১৮কর্মী ছাঁটাইয়ের বিপক্ষে
১২বাম-তৃণমূল কাউন্সিলর

গুসকরা পৌরসভা

নিজস্ব সংবাদদাতা

বর্ধমান, ১২ই আগস্ট— তৃণমূল পরিচালিত গুসকরা পৌরসভার চেয়ারম্যান স্পেশাল বোর্ড মিটিং ডেকে শনিবার ১৮জন অস্থায়ী কর্মীকে ছাঁটাই করার জন্য প্রস্তাব আনলে তীব্র প্রতিবাদ জানান বামপন্থী কাউন্সিলররা। যাঁদের ছাঁটাই করার চেষ্টা করছে তৃণমূলী পৌরবোর্ড সেই ১৮জন কর্মী গত ২৩বছর ধরে কাজ করছেন। এদিনের বৈঠকে শুধু বামপন্থী পাঁচ কাউন্সিলর নয়, তৃণমূলের দলীয় নির্দেশ অমান্য করে শাসকদলের ৭জন কাউন্সিলরও এই ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ করেছেন। এদিন সি পি আই (এম)-র পাঁচ কাউন্সিলর লিখিতভাবে প্রতিবাদ করে বলেছেন, অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক নির্দেশ বাতিল করে অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করা হোক।

উল্লেখ্য, পৌরসভায় চাকরি দেবার নাম করে তৃণমূলের কিছু নেতা চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলেছে। সামনে পৌরভোট, যদি চাকরি না হয় তাহলে টাকা আদায়ের চাপ বাড়বে তাই শাসকদলের তোলাবাজ নেতারা ২৩বছর ধরে যাঁরা চাকরি করছেন তাঁদের ছাঁটাই করে দলের লোক ঢোকানোর চেষ্টা করছে টাকা নিয়ে। যাঁদের ছাঁটাই করার জন্য তৃণমূল এত তোড়জোড় করছে এই ১৮জন কর্মী আদালতে মামলা করেছিলেন তাঁদের স্থায়ী করার জন্য। আদালতও নির্দেশ দেয় ৪সপ্তাহের মধ্যে এদের হেয়ারিং করে বক্তব্য শোনা হোক। সেই মতো এঁদের সঙ্গে বসার সময় চেয়ারম্যান বুর্ধেন্দু রায় জানিয়ে ছিলেন তাঁর আইনগত কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও ডি এল ভি জানিয়ে দেয় এখন তাঁদের স্থায়ীকরণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু ছাঁটাই করার কথা বলেনি। এরপর ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ১৮জন কর্মী, যা আদালতের বিচার্য বিষয়। এরপর শাসকদলের যে সব নেতা পৌরসভায় চাকরি দেবেন বলে টাকা তুলেছেন তারা এই ১৮জনকে চাপ দিতে থাকে মামলা তুলে নেবার জন্য। কিন্তু সেই চাপের কাছে তাঁরা মাথা নত করেনি। এরপরই চেয়ারম্যান এই ছাঁটাইয়ের নোটিস আনে। শুধু বাম বিধায়করা নয়, তৃণমূলের মধ্যেও ভাঙন ধরে। ৭জন কাউন্সিলর ছাঁটাইয়ের বিরোধিতা করেছেন। এরপরই চেয়ারম্যান ১৬জন সদস্যের মধ্যে ১২জন বিরোধিতা করার পর খাতা জোর করে নিয়ে চলে যান। চেয়ারম্যানের পাশে তৃণমূলের নেতা নিতাই চ্যাটার্জি থাকলেও দলে চরম ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরাও। বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বামপন্থী কর্মচারী সংগঠন।