কঠিন বাঁধনেই প্রস্তুতি শুরু
‘কমান্ডার’ খালিদের
অবিনাশকে নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৭ই জুলাই — ঢাকে বোধনের বাজনা ছিলো, পাটভাঙা পাঞ্জাবী ছিলো, রঙ মশাল ছিলো, স্মোক বম্বও ছিলো। আর সঙ্গে ছিলো একটা উৎকণ্ঠা! এবারও হবে তো?

আই লিগটা আসবে তো এবারও? তবে প্রথম দিন খালিদ বুঝিয়ে দিলেন তাঁর কোচিংয়ের মূল বিষয়টাই হলো শৃঙ্খলা। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের সঙ্গে নিয়ে ফিজিক্যাল ট্রেনার গার্সিয়া যখন প্রথম পাক দৌড়টা শুরু করলেন, তখন ঠিক সকাল আটটা। আর গ্যালারির কাছাকাছি আসতেই প্রথম স্লোগানটা উঠলো গার্সিয়ার নামেই। দৌড় না থামিয়েই গার্সিয়ার সেই ‘ট্রেডমার্ক’ টুপি খুলে অভিবাদন। কিন্তু গত তিন বছরে সবুজ মেরুন সংসারে থাকার সময় গার্সিয়ার সেই ট্রেডমার্ক হাসিটা এবার উধাও কেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন।

প্রথম দিন লালহলুদ অনুশীলনে একাধিক চরিত্র। পরিচালক খালিদ প্রথম দিন থেকেই একটি অদৃশ্য সুতোয় সব চরিত্রগুলো একটা ছকে বেঁধে ফেলতে চাইলেন। তবে প্রথম দিন মাঠে আসা ইস্টবেঙ্গল জনতা যেন নিজেদের মনের ভুলেই খুঁজে যাচ্ছিলেন তাঁদের অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষকে। তবে তিনি যেন না থেকেও আছেন। মাঠে আসা বহু সমর্থকের জার্সির পিছনে সোমবারও জ্বলজ্বল করছিলো একটা নাম, ‘মেহতাব হোসেন’। দশ মরশুম পর ক্লাব ছাড়লেন লালহলুদের মিডফিল্ড জেনারেল। তবে খেলার মাঠটা অনেকটা মান্না দে-র গানের কফি হাউসের চেয়ারের মতো। একজন চলে যান, আর একজন আসেন। তাই ইস্টবেঙ্গল মাঠের সেন্টার সার্কেলের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে একের পর এক মাপা বল বাড়াতেন মেহতাব। ঠিক সেখানে দাঁড়িয়েই বল বাড়াচ্ছিলেন রিচার্ড কোস্টা, ইয়ানি লঙভারা।

খালিদের দলে প্রতিটি পজিশনেই নতুন মুখের ভিড়। আর এই নতুনের জয়গানেই এবার সাফল্য আনতে চান খালিদ। আর প্রথম দিন থেকেই সৈয়দ নঈমুদ্দিনের ছাত্রের কোচিংয়ে তাঁর ছায়া। প্রথম দিন বলে ফুটবলারদের কোন ছাড়ই নেই। বরং গোটা অনুশীলনের সিংহভাগ সময় জুড়েই ফুটবলারদের দু’দলে ভাগ করে ম্যাচ খেলালেন খালিদ। কমান্ডার যেন বুঝে নিতে চাইলেন তাঁর সেনাবাহিনীর কার কিরকম অবস্থা। সেটা দেখে নিয়েই যেন শুরু করবেন যুদ্ধের প্রস্তুতি। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে খালিদ জানালেন, ‘আমার দলে একঝাঁক নতুন ফুটবলার। তাই তাদেরকে দেখে নেওয়ার জন্যই প্রস্তুতি ম্যাচ খেললাম। প্রথম দিন অনুশীলনে এতো সমর্থকের ভিড়, সত্যি আমার কাছে নতুন। আপাতত কলকাতা লিগ নিয়েই ভাবতে চাই। যদি আমার মনে হয় তাহলে কয়েকজন ফুটবলার আরও নেবো।’ দিব্যেন্দু সরকার ইস্টবেঙ্গল অনুশীলনে যোগ দিচ্ছেন মঙ্গলবারই। এই সপ্তাহেই যোগ দেবেন লুইস ব্যারেটো। আরও দুই থেকে তিনজন গোলরক্ষক দলে নেওয়া হবে। তবে অবিনাশ রুইদাসের বিষয়ে শেষ দেখতে চাইছেন তারা। সোমবার ইস্টবেঙ্গলের একজন শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন অবিনাশের চুক্তিপত্র আই এফ এ-তে পাঠিয়েছেন। আই এফ এ সচিব উৎপল গাঙ্গুলি এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি সেই চুক্তি ফেডারেশনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে ইংল্যান্ড থেকে খালি হাতে ফিরছেন আলভিটো ডি কুনহা। ফুটবলার পছন্দ হলেও নাকি অর্থের জন্য সেই ফুটবলারদের নিতে পারবে না ইস্টবেঙ্গল। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ফুটবলারদের চুক্তির অর্থ না জেনেই কি এতো অর্থ খরচ করে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন আলভিটো?