শরিফের দুর্নীতি
শুনানি আদালতে

সংবাদসংস্থা

ইসলামাবাদ, ১৭ই জুলাই — পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। এই শুনানির থেকেই ঠিক হবে শরিফ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের হবে কি না। গত সপ্তাহেই পাক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আয়ের থেকে বেশি সম্পদের অভিযোগ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে ২৫৪ পাতার রিপোর্ট জমা দেয় যৌথ তদন্তকারী দল (জে আই টি)।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দাখিল হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আদালতে শরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রভাব বিস্তার করলে বিচারপতি কড়া অবস্থান নিতে পারেন। দুর্নীতির অভিযোগে শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত পর্যন্ত করা হতে পারে। শরিফ অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

শরিফদের বেনিয়ম ফাঁস করে পানামা পেপারস। এতে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। লন্ডনে বহু কোটি টাকার সম্পত্তি শরিফদের। যা অতীতে ১৯৯০’এর দশকে দুদফায় প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিদেশ তৈরি হয়। বর্তমানে যা বেনামে তদারকি করেন শরিফের ছেলেরা। পানামা পেপারসের এহেন খবর ইসলামাবাদের রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় তোলে। দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত হয় বিশেষ যৌথ তদন্তকারী দল (জে আই টি)। দেশের সেনা, অর্থ, আয়কর বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে জে আই টি দুর্নীতির তলের খোঁজে অভিযানে নামে। তদন্তে উঠে আসে শরিফের দুই ছেলে হাসান নওয়াজ এবং হুসেইন নওয়াজ ছাড়াও মেয়ে মারিয়াম প্রভূত সম্পদের অধিকারী। যা তাদের জানা আয়ের উৎসের থেকে অনেক বেশি।

এদিকে দুর্নীতির তদন্তের মুখে শরিফ পরিবার এবং তাঁর দলের থেকে ঘরোয়া ভাবে সেনা এবং বিচার বিভাগের একটি অংশের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেনা এবং বিচার বিভাগের ওই প্রভাবশালী অংশই পাক প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শরিফ (৬৭)’কে সরাতে তৎপর বলেই দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিরোধীরা দুর্নীতির দায়ে কলঙ্কিত শরিফকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। যদিও সেই দাবি বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী।