রাজস্থানে কারফিউ কৃষকদের
কিষান মুক্তি যাত্রায়
আজ সমাবেশ দিল্লিতে

সংবাদসংস্থা

জয়পুর, ১৭ই জুলাই- সাত রাজ্য ঘুরে মঙ্গলবার দিল্লিতে আসছে ‘কিষান মুক্তি যাত্রা’। মঙ্গলবারই দিল্লিতে সংসদভবনের অদূরে যন্তর-মন্তরে হচ্ছে সমাবেশ। দিল্লি সংলগ্ন রাজ্যগুলির কৃষকরা যোগ দেবেন সারা ভারত কিষানসভা সহ বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের এই যৌথ প্রতিবাদে। সোমবার মুক্তি যাত্রার স্লোগানে গলা মিলিয়ে রাজস্থানে কারফিউ জারি করলেন কৃষকরা। দুদিন ধরে বন্ধ রাখলেন আনাজ, ফল, শস্য এমনকি দুধের সরবরাহ। তার সঙ্গে, সোমবার, গ্রামে গ্রামে চললো ‘চাক্কা জ্যাম’।

‘কিষান মুক্তি যাত্রা’ শুরু হয় মধ্য প্রদেশের মন্দসৌর থেকে, ৬ই জুলাই। তার ঠিক একমাস আগে এই মন্দসৌরের পিপলিয়া মান্ডিতে বি জে পি সরকারের পুলিশ গুলি চালায় বিক্ষোভরত কৃষকদের ওপর। নিহত হন ৬জন কৃষক। নিহত কানহাইয়ালাল পতিদার, প্রেম সিং-দের গ্রাম থেকে মাটি সংগ্রহ করেছেন কৃষক নেতারা। ‘কিষান মুক্তি যাত্রা’ লড়াইয়ের বার্তা বয়ে মাটি নিয়ে আসছে দিল্লিতে। যাত্রায় অংশ নেন কিষানসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা, বাদল সরোজ, যশবিন্দর সিংয়ের পাশাপাশি সমাজকর্মী মেধা পাটেকর, স্বরাজ অভিযানের নেতা যোগেন্দ্র যাদব সহ বিভিন্ন অংশের কৃষক নেতারা। মধ্য প্রদেশের পর মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ হয়ে সোমবার হরিয়ানার পলওয়লে আসে কিষান যাত্রা। কৃষক সমাবেশ হয়েছে পলওয়লে। গুজরাটের মেহসানায় কৃষকদের আন্দোলনে সংহতি জানান দলিত আন্দোলনের নেতা জিগনেশ মেভানি। দিল্লিতে সমাবেশের পর ফের চলবে যাত্রা। ২রা অক্টোবর বিহারের চম্পারণে হবে সমাবেশ।

রাজ্য এবং কেন্দ্রের বি জে পি সরকারকে ধাক্কা দিতে সরাসরি প্রতিরোধের এই পথই বেছে নিলেন রাজস্থানের কৃষকরা। রাজ্যের গ্রামাঞ্চল ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছে ‘কিষান কারফিউ’-তে, জানিয়েছেন সারা ভারত কিষানসভার রাজ্য সম্পাদক ছগনলাল চৌধুরি।

সারা দেশেই ‘কিষান মুক্তি যাত্রা’ সংগঠিত করছে সারা ভারত কিষান সভা। মঙ্গলবার সমাবেশ দিল্লিতে। রাজস্থানের কৃষকরাও যোগ দিতে যাচ্ছেন দিল্লিতে। ছগনলাল চৌধুরি সোমবার জানিয়েছেন, শ্রীগঙ্গানগর-হনুমানগড় থেকে চুরু বা শিকারের মতে একের পর এক জেলায় প্রায় ৩১৪টি জায়গায় বিক্ষোভ অবস্থান করেছেন কৃষকরা। রাজ্যে ২২শে জুলাই ফের হবে প্রতিবাদ। ওই দিন রাজ্যে আসছেন বি জে পি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।

সারা দেশের মতো রাজস্থানের কৃষকরাও ঋণ মকুবের দাবি জানিয়েছেন। কিষানসভা বলেছে, মধ্য প্রদেশ বা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে বি জে পি। তীব্র কৃষক আন্দোলনের জেরে এই রাজ্যগুলিতে কৃষি ঋণ মকুব হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কর্ণাটক এবং তামিলনাডুর মতো রাজ্যেও। তাহলে রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সরকার কেন ব্যবস্থা নেবে না। একইসঙ্গে ফসলের ন্যায্য সহায়ক মূল্য ঘোষণারও দাবি জানানো হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে আগে এই প্রশ্নে স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বি জে পি। কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল ফসলের খরচের সঙ্গে আরো ৫০শতাংশ যোগ করে সহায়ক মূল্য চালু করা দরকার। বাস্তবে, চালু সহায়ক মূল্যে চাষের খরচ উঠছে না।

কৃষকদের দাবিতে রাজস্থানের বিভিন্ন প্রান্তেই হয়েছে প্রচার। এদিন আন্দোলনের তীব্রতা বেশি ছিল শিকার বা হনুমানগড়ের মতো বামপন্থী কৃষক আন্দোলনের শক্তিশালী কেন্দ্রে। তবে, রাজ্যের আরো বহু প্রান্তেই অভিঘাত ছড়িয়েছে। প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে পশু বিক্রি বন্ধে কেন্দ্রের ফতোয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও। মাংসের জন্য পশু বিক্রি বন্ধে চালু আইনের বিধি বদলায় কেন্দ্র। গবাদি পশু বিক্রি বন্ধ হয়। তার সঙ্গে গোরক্ষার নামে বাড়তে থাকে সংখ্যালঘু অংশের মানুষের ওপর হামলার ঘটনা। কিষান কারফিউ-তে বিভিন্ন প্রান্তে জমায়েত-বিক্ষোভে এই বিধি তুলে নেওয়ার দাবি উঠেছে সোচ্চারে। যদিও, সাময়িকভাবে কেন্দ্রের এই ফতোয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজস্থানের রাস্তায় নেমে পড়েন কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যোগ দেন ছাত্র-যুব এবং শ্রমিকরা। যোগ দেন মহিলারা। বেলা ১২ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। শিকার জেলাতেই প্রায় একশোটি জায়গায় হয়েছে অবরোধ। হনুমানগড়ে ৪২জায়গায় রাস্তা আটকে দেন কৃষকরা। ঝুনঝুনু, নাগৌর, বিকানের, উদয়পুর, দুঙ্গরপুরের পাশাপাশি রাজধানী জয়পুরের গ্রামীণ এলাকায় কারফিউ জারি করে দেন কৃষকরা। বিক্ষোভ হয়েছে আলোয়ারেও, যে জেলায় দুগ্ধব্যবসায়ী পেহলু খানকে গোরুর জিগিরে খুন করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীরা।

রাজস্থানে প্রতিবাদে কিষানসভার পাশাপাশি শামিল হয়েছে আরো কয়েকটি কৃষক সংগঠন। গড়া হয়েছে ‘কিষান মহাপঞ্চায়েত’। ২২শে জুলাই প্রতিবাদেও যৌথভাবে শামিল হচ্ছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন।