চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, স্কুলের
নিষ্ক্রিয়তায় উত্তেজনা ডাফ স্কুলে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৭ই জুলাই— ডাফ স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ালো স্কুলচত্বরে। সোমবার দফায় দফায় অভিভাবকরা বিক্ষোভে শামিল হলেন পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে। গোটা ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাঠে নামেন মাধ্যমিকস্তরের প্রধান শিক্ষিকা। অভিযুক্ত স্কুলের ইলেট্রিক মিস্ত্রি কার্তিক দাস তৃণমূল কর্মী ও মাধ্যমিকস্তরের প্রধান শিক্ষিকা ঘনিষ্ঠ বলেই জানা গিয়েছে স্কুল সূত্রে।

এক অভিভাবকের অভিযোগ, গত বুধবার চতুর্থ শ্রেণির ৩জন ছাত্রীকে নিচ থেকে ওপরের ঘরে নিয়ে যায় স্কুলের নতুন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কার্তিক দাস। এরপর ওই ৩জনের মধ্যে দুজন পালিয়ে গেলেও একজন পালাতে পারেনি। সেই নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছে কার্তিক দাস বলে অভিযোগ।

স্কুল সূত্রে খবর, এই ঘটনায় প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা মাধ্যমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষিকার কাছে অভিযোগ করেন। বিষয়টি কিছু না বলে প্রথমে উড়িয়ে দেন তিনি। পরে নিয়ম ভেঙেই মাধ্যমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা আচমকা চতুর্থ শ্রেণিতে গিয়ে ছাত্রীদের বলেন, আমি ওই ৩জনকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম তাই ওরা ওপরে উঠেছিল। কেন তাঁকে না বলে মাধ্যমিকস্তরের প্রধান শিক্ষিকা এভাবে ক্লাসে বলতে এলেন এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষিকা। এরপর আক্রান্ত মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে খবরটি অভিভাবকদের মধ্যে ছড়ায়। আরো জানা গিয়েছে, তৃণমূল কর্মী কার্তিক দাস মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষিকার ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই স্কুলের অভ্যন্তরে অবাধে যাতায়াত করতো। কোনও বাধা নিষেধ মানতে না বলেই অভিযোগ। যাঁরা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী তাঁরাও স্কুলের সর্বত্র যেতে পারেন না, অনেক বাধা নিষেধ আছে। কিন্তু ওই নতুন মিস্ত্রি কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করতো না বলেই জানা গিয়েছে। এদিন আগে থেকেই সে চলে এসে এমন ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় মাধ্যমিক স্তরের প্রধান শিক্ষিকা দাবি করেন, ‘ধর্ষণের মতো এমন কোনো রকমের ঘটনা ঘটেনি। একটি মেয়ে ক্লাস করছে এবং অপরজন টনসিল হওয়াতে ছুটিতে আছে। ওই দিন কার্তিক দাস ছাত্রীদের মজা করে বলে ওপরে বড়দি ডাকছেন তোমাদের। তিন ছাত্রী আমার কাছে এলে আমি বলি, কই আমি ডাকিনি। তারপর বেরিয়ে গেলে কার্তিক দাস বলে মজা করলাম। আমার সামনেই হয় গোটাটা। তারপর ওরা চলে যায়।’

তবে এদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় অভিভাবকদের বিক্ষোভে উত্তাল হয় ডাফ স্কুল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনা স্থানীয় বিধায়ক শশী পাঁজার কানে পৌঁছালে অভিভাবকদের বিক্ষোভ ঠেকাতে থানা থেকে পুলিশ পাঠানোর আবেদন করেন। ঘটনাস্থলে শ্যামপুকুর থানার পুলিশ এসে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের তরফে এবিষয়টি গুজব বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় কার্যত পড়ুয়াদের স্কুলের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মনে।

এক অভিভাবক দাবি করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার আক্রান্তের বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বর দেওয়ার দাবি জানাই। মেয়েটি কেমন আছে? তাঁর শারীরিক অবস্থাই বা কী সমস্তটা জানার জন্য তবে কর্তৃপক্ষ রাজি হননি।