খুচরো নিয়ে সাধারণ মানুষের
চরম ভোগান্তি, নীরব প্রশাসন

নিজস্ব সংবাদদাতা

বহরমপুর, ১২ই আগস্ট — রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো মুর্শিদাবাদেও খুচরো নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ১টাকা ও ২টাকার কয়েন কেউ নিতে চাইছেন না। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে প্রতিদিনই এনিয়ে চরমে অশান্তি। একটা সময় ছোট ১টাকার কয়েন বন্ধের গুজবে কেউ তা নিতে চাইছিলেন না। তা নিয়ে দোকান, বাজার থেকে স্কুল-কলেজ, অফিস, সর্বত্রই বিভ্রান্তি শুরু হয়। সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, সবজি, মাছ ও ফল বিক্রেতারা।

সমস্যা ভিক্ষুকদেরও। হোটেলে খেতে গেলে বা সামান্য চাল-ডাল কিনতে গেলে দোকানদার খুচরো নিচ্ছেন না। অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে ভিক্ষুকদের। ১টাকা, ২টাকা ও ১টাকার ছোট কয়েন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। অথচ না করলেও দোকানি ও ব্যবসায়ীরা নিতে অস্বীকার করছেন। এদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও প্রশাসন নিষ্ক্রিয়।        

সরকারি দপ্তরের কর্মীরা পর্যন্ত খুচরো নিতে অস্বীকার করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। বহরমপুরে কাশিমবাজার ইলেকট্রিক সাপ্লাই অফিসে গ্রাহকরা বিল জমা দেওয়ার সময় খুচরো ১টাকা, ২টাকা দিলে নিতে অস্বীকার করা হয়। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সাথে বচসাও হয়। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা এলে কর্মীরা ওই কয়েন নিতে বাধ্য হন।

গত রবিবার এমনই বচসা বাধে বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হোটেল মালিক ও ভিক্ষুকদের মধ্যে। দুপুরে হোটেলে খেতে ঢোকেন ভিক্ষুকরা। তাঁরা ১, ২ ও ৫টাকার কয়েন দিতে চাইলে হোটেলের ম্যানেজার ও মালিক নিতে চাননি। শুরু হয় বচসা। ভিক্ষুকরা এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। গত ১১ই আগস্ট শুক্রবার বেলডাঙ্গার সুরুলিয়ায় খুচরো নিয়ে বাদানুবাদে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে ওই ব্যবসায়ীর দোকান ভাঙচুর করে ক্রেতারা।       

খুচরোকে কেন্দ্র করে এই অশান্তির ঘটনা প্রসঙ্গে জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুনীতিকুমার বিশ্বাস বলেন, কয়েকমাস ধরে খুচরো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তি চলছে। যে কোনও ভারতীয় মুদ্রা নিতে অস্বীকার করা অপরাধ। বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সচেতনতা বাড়াতে সরকার বা প্রশাসনের উচিত মাইকে প্রচার, বিজ্ঞাপন দেওয়া ও সচেতনতা শিবির করা। কয়েন নিতে অস্বীকার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। খাগড়া বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলছেন, আমরা মহাজনকে খুচরো দিতে গেলে তারা নিচ্ছে না। তাহলে আমরা সেগুলি কোথায় দেব। বহরমপুরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী প্রভাত সাহা, অজয় সাহা বলেন, আমরা খুচরো নিলেও কাউকে দিতে গেলে তাঁরা নিচ্ছেন না। পরস্পরের মধ্যে আদান প্রদান থাকলে এই সমস্যা হয় না। চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ৫০০ ও ১০০০টাকার নোট বাতিলের পরে খুচরো মানুষের জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লক্ষ্মীর ভাঁড়ারে প্রতিদিন ১, ২, ৫টাকা জমান গৃহবধূরা। এখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ভেঙে সমস্যায় পড়েছেন এই গৃহবধূরাও।

সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ১টাকা, ২টাকা, ৫টাকার কয়েন জমা দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কে যাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, এত খুচরো নিয়ে আসবেন না। ব্যাঙ্ককর্মীরা বলছেন, খুচরো গুনে নেবার মতো সময় এবং কর্মী আমাদের নেই।