বন্যায় ভাসছে
আসাম, ত্রিপুরা

সংবাদসংস্থা

আগরতলা, ১২ই আগস্ট — ত্রিপুরায় বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। অন্যদিকে আসামও বন্যায় ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি জেলা। শনিবার রাত পর্যন্ত খবর অনুযায়ী বন্যার জলে ভসে গিয়ে অন্তত ৫জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। এদিকে, টানা বৃষ্টিতে বানভাসি হয়ে প্রায় ৫হাজার পরিবার সরকারি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। আগরতলা শহরের একটি বড় অংশ এখন জলের তলায়। এদিন ত্রিপুরা সরকারের রাজস্বমন্ত্রী বাদল চৌধুরি সিপাহীজলা অঞ্চলের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন টানা বৃষ্টির জেরে হাওড়া নদীর জলস্তর বেড়ে গেছে। এই নদী বিপদসীমার ওপর বইছে। নদীতীরবর্তী অঞ্চলগুলি প্লাবিত হওয়া বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সিপাহীজলার বন্যা দুর্গত অঞ্চল থেকে অন্তত ২৫০০হাজার পরিবারকে উদ্ধার করে সরকারি ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার থেকেই সরকারি ভবনে বানভাসি মানুষের জন্য ৬০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার ও তাঁদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন রাজস্বমন্ত্রী বাদল চৌধুরি। শুক্রবারই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। ওই বৈঠকে পুলিশ, প্রশাসনের কর্তাদের ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মানিক সরকার। আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় এদিন রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

টানা ৩দিন ধরে ভারী বৃষ্টির জেরে আসামের ১৯টি জেলা বিস্তৃর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র সহ বুঢ়িডিহিং, শোভনসিঁড়ি ধানসিঁড়ি, জিয়ারালি নদী বিপদ সীমার ওপর বইছে। রাজ্যের প্রায় ১০লক্ষ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। ইতিমধ্যে ধেমজি, লাখিমপুর, শোনিতপুর, বাকসা, বরপেটা, বঙ্গাইগাঁও, চিরাং, কোকরাঝার, ধুবরি, শিবসাগর, জোরহাট, মাজুলি, ডিব্রুগড় জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বানভাসি হয়েছে। এদিন পর্যন্ত ২৬৮টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে যা প্রয়োজনীয় তুলনায় অনেক কম।

Featured Posts

Advertisement