বসিরহাটে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ
অভিযোগ খুনের , গ্রেপ্তার স্বামী

নিজস্ব সংবাদদাতা

বসিরহাট, ১২ই আগস্ট — শুক্রবার বিকালে বসিরহাটের দক্ষিণ বাগুণ্ডিতে শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূ সুপর্ণা মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ মিললে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় মানুষের সাহায্যে গৃহবধূকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন । পেশায় কৃষক দক্ষিণ মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা সুপর্ণার বাবা সুশান্ত মণ্ডলের অভিযোগ, সুপর্ণার স্বামী প্রসেনজিৎ মণ্ডল, তার ভাই ও বাবা তিনজনই তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পেছনে ষড়যন্ত্রে যুক্ত, তিনি এদের শাস্তি দাবি করছেন । সুপর্ণার স্বামী প্রসেনজিৎ এই অভিযোগ অস্বীকার করে তার ভাই সুরজিতকেই দোষারোপ করছে । মৃতার দিদি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে একমত ।

অভিযোগ , বৌদিকে উত্ত্যক্ত করতো দেওর । শুক্রবার ধর্ষণের চেষ্টা করলে বাধা দেওয়ায় দেওর সুরজিৎ মণ্ডল তাঁকে গলা টিপে খুন করে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ সুপর্ণা মণ্ডলের (১৮) বাড়ির লোকজনের । অভিযুক্ত স্বামী প্রসেনজিৎ মণ্ডল গ্রেফতার হয়েছে। পলাতক দেওর সুরজিৎ মণ্ডল ও শ্বশুর নারায়ণ মণ্ডল ।

       বিয়ের চারমাসের মধ্যেই সুপর্ণা মণ্ডল বাপের বাড়িতে দিদি, মাসি ও কাকিমার কাছে কয়েকবার ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওরের চালচলন নিয়ে । সুপর্ণার স্বামী বাড়ি না থাকলে তাঁকে বাজে ইঙ্গিত করত বলে সংবাদমাধ্যমকে জানালেন সুপর্ণার দিদি রুমা বাছাড়। প্রসেনজিৎ মণ্ডল পেশায় স্বর্ণকার । সে বাড়িতে না থাকলে প্রায়ই তার ভাই নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত । সুপর্ণা তা মাসখানেক আগেও বাড়িতে জানিয়েছিল । এই ঘটনায় প্রসেনজিৎ কয়েকদিন আগে তার ভাইকে মারধরও করে । শুক্রবারও সুরজিৎ তার বৌদিকে বিরক্ত করতে থাকে । তা বাড়াবাড়িতে পৌঁছালে লোক জানাজানির ভয়েই  সুরজিৎ তাঁকে গলা টিপে খুন করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয় বলে এই মুহূর্তে বাড়ির লোকের অভিযোগ । মেয়ের বাড়ি থেকে প্রসেনজিৎ, তার ভাই সুরজিৎ এবং বাবা নারায়ণ মণ্ডলের নামে থানায় অভিযোগ  দায়ের করলে বসিরহাট থানার পুলিশ এসে হাসপাতাল চত্বর থেকেই প্রসেনজিতকে গ্রেপ্তার করে । বাকি দুজন পলাতক । ময়নাতদন্তের জন্য দেহ বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে । ময়না তদন্তের আগে পুলিশ এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ ।