বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক কোচবিহারে

নিজস্ব সংবাদদাতা

কোচবিহার, ১২ই আগস্ট—কোচবিহার জেলার বন্যা পরিস্থি‍‌তি ক্রমশ উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি ভয়ানক। তোর্ষা, মানসাই, রায়ডাকসহ বিভিন্ন নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে অবিরাম বর্ষণের ফলে এই ভয়াবহতা সাংঘাতিক আকার নিতে শুরু করেছে।

কোচবিহার ১, ২ নম্বর ব্লকের তোর্ষা ও কালজানি নদী সংলগ্ন এলাকাগুলির পরিস্থিতি ভয়াবহ। কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া সংলগ্ন তোর্ষা নদীর সুইচ গেট ভেঙে জল ঢুকছে কোচবিহার শহরে। ১ নম্বর ব্লকের প্রায় সমস্ত এলাকাই জলমগ্ন। এই ব্লকের অন্তর্গত গুড়িয়াহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামকৃষ্ণপল্লি, পিলখানা পূর্ব, ভারত কলোনি, কালীঘাট এলাকার তোর্ষা নদী সংলগ্ন গ্রামবাসীদের পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, তাঁরা বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যত্র। কালীঘাট এলাকার বাসভাসি মানুষেরা ১ নম্বর কালীঘাট রোডের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। গৃহপালিত পশুদের সাথেই এই রাস্তার ওপর বসে আছেন তাঁরা। প্রশাসন তাঁদের উদ্ধারের জন্য কোনও ব্যবস্থাই করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপল্লি গ্রাম গোটাটাই প্রায় জলের তলায়। এঁরা সকলে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন স্থানীয় কোচবিহার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের টাকাগছ বাণেশ্বর, খোল্টাসহ প্রায় বেশিরভাগ এলাকায় জলের নিচে। বন্যা পরিস্থিতি সবথেকে বেশি ভয়ানক আকার নিয়েছে জেলার মাথাভাঙা মহকুমায়। মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালের নিচুতলায় মানসাই নদীর জল ঢুকে যাওয়ায় চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ফুঁসতে থাকা মানসাই আর সুটঙ্গার জলে জলমগ্ন মাথাভাঙা শহরের ১২টি ওয়ার্ড। শহরের ৭, ৮,নং ওয়ার্ডে রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। চারটি কলোনির ১০০ শতাংশ পরিবারই জলমগ্ন। মাথাভাঙা ১ এবং ২ নম্বর ব্লকের ২০টি অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত। প্রায় ১৫টি জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে মানসাই নদীর। এর পাশাপাশি ডুডুয়া এবং জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাথাভাঙা-শিলিগুড়ি ১২/এ রাজ্যসড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। বৈরাগী হাটের কাছে ১২/এ রাজ্য সড়কের কয়েক ফুট গভীরতায় জল বইছে। শীতলকুচি ব্লকের ধরলা নদীর জল রাস্তার ওপর দিয়ে বয়ে চলায় শীতলকুচি-মাথাভাঙার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার প্রায় সব এলাকাই জলমগ্ন। তুফানগঞ্জের পশ্চিমাংশের অবস্থা আরও ভয়ানক। গদাধর, তোর্ষা, কালজানি, সরসরিয়া এবং রায়ডাক নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় এই সমস্ত এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়ানক আকার ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মহকুমার বলরামপুর এলাকায় কলার ভেলা থেকে জলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের শালমারা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এবং শিঙ্গিমারী নদীর সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। দিনহাটা শহরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডই জলমগ্ন।

মেখলিগঞ্জের নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাসহ গোটা মেখলিগঞ্জ মহকুমার বাসভাসি মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তিস্তা তীরবর্তী এলাকার প্রায় সব পরিবার প্রাণরক্ষার তাগিদে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিস্তা নদীতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই ভয়ানক পরিস্থিতিতে জেলার শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে পরিদর্শনে গিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করতে ব্যস্ত থাকলেও, এই বানভাসি মানুষদের উদ্ধার কিংবা পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাঁরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন বলে উঠেছে অভিযোগ।