মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গকে
কোন অচলায়তনের পথে নিয়ে চলেছেন?

অশোক ভট্টাচার্য

এরাজ্যে আগুন জ্বলছে সমতলে বসিরহাট থেকে দার্জিলিঙের পাহাড়ে। শাসক দলের উসকানি, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতার ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। তৃণমূলের নীতিহীনতার সুযোগ নিয়ে আগুন জ্বালছে সাম্প্রদায়িক বি জে পি। কোন পথে পশ্চিমবঙ্গ? তারই বিশ্লেষণ করেছেন লেখক।

এর আগে একটি লেখায় আমি লিখেছিলাম, ‘জ্বলছে আগুন দার্জিলিঙে’। কিন্তু আজ আগুন জ্বলছে শুধু দার্জিলিঙে নয়, সারা বাংলাতেই। জঙ্গলে প্রাকৃতিক কারণে যেভাবে আগুন জ্বলে বা কোনও বাড়িতে অসাবধানতা থেকে যেভাবে আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় কোনও সম্পত্তি, তেমন নয়। এই আগুন লাগানো হচ্ছে খুব পরিকল্পনা করে। এরজন্য সরাসরি দায়ী এরাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আর যারা দেশ চালাচ্ছে সেই শাসক বি জে পি। কোনও ক্ষেত্রেই এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেউই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। আগুন জ্বলার বা জ্বালাবার মতো কিছু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হয়। এই দুটি দল খুব পরিকল্পিতভাবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে পরিকল্পিতভাবে আগুন জ্বালাবার পরিবেশ সৃষ্টি করে চলেছে, রাজ্যে এবং এদেশে। বি জে পি-র এক নেতা তো বলেই ফেলেছেন তাদের উপরে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা আছে তৃণমূল কংগ্রেস দল তথা মুখ্যমন্ত্রীরই।

এরা আগুন লাগিয়ে একে অপরের রাজনৈতিক সুবিধা সৃষ্টি করে দিতেই ব্যস্ত। কিন্তু রাজ্যের মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত চরমভাবে। এসবের দ্বারা শুধু অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত নয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি, রোজগার, চিকিৎসা সব কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে মানুষের সবচাইতে বেশি যা প্রয়োজন শান্তি, সেই শান্তির পরিবেশ মানুষের মন থেকে উধাও হতে চলেছে। রাজ্য তথা দেশের মানুষের মধ্য থেকে মূল্যবোধের অবক্ষয়ও দেখা দিচ্ছে।

(২)

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এরাজ্যে সরকারে আসবার আগে থেকেই এমন কিছু রাজনীতিকে, কিছু সংকীর্ণ ভোটের ফায়দা তোলার লক্ষ্যে উৎসাহিত করেছিলেন, সরকারে আসবার পর একেই তারা একটি নীতি হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন যারই পরিণতি দার্জিলিঙের আগুন, রাজ্যের জেলায় জেলায় আগুন। কোথাও শুরু করা হয়েছে জাতি বিদ্বেষের রাজনীতি, কোথাও বা ধর্ম বিদ্বেষের। আর একেই উৎসাহিত করে চলেছে এরাজ্যের শাসকদল, সরকার আর পুলিশ প্রশাসন। বি জে পি এ সমস্ত প্রশ্নে জোগান দেয় কিছু ধর্মান্ধতা, জাতপাত, বিদ্বেষের রাজনীতিকে, কিছু বিকৃত ও ভুল মতাদর্শ, ইতিহাস, সংস্কৃতিকে সামনে রেখে। বি জে পি-র উত্থান কোনও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা দেশের অগ্রগতিকে সামনে রেখে নয়, তাদের সাফল্যের মূল‍‌ ভিত্তি সাম্প্রদায়িকতা, হিন্দুত্ব ও মৌলবাদ। তাদের এই কাজকে এরাজ্যে আরও সহজ করে যে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস দল, তা বলাইবাহুল্য।

১৯৯৮ সালে বি জে পি-র হাত ধরেই এরাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল। তার সুবাদেই বি জে পি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারে নেত্রীর যোগদান। আজ তারই গুরুদক্ষিণা দিয়ে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সেই নেত্রী, আজকে রাজ্যের যিনি মুখ্যমন্ত্রী।

আমরা এ জিনিস দেখছি দার্জিলিঙের পাহাড়ে, সমতলে, ডুয়ার্সে, কোচবিহারে, বসিরহাটে, বাদুড়িয়া থেকে জেলায় জেলায়। আর এই কাজে তাদের হয়ে প্রচারের বাজনা বাজাবার দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্যের দুধরনের মিডিয়াই। অবশ্যই তারজন্যে আছে কিছু বিনিময়। সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু এই দুই মৌলবাদী শক্তির মেরুকরণের রাজনীতিকেই তারা মদত দিয়ে চলেছে। নীতি, আদর্শ, বাস্তবতা, সততার কোনও ধার তারা ধারতে নারাজ।

(৩)

দার্জিলিঙে একের পর এক গুলি চালনার ঘটনা ঘটে চলেছে পুলিশের দ্বারা। গত একমাসের মধ্যে প্রথমে পুলিশের গুলিতে তিনজনের মৃত্যু, তারপর গতকাল (৮ই জুলাই) আরও চারজনের মৃত্যু। যাদেরকে গুলি করে হত্যা করল পুলিশ, তারা বয়সে সবাই তরুণ। তারা কেউই দেশদ্রোহী নয়, তারা রাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে যেতে চায়নি। তাদের পথ ভুল, তাদের দাবিও যুক্তিযুক্ত নয়, নয় কাম্য বা আদায়যোগ্যও। এসব দাবি কখনই সমর্থনযোগ্যও নয়। কিন্তু এসব নিয়ে তাদের মধ্যে আবেগ আছে, সন্দেহ নেই। জি টি এ-র মাধ্যমে দার্জিলিঙে আরও উন্নয়ন হোক, পাহাড়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোগত বিকাশ হোক, গোর্খা জাতিসত্তা বিকশিত হোক এটাই চেয়েছিল বামপন্থীরা। এরজন্য প্রয়োজন অনেক ধৈর্য, সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। বামপন্থীরা তা দেখাতে পেরেছিল বলেই প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত দার্জিলিঙ গোর্খা পার্বত্য পরিষদকে দার্জিলিঙ পাহাড় এলাকায় বহাল রাখতে পেরেছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকার জানতো ডি জি এইচ সি ব্যর্থ হলেই পৃথক রাজ্যের দাবি সামনে চলে আসবে। বামফ্রন্ট সরকার সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছিল। জি টি এ-র ক্ষেত্রেও ছিল একই প্রশ্ন। মাত্র ১ বছর পর থেকেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ধৈর্য রাখতে পারলেন না। রাজ্যের সব কিছু তার দখল হয়ে গেছে। এখন তাঁর চাই দার্জিলিঙ। মোর্চাকে মুখ্যমন্ত্রীই ঠেলে দিলেন পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলনের পথে। শুরু হলো গুলি, লাঠি, গ্রেপ্তার, আগুন, অবরোধ আর অশান্তি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের গুলি চালনায় ৬ জন তরুণের মৃত্যু। আগুনে ভস্মীভূত বহু সরকারিদপ্তর, বিপর্যস্ত জীবনযাত্রা, বিপর্যস্ত অর্থনীতি।

(৪)

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর যখন উচিত ছিল উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে দিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকবার ব্যবস্থা করার, যখন তাঁর উচিত ছিল পুলিশকে সংযত হবার নির্দেশ দেওয়া, পাহাড় সম্পর্কে যথাসম্ভব সংবেদনশীলভাবে মন্তব্য করার, তখন তিনি তার দলের সমতলের নেতৃত্বকে নির্দেশ দিলেন, সমতলে জাতি বিদ্বেষের প্রচার তুঙ্গে তুলে বাঙালি জাত্যভিমানের স্লোগান তুলে সমতলে পালটা এক জাতিবাদী বা জাতিবিদ্বেষী আন্দোলন সংগঠিত করার। পর পর দুটি এমন ধরনের মিছিল হলো শিলিগুড়িসহ সমতলের বিভিন্ন স্থানে। মুখে অরাজনৈতিকতার কথা বলে কার্যত তৃণমূল কংগ্রেস দল চেয়েছিল এর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে। এরই সাথে শুরু হলো সমতল থেকে যাতে খাদ্য, রেশন, ওষুধ, রান্নার গ্যাস ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পাহাড়ে যেতে না পারে, তার সরকারিভাবে নির্দেশ দিয়ে গেলেন স্বয়ং রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী, শিলিগুড়িতে এক সরকারি সভা করে। তাঁরই নির্দেশ পালন করছে এখন শিলিগুড়ির পুলিশ প্রশাসনও। তারা পাহাড় বা পাহাড় সংলগ্ন নেপালি ভাষী বা গোর্খা অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সমস্ত ধরনের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বা খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এই মুহূর্তে পাহাড়ের পরিস্থিতি কাউরই নিয়ন্ত্রণে নেই, না মোর্চার, না সরকারের। যতটা না তারা গোর্খাল্যান্ডের দাবির স্লোগান তুলছে, তার থেকে অনেক বেশি তাদের রাগ, ক্ষোভ ও অসন্তোষ, রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস দল নেত্রী ও সরকারের উপর। আর কেন্দ্রীয় সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তারাও ঘোলা জলে মাছ ধরার অপেক্ষায় আছে। ২০১৪ সালে পাহাড়ের মানুষ জিতিয়েছিলেন বি জে পি-র সাংসদ হিসাবে এস এস আলুওয়ালিয়াকে। আজ তার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।

(৫)

ঠিক এরকম একটি সময়ে সবচাইতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বামপন্থীরা। তৃণমূল কংগ্রেস, বি জে পি-র জাতি আর ধর্ম বিদ্বেষী ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে, এক‍‌টি নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে, আবেগে ভেসে না গিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের পক্ষে রাস্তায় থাকছে বামপন্থীরাই। পাড়ায় পাড়ায় গ্রামে গ্রামে চা বাগানে সর্বত্র তারা এই পরিস্থিতিতে বামপন্থীদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সভা করে, পথসভা করে চলেছে। তারা চোখের মণির মতো রক্ষা করে চলেছে নেপালি, আদিবাসী, বাঙালি, রাজবংশী সম্প্রদায়ের চা বাগান শ্রমিকদের ঐক্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা রয়েছে আন্দোলনের মধ্যে। বি জে পি আর তৃণমূল কংগ্রেস দল জাতি-উপজাতির নামে সেই ঐক্যকে ভাঙার অনেক ষড়যন্ত্র করে চলেছে। বামপন্থীরা সেই ঐক্য রক্ষার্থে পালন করছে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা। শীঘ্রই পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সের চা শ্রমিকরা শুরু করতে চলেছেন আরও বড় আন্দোলন।

(৬)

দার্জিলিঙ জেলার পাহাড় ও সমতলের মানুষ এই মুহূর্তে চান শান্তি, ঐক্য আর সম্প্রীতি। আর তারজন্য চাই ত্রিপাক্ষিক আলোচনা। চান গুলি চালনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত। বন্ধ করা প্রয়োজন দমন পীড়নের নীতি। তারা চান রাজ্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে সিকিমসহ পাহাড়ের সর্বত্র খাদ্য পৌঁছাবার দায়িত্ব গ্রহণ করুক। মোর্চা বা আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলনের পথের পুনর্বিবেচনা করুক। হিংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে সরে আসুক। সামগ্রিকভাবে আলোচনার উপযোগী একটি পরিবেশ সৃষ্টি হোক। শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্যের জন্য বামপন্থীরা প্রস্তুত যেকোনও ত্যাগ স্বীকারে।

আমরা জানি ভারতের মতো একটি দেশে রয়েছে বহু ধর্ম, আর অজস্র জাতি, উপজাতি, ভাষা, উপভাষার মানুষ। সেই কারণেই ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মনিরপেক্ষতা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী মানে কোনও ধর্মাচরণের বিরোধী নয়। কিন্তু ধর্মকে রাজনী‍‌তি ও রাষ্ট্রের সাথে জড়িত করার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম নেই। ভাষার ভিত্তিতে গঠিত রাজ্যগুলিকে বিভক্ত করে ছোট ছোট রাজ্য গঠনের নীতিগতভাবে বিরোধী বামপন্থীরা। বামপন্থীরা চায় রাজ্যগুলি বিভিন্ন দিক দিয়ে আরও ক্ষমতায়িত হোক, শক্তিশালী হোক। ধর্মের প্রশ্নে বা জাতি, উপজাতি, ভাষার প্রশ্নে অনেক মানুষের মধ্যে আছে কিছু আবেগ। এই আবেগের প্রতি আঘাত না করেও আবেগতাড়িত হয়ে ধর্মে ধর্মে বা জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ ছড়াবার বিরুদ্ধে বামপন্থীরা বিশ্বাস করে সমস্ত জাতিসত্তার বিকাশের। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতির, উপজাতির। তাদের আর্থ-সামাজিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক বা পরিকাঠামোগত বিকাশের নীতিতে। এই জাতিসত্তার বিকাশ মানে পৃথক হওয়া নয়। আমাদের দেশের বিভিন্ন পাহাড় বা দুর্গম অঞ্চলে বিভিন্ন উপজাতি বা অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া জাতির বসবাস রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই তাদের বিশেষ কিছু সমস্যা রয়েছে, যার সাথে দেশের মূল ভূখণ্ড বা মূল স্রোতের কিছু পার্থক্য আছে। ভারতীয় সংবিধানে এদের আর্থ-সামাজিক বা ভাষাগত বিকাশ ও স্থানীয় প্রশাসনে তারা যাতে আরও বেশি গণতান্ত্রিকভাবে যুক্ত হতে পারে, তারজন্য রয়েছে রাজ্যের মধ্যেই আঞ্চলিক স্বশাসিত পরিষদ গঠনের ব্যবস্থা বা ষষ্ঠ তফসিলি।

(৭)

দার্জিলিঙ পার্বত্য এলাকায় গোর্খা জাতিসত্তার বিকাশ মানে বামপন্থীরা চায় রাজ্যের মধ্যে এরকমই এক ব্যবস্থা। পৃথক রাজ্য নয়। বামপন্থীরা আরও দাবি করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত নেপালি ভাষী মানুষদের ভাষিক সংখ্যালঘু (Linguistic Minority) হিসাবে স্বীকৃতি দেবার। ইতিপূর্বে নেপালি বা অন্যান্য অনেক ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনে বামপন্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতা ও যুক্তরাষ্ট্রীয়তার প্রশ্নে বামপন্থীদের অবস্থানের সাথে এখানেই পার্থক্য বি জে পি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ইত্যাদি বুর্জোয়া দলগুলির অবস্থানের।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বামপন্থীরা যখন সম্প্রীতি ও ঐক্যের পক্ষে প্রচার করে থাকে, তখন তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তা করে থাকে। কোনও আবেগের কাছে আত্মসমর্পণ করে নয়। এ প্রসঙ্গে পাঠকগণ সি পি আই (এম)-র কর্মসূচির ৫ ও ৬নং ধারা দেখে নিতে পারেন।

(৮)

পশ্চিমবঙ্গে আজ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। যে পরিস্থিতি ক্রমেই রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেন এর পেছনে বিদেশি শক্তির হাত আছে, তা নিয়ে তদন্ত করা যেতেই পারে। কিন্তু আপাতত একটি কথা বলা যেতে পারে দার্জিলিঙ বা বসিরহাটে যা হচ্ছে তার প্রধান দায় অবশ্যই বর্তমান রাজ্য সরকারের ও শাসকদলের। একইভাবে মদত রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তথা কেন্দ্রের শাসকদল বি জে পি-র। এই দুইদল রাজনীতিকে ধর্ম ও জাতির নামে মেরুকরণ করতে চাইছে। আর বামপন্থীরা যখন সম্প্রীতি, ঐক্য ও শান্তির কথা বলে বামপন্থীরা তখন তারা মনে করে এই লড়াই সম্ভব নয়, এই দুই দলের নীতির বিরুদ্ধে লড়াই না করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী — পশ্চিমবঙ্গকে আপনি কোন অচলায়তনের পথে নিয়ে যেতে চাইছেন।

Featured Posts

Advertisement