শিলিগুড়ির মেয়রকে হুমকি তৃণমূলের
ভস্মীভূত বিজনবাড়ির বিদ্যুৎ দপ্তরের বাংলো

নিজস্ব সংবাদদাতা

শিলিগুড়ি ১৭ই জুলাই —পাহাড়ের পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনের জেরে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিজনবাড়ির বিদ্যুৎ দপ্তরের বাংলো। সোমবার সকালে বিজনবাড়ি বিদ্যুৎ দপ্তরের বাংলোয় কয়েকজন আন্দোলনকারী পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে বলে অভিযোগ। আগুনে বাংলোটি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়াও এদিন মিরিকের একটি পুলিশ বুথেও আগুন লাগানো হয়েছে। এরপরে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী। মোর্চা সমর্থকদের বিরুদ্ধেই এই সব অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

এদিন গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনের পক্ষে এবং রাজ্য সরকারের দমননীতির প্রতিবাদে কার্শিয়াঙের দুই শিক্ষক রাজ্য সরকারের পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। কার্শিয়াঙের লিলি প্রধান ২০১২ সালে এবং প্রমীলা প্রধান ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষারত্ন খেতাব পেয়েছিলেন। এদিন তাঁরা দুজনেই পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এর আগেও পাহাড়ের কয়েকজন নেপালীভাষী শিল্পী ও সাহিত্যিক রাজ্য সরকারের দেওয়া পুরস্কার ফেরানোর ঘোষণা করেছেন।

এদিকে, শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার তৃণমূলের পক্ষ থেকে মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পাহাড়ের মানুষকে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, মেয়রের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করবো। মামলার হুমকি প্রসঙ্গে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস দলের নেতাদের সাহস থাকলে মামলা দায়ের করুন। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় পর পর দু’দিন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জারি করা নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যতদিন পাহাড়ে আন্দোলন চলবে, ততদিন পাহাড়ে কোনো রেশন পাঠানো হবে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও এবিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী অবগত করেছেন বলে জানিয়েছেন। তারপরেই সমতলের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ নামিয়ে খাদ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশিকা কার্যকরী করা হচ্ছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে সরাসরিভাবে পাহাড়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের সামনেই গাড়ি লুট হচ্ছে। খাদ্য সামগ্রী বোঝাই করা গাড়ি যাতে পাহাড়ে না পৌঁছাতে পারে তারজন্য চেকিং চলছে। এসব ঘটনা কি মুখ্যমন্ত্রী অস্বীকার করতে পারবেন?

তিনি আরও বলেন, ২০১১সালে কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও মোর্চা নেতা বিমল গুরুঙ এর উপস্থিতিতে যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি করে জি টি এ গঠন করা হয় সেখানে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি বজায় রাখা হলো। মুখ্যমন্ত্রী সেই চুক্তিপত্রে সই করে স্বীকৃতি দিয়েছেন গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে। কাজেই এখনকার অগ্নিগর্ভ পাহাড় পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তার দায় এড়াতে পারেন না। ভাষার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি ঘোষণা করে নিজেই আন্দোলনকারীদের প্ররোচনা দিয়েছেন। তিনিই জি টি এ-র এক্তিয়ারকে অস্বীকার করে ১৫টি পৃথক বোর্ড গঠন করেছেন। এতে পাহাড়বাসীর ক্ষোভ বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যদি জি টি এ-কে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতেন তাহলে আজকে পাহাড়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এখন রাজ্য সরকারের উচিত বিদ্বেষের মানসিকতা দূরে সরিয়ে রেখে অবিলম্বে পাহাড় সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এদিনই শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস্‌ ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে ইউ টি ইউ সি-র রাজ্য সম্পাদক অশোক ঘোষ বলেন, আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিপক্ষে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস দলই পাহাড়ে তাদের সংগঠনকে প্রসারিত করতে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এখন এই আন্দোলনের মাধ্যমে জাতি বিভাজনের বিপদকে সমতলেও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, রবিবার ঘোঘোমালি হাইস্কুলে ইউ টি ইউ সি-র রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ১৮টি জেলার চটকল, চা, বিড়ি শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পের শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চা শিল্পের সমস্যা, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা, সমকাজে সমবেতন, ন্যূনতম মজুরি সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে এসেছে। পাহাড়ে অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিঃশর্ত আলোচনা শুরু করার দাবি করেন তিনি।

Featured Posts

Advertisement