প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তর দিনাজপুর

নিজস্ব সংবাদদাতা

রায়গঞ্জ, ১২ই আগস্ট- টানা তিন দিনের ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জেরে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ও চোপড়ায়, রায়গঞ্জ, চাকুলিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডাউক, মহানন্দা, গামারি, নাগর, কুলিক, সুঁই নদীর জলে প্লাবিত ইসলামপুরের মাটিকুন্ডা, আগডিমটি খুন্তি, মরিচাগছ উত্তর,দক্ষিণ সহ, লালমনগছ,গোয়ালগছ, চান্দাপাড়া, নয়াবাড়ি গ্রাম। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার গ্রামগুলিতে হুহু করে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সেখানে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বহু মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে লক্ষীপুর দাসপাড়া, ভদ্রকালি, আগডিমটিখুন্তি এলাকায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ইসলামপুরের রবীন্দ্রনগর কলোনি, রাঙাগছ, সুভাষনগর সহ একাধিক গ্রাম ও শহরের মানুষ গৃহবন্দি। গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত দুই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা। স্পিডবোট কাজে লাগিয়ে জলবন্দি মানুষদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া ও উদ্ধার কাজ শুরু করতে চলেছে বলে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সুত্রে জানানো হয়েছে। এদিকে রাতভর বৃষ্টিপাতের জেরে জলমগ্ন হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাও। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে প্লাবিত রায়গঞ্জের একাধিক এলাকা। জলবন্দি বীরনগর, ইন্দিরাকলোনি, রবীন্দ্রপল্লি, অশোকপল্লি, নেতাজীপল্লি এলাকার বাসিন্দারা। গোয়ালপোখর ব্লকের বি ডি ও-কে একাধিক এলাকায় মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। পোখরিয়া গ্রামে কালভার্টে আটকে থাকা জল নিকাশি করতে এসে প্লাবিত মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। জেলার একাধিক ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা বৃষ্টির জলে প্লাবিত। এমনকি কাঁটাতারের অনেকটা উপর দিয়ে বইছে জল।

ইসলামপুর মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগডিমটিখুন্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দনগছ গ্রামের ৩০০ পরিবার, মোহনখা গ্রামের ৩৫পরিবার, আগডিমটি ২০ পরিবার, নয়াবাড়ি ১৫ পরিবার, সাতালিয়াতে ২০০ পরিবার, ছাড়াও ভাটপোখর, সিংনাথ, পোখরগছ, ঝাড়বাড়ি এলাকায় বহু মানুষ জলমগ্ন হয়ে রয়েছেন।

চাকুলিয়ার অবস্থা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ডাইটন, শিমুলিয়া, বস্তাডাঙ্গী, সুর্যাপুরের কয়েক হাজার মানুষ মহানন্দার জলে জলবন্দি। প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই সি পি আই (এম) কর্মীরা এলাকায় মানুষদের উদ্ধারের কাজে নেমে পড়েছেন। সি পি আই (এম) নেতা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহসভাধিপতি অশোক সিং এর অভিযোগ দুর্গত মানুষদের উদ্ধারের জন্য সকাল থেকে বি ডি ও-কে অনুরোধ করা হয়েছে। এলাকায় নৌকা পাঠানো হয়েছে বলে জানালেও কোনো নৌকার দেখা মেলেনি। মানুষ নিজেরাই কলার ভেলা তৈরি করে নিরাপদ স্থানে উঠে আসছেন। শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সি পি আই (এম) কর্মীরা এলাকায় শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। শনিবার খবর লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি থামেনি। এভাবে চলতে থাকলে আরও কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।