মাথাভাঙা হাসপাতালে একবছর
ধরে বন্ধ সুলভ মূল্যের
ওষুধের দোকান

নিজস্ব সংবাদদাতা

মাথাভাঙা, ১৭ই জুলাই— মুখ্যমন্ত্রীর সাধের সুলভ ওষুধের দোকানের ঝাঁপ মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে প্রায় এক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। ফের কবে খুলবে সুলভ ওষুধের দোকান তার উত্তর জানা নেই মহকুমা হাসপাতালের সুপারেরও।

রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ মাথাভাঙার বিধায়ক। তিনিই মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির মাথা। সুলভ ওষুধের দোকান খোলানোর কোন উদ্যোগ নেই স্বয়ং মন্ত্রীরও। সুলভ মূল্যের ওষুধের ঝাঁপ বন্ধ দোকানের সামনে এখন দাঁড়িয়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্স।

চিকিৎসারাও আর পেশক্রিপশনে কোন জেনেরিক ওষুধ লিখছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে রোগীর পরিবারের।

মহকুমা হাসপাতালে খোঁজখবর করতেই জানা গেল গতবছর ১৬ই আগস্ট থেকে সুলভ মূল্যের ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্যকর্মী জানালেন, উদ্বোধনের পর থেকেই ধুঁকছিল এই সুলভ মূল্যের ওষুধের দোকান। রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে পারছিল না মালিক। অবশেষে একপ্রকার বাধ্য হয়েই বন্ডের টাকা ছেড়ে দিয়ে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক।

কিন্তু দোকান বন্ধ হয়ে যাবার প্রায় একবছর পরও রোগী কল্যাণ সমিতির ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন রোগী কল্যাণ সমিতি কার্যত ছিল না। ফলে টেন্ডারের মাধ্যমে যে ব্যক্তি দোকান খুলেছিলেন তার সমস্যা শোনার কেউই ছিল না। দিনের পর দিন লোকসানে চলা সুলভ মূল্যের ওষুধের দোকান অবশেষে বন্ধ হয়ে যায়।

হাসপাতাল সুপার ডাঃ দেবদ্বীপ ঘোষ জানিয়েছেন। শুধু মাথাভাঙাই নয়, রাজ্যের সোনামুখী ও মালবাজারেও সুলভ মূল্যের ওষুধের দোকান এখন বন্ধ। মাথাভাঙার দোকানটি লিজ নেবার জন্য রিটেন্ডারে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সমস্যার জন্য দোকান খোলা যাচ্ছে না।

বনমন্ত্রীর দাবি, খুব শীঘ্রই ফের চালু হবে ওষুধের দোকান। মন্ত্রীর আশ্বাসে কোন আস্থা রাখতে পারছেন না রোগীর বাড়ির লোকজনরা। প্রেসক্রিপশন হাতে তাঁরা ছুটছেন চড়া দামে ওষুধ কিনতে।

Featured Posts

Advertisement