কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে
খেতমজুরদের মজুরি বাড়াতে
হবে: অমিয় পাত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা

চণ্ডীতলা, ১৭ই জুলাই— মজুরি বৃদ্ধি, কাজের দাবি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ ও কৃষকের ফসলের লাভজনক দামের লড়াই ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে। পেটের খিদের কোনো জাত, ধর্ম নেই। ক্ষুধার্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করাই আমাদের কাজ। শ্রেণি আন্দোলনই এই বিভাজন দূর করতে পারে। সোমবার চণ্ডীতলার পায়রাগাছায় অবস্থিত মালক্ষ্মী প্যালেসে সারা ভারত খেতমজুর ইউনিয়নের হুগলী জেলা খেতমজুর কনভেনশনের উদ্বোধনী ভাষণে একথাগুলি বলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অমিয় পাত্র। শহীদ স্মরণে এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন যথাক্রমে বিনয় দত্ত ও বন্যা টুডু।

অমিয় পাত্র বলেন, খেতমজুর নেতৃত্বকে গ্রামের গরিব মানুষের মধ্যে যাতায়াত বাড়াতে হবে। তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। যা তাদের দাবি পূরণে সাহায্য করবে। ‍‌তিনি বলেন এখানে কোনো পন্থী থাকবে না। ভেদাভেদ থাকবে না। হুগলী জেলায় আগামী ২৩শে জুলাই রবিবার প্রতীকী খেতমজুর ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল করে তুলতে হবে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ছে। এই অবস্থার মধ্যে খেতমজুরদেরও সংসার চালাতে হয়। তাই আপনারা কৃষকের সঙ্গে কথা বলুন। বলুন, আমাদের মজুরি বাড়ান। আপনারা লড়াইয়ের পাশে থেকে আমরাও লড়াই করবো। কৃষকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য খেতমজুর আন্দোলন নয়। কৃষক বাঁচলে খেতমজুর বাঁচবে। আলু-ধান-পাট-সবজি চাষ করে দাম পাচ্ছে না কৃষক। তাই তারা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তাই যৌথ লড়াই করতে হবে।

তিনি বলেন, রেগা প্রকল্পে ৩০০ টাকা মজুরি এবং ২০০ দিনের কাজ, সকলের জন্য ডিজিটাল কার্ড, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সব খেতমজুরকে ৩ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়ার দাবিতে লড়াই জোরদার করতে হচ্ছে।

সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন জেলা সম্পাদক রামকৃষ্ণ রায়চৌধুরি। জেলার ১৭টি থানা। ব্লক থেকে ‍ মোট ২৭৫ জন খেতমজুর প্রতিনিধি উপস্থিত ‍ ছিলেন। ১৭ জন আলোচনা করেন। বক্তব্য রাখেন হুগলী জেলা কৃষক সমিতির সম্পাদক ভক্তরাম পান, সি আই টি ইউ জেলা সভাপতি শান্তশ্রী চ্যাটার্জি ও মহিলা নেত্রী সুজাতা বিশ্বাস। কনভেনশন পরিচালনা করেন বিনয় দত্ত, বন্যা টুডু, হালিম সরকার ও গৌর জানা।