পারে ভারতীয় তদন্ত সংস্থা। অন্যদিকে, ২০১৬সালের ১লা জুলাই ঢাকার অভিজাত গুলশন এলাকায় হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলারও অন্যতম প্রধান চক্রী ছিল এই নাসিরুল্লাহ। সেই হামলায় ১৭জন বিদেশিসহ মোট ২০জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। নিহত বিদেশিদের মধ্যে ছিলেন ৯জন ইতালীয়, ৭জন জাপানি এবং একজন ভারতীয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে সেদিন সন্ত্রাসবাদীদের গ্রেনেডে ২জন পুলিশ অফিসারও মারা গিয়েছিলেন।

এদিকে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাত একটা নাগাদ সাভার এলাকায় একটি টিনের বাড়িতে হানা দেয় বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। ঐ বাড়িতে নয়া জে এম বি-র কয়েকজন সন্ত্রাসবাদী লুকিয়ে রয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর ছিল। বাড়ির চারদিক ঘিরে ফেলে মাইকে সন্ত্রাসবাদীদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হলে তারা পালটা গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিতেই জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। এক ঘণ্টা পরে শেষপর্যন্ত পরাভূত হয়ে একে একে বাড়ির বাইরে এসে আত্মসমর্পণ করে ৪জন সন্ত্রাসবাদী। বাড়িটির মালিক জনৈক ইব্রাহিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নয়া জে এম বি-র সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আই এস আই এসের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়।