অসম যুদ্ধ চালিয়ে
‘বীর’ ডাঃ কাফিল

বিশেষ সংবাদদাতা

গোরখপুর, ১২ই আগস্ট- চেষ্টা করেছিলেন, সরকারি উদাসীনতার মুখে একাই লড়াই দিয়েছিলেন। অনেকটা পারেননি, কিছুটা পেরেছেন। গোরখপুরের বাবা রাঘবদাস হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাফিল আহমেদ এক অসম যুদ্ধ চালিয়ে অন্তত ২০ শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। কলঙ্কের ওই হাসপাতালে এখন তিনিই ভরসা, বীরের সম্মান পাচ্ছেন অভিভাবকদের কাছ থেকে।

বৃহস্পতিবার রাতে এনসেফেলাইটিস ওয়ার্ড থেকেই চরম সতর্কবার্তা আসে ডাক্তার কাফিলের কাছেঃ বড়জোর আর ঘন্টাখানেক চলতে পারে অক্সিজেনের রসদে। যদিও হাসপাতালের বড়কর্তা, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাদের জানা ছিল অনেক আগেই। অক্সিজেনের সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থা যে টাকা পায়নি বলে অক্সিজেন দেবে না, তা তারা জানিয়েও দিয়েছিল। মধ্যরাতে জরুরি বার্তার পরে বড়কর্তাদের ফোন করেছিলেন, কিন্তু সাড়া পাননি ডাক্তার কাফিল। এর পর আর ভাবেননি ডাক্তার কাফিল। নিজেই গাড়ি করে বেরোন, তাঁর বন্ধু এক চিকিৎসকের বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে বি আর ডি-র এই চরম সংকটের কথা বলেন। তিনটি সিলিন্ডার জোগাড় করে নিজের গাড়িতেই নিয়ে আসেন হাসপাতালে। তখন রাত তিনটে। একদিকে শিশু রোগীদের দেখছেন, অন্যদিকে অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড়ের জন্য যেখানে পারছেন ফোন করছেন। সারারাত এই ভাবে চলার পরে ভোর সাড়ে সাতটায় ফের স্বাস্থ্য কর্তাদের ফোন করে ব্যর্থ হন ডাক্তার। আবার বেরোন নিজের গাড়ি নিয়ে। শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলি থেকে সিলিন্ডার প্রায় ভিক্ষা করার মতো করে চেয়ে গাড়িতে করে ফের নিয়ে আসেন বি আর ডি-তে। শহরে তাঁর বন্ধু চিকিৎসকরা সাহায্য করায় বেশ কিছু সিলিন্ডার জোগাড় করতেও পারেন ডাক্তার কাফিল। কিছু শিশুর জরুরি প্রয়োজন ছিলো। তারা ওই অক্সিজেনে কাজ চালায়। সংকট তো চলছেই। এই অবস্থায় অন্তত ছ’টি অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থাকে ফোন করে অনুরোধ করেন ডাক্তার। এমনকি ফৈজাবাদের সংস্থাকেও ফোন করেন। টাকা না পেলে কেউ কাজ করতে রাজি না হওয়ায় নিজেরই এ টি এম কার্ড দিয়ে দেন এক কর্মচারীকে। ফাঁকা সিলিন্ডার রিফিল করে আনেন সেই কর্মচারী। ফৈজাবাদ থেকে আসা সংস্থার ট্রাকের ডিজেল-সহ সব খরচাই নিজের পকেট থেকে দেন ডাক্তার কাফিল। নিজের সহকারীদের নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের বাঁচাতে চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টাও করেছেন তিনি। তখনও স্বাস্থ্যকর্তারা ঘুমোচ্ছেন। হাসপাতালের মুখ্য মেডিক্যাল অফিসার শুক্রবারও এত শিশুর মৃত্যুর খবর স্বীকার করেননি। সক্রিয়তার বদলে মৃত শিশুদের অভিভাবকদের কোনওক্রমে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে হটাতেই ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

অভিভাবকরা বলছেন, ডাক্তার কাফিলের জন্য বেঁচে গেছে অনেকের সন্তান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য উত্তর প্রদেশের মুসলিমরা যথেষ্ট ‘দেশপ্রেমিক’ কিনা, তার এক পরীক্ষা নেবার আয়োজনেই ব্যস্ত ছিলেন শনিবারও। নিজের সংসদীয় কেন্দ্র গোরখপুরেও আসার সময় পাননি।