ভারী বর্ষণের সুযোগ নিয়ে
নির্বাচনী বিধি ভাঙছে তৃণমূল

ধূপগুড়ি

নিজস্ব সংবাদদাতা

জলপাইগুড়ি, ১২ই আগস্ট— ভারী বর্ষণের সুযোগ নিয়ে ধূপগুড়ি পৌরসভার নির্বাচনী ক্ষেত্রকে ব্যবহার করছে শাসকদলের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই অভিযোগ জানিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা বামফ্রন্ট। জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক সলিল আচার্য জানান, টানা বৃষ্টিতে ধূপগুড়ি পৌর এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার প্রায় বেশিরভাগ নির্বাচনী বুথেই জল ঢুকে পড়েছে। পৌর নাগরিকেরা জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। জেলা বামফ্রন্ট সরকারি ত্রাণ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। ক্যাম্প হয়েছে। দলীয় ঝান্ডা নিয়ে শাসকদলের নেতা-কর্মীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনী বিধি ভাঙছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

জানা গেছে, ধূপগুড়ি পৌর এলাকার ১৫নং ওয়ার্ডের ধূপগুড়ি মৌজা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১, ২০২, ২০৩ নম্বর বুথ ১৬নং ওয়ার্ডের জুনিয়র স্কুল এবং এস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০৪, ২০৫, ২০৬নং বুথ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ১১নং ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া বৈরাতিগুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯৩নং বুথও জলমগ্ন।

পৌর এলাকার ১, ২, ৩, ৪, ৫, ১১, ১৪, ১৫, ১৬নং ওয়ার্ডের প্রায় বেশিরভাগ বাড়িতেই জল ঢুকে পড়েছে। পৌর এলাকা জলবন্দি অবস্থায় থাকলেও মিউনিসিপ্যাল রিটার্নিং অফিসার তথা জলপাইগুড়ির সদর মহকুমাশাসক রঞ্জন দাস জানান, ‘‘জল তেমনভাবে জমেনি। আর এই কারণে নির্বাচনে তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না।’’ তবে রিটার্নিং অফিসার যাই বলুন না কেন প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের জলমগ্নতার ছবি নজরে পড়েছে। নাগরিকেরা বলছেন, এই সময়ে ভোট নিয়ে ভাবতেই পারছি না। বাড়ি-ঘরে জল ঢুকেছে। জল নামানোই এখন চিন্তার কারণ।

জেলাশাসক রচনা ভগত জানান, ধূপগুড়ি সবকটি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫ এবং ১৬নং ওয়ার্ডের প্রতি বাড়তি নজর রাখা হয়েছে। জলের উপরই এই দুই ওয়ার্ডের নির্বাচনী পরিস্থিতি নির্ভর করছে।

এদিকে, রবিবার সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু। গত তিনদিনের নাগাড়ে বৃষ্টিতে পৌর এলাকার ১৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জলবন্দি। বিপাকে পড়েছেন ভোটকর্মীরাও। অনেক ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে জল জমে থাকায় কিভাবে ভোট হবে তা নিয়ে চিন্তিত ভোটকর্মীরাও। আবার অনেক ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে জল জমে থাকায় সমস্যায় পড়েছেন ভোটাররাও। রবিবার সকালে এরকম পরিস্থিতি থাকলে কী হবে, প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ধূপগুড়ি পৌর এলাকার মানুষ গত ৫০বছরের মধ্যে এরকমভাবে বন্যার কারণে ক্ষতির মুখ দেখেননি বলে জানান স্থানীয় মানুষ। শাসকদলের পরিকল্পনাহীন কাজের জন্যই এমন হাল, ঠিকাদারি ব্যবসার সুবিধা করে দিতেই সাধারণ মানুষকে তার মূল্য দিতে হলো বলে মনে করছেন পৌরবাসী। তবে নির্দিষ্ট কোনও মাস্টার প্ল্যান না নিয়ে কাজ করার ফল এটা। এই আবহেই ভোট হবে রবিবার।



Featured Posts

Advertisement