রায়গঞ্জে আদিবাসী মহিলাদের
ধর্ষণের ঘটনায় ধৃত আরও তিন

নিজস্ব সংবাদদাতা

রায়গঞ্জ, ১৭ জুলাই — গত রবিবার রায়গঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ডে আদিবাসী মহিলাদের গণধর্ষণ করে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় গত দুদিনে আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

গত ৯ জুলাই রবিবার রায়গঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ডের বিশ্রামাগারে কয়েকজন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দুই নাবালিকা যুবতী,এক শিক্ষিকাসহ চার আদিবাসী মহিলার উপর গণধর্ষণ করে এবং এরপর পাশবিক অত্যাচার করে। ঘটনার দিন রাতেই অভিযুক্ত নবীন শীল, উৎপল চাকি ও শুভম প্রসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপরই আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ ও অত্যাচারের প্রতিবাদে আদিবাসীদের পাঁচটি সংগঠন এক হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। সেই মিছিল থেকে ক্ষুদ্ধ আদিবাসীরা দুষ্কৃতীদের মূল ডেরা শাসকদলের শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস ভাঙচুর করে । বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে কয়েক দফায় ডেপুটেশন দেওয়া হয়। কতিপয় পুলিশ অফিসার ও পুলিশকর্মীদের মদতে দুষ্কৃতীদের বাড়বারন্ত বলে স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী, অটো, ট্যাক্সি চালকদের অভিযোগ। আদিবাসীদের আন্দোলনের সাথে ঢুকে পরা কিছু লোক বাসস্ট্যান্ডে আগুন লাগিয়ে দেয়। পাশাপাশি একটি পানশালা ভাঙচুর হয়। একাধিক দোকান, মোটরবাইক ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

এরপর নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে রায়গঞ্জের ব্যবসায়ী সংগঠন দুদিন রায়গঞ্জ বন্‌ধের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। শুক্রবার দুপুরে শহরের মোহনবাটিতে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশসুপারকেও। 

রবিবার প্রকৃত ধর্ষণকারী পাঁচজনের কঠোর শাস্তির দাবি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়ে সি পি আই (এম) মিছিল করে। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই ছন্দে ফেরে রায়গঞ্জ শহর। সোমবার থেকে শহরের দোকানপাট স্বাভাবিক হয়েছে।

এদিকে সোমবার পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ১৬ জুলাই পান্না সরকার ওরফে রাজু নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পর সোমবার ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশসুপার অমিতকুমার ভরতরাঠোর বলেন, রায়গঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবে না।