সুহেরেই সুরভিত লালহলুদের শুরুয়াত

ইস্টবেঙ্গল ৪ (সুহের হ্যাটট্রিক, ব্রেন্ডন) রেনবো এফসি ১ (ছট্টু)

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১২ই আগস্ট — ঝিড়ি ঝিড়ি বৃষ্টি, আকাশে ঘন মেঘ। ভরদুপুরেই ময়দানে যেন নেমে আসছে অন্ধকার। ফুটবলের টানে আলো আধারির ময়দানে অগুন্তি মানুষের ভিড়। লালহলুদ পতাকা, জার্সিতে রঙীন বটতলা। প্রিয় দল মরসুম শুরু করছে, তাই সকাল থেকে আকাশের মুখ ভার থাকলেও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা ছিলেন মাঠমুখী। রেড রোড থেকে শর্টকাটে হাইকোর্ট মাঠ হয়ে লেসলি ক্লডিয়াস সরণী। কাঁদা মাঠে প্যান্ট গুটিয়ে তাড়াতাড়ি টিকিটের কাউন্টারে পৌছানোর হিরিক। অন্য দিক থেকে ইডেন গার্ডেন্স থেকে একের পর এক মিছিল যেন আছড়ে পড়লো ইস্টবেঙ্গল মাঠে। না মেঘ সরিয়ে আর রোদ উঁকি মারেনি। তাই দেখা যায়নি রামধনু। বৃষ্টিভেজা শনিবারের বিকালে রেনবোকে ফ্যাকাশে করেই মশাল জ্বললো ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে। সুহেরের হ্যাটট্রিকে ভর করে কলকাতা লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলে রেনবো এফসিকে বিধ্বস্ত করলো ইস্টবেঙ্গল। অন্য গোলটি ব্রেন্ডনের। প্রথম ম্যাচের নিরিখে বলাই যায়, সোনালী কালিতেই লেখা হলো ‘খালিদঅধ্যায়’-এর প্রথম পরিচ্ছেদ।

ম্যাচের দু’দিন আগে ইস্টবেঙ্গল কোচ খালিদ জামিল বলেছিলেন, বৃষ্টি না হলেই সুবিধা হয়। কিন্তু সে প্রার্থনায় কাজ হয়নি। কাঁদা মাঠেই অভিষেক হলো একঝাঁক নতুন ফুটবলারের। ভয় ছিলো অনেকগুলো। পিচ্ছিল মাঠে কেমন খেলবেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা? ভয় ছিলো প্রথমে গোল না পেলে চাপে পড়ে যাবে গোটা দল। ভয় ছিলো প্রথম ম্যাচে আটকে গেলে শুরুতেই ভরসা হারাবেন সমর্থকরা। না এগুলো কোনটাই হয়নি। আর হয়নি এমন একজনের জন্য যাকে গতবছর ছেঁটে ফেলেছিলেন তৎকালীন ইস্টবেঙ্গল কোচ ট্রেভর জেমস মরগ্যান। ভি পি সুহের।

প্রথমার্ধ জুড়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিলো আল আমনার পায়ে। ১৭ মিনিটের মাথায় বক্সের ঠিক বাইরে থেকে আল আমনার ফ্রিকিক সাইড নেটে জড়িয়ে যায়। কাঙ্খিত গোলটি আসে ঠিক তার মিনিট দুয়েক বাদে। গতবছর দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি সুহের। এবার প্রথম ম্যাচে নেমেই একটি অসাধারণ গোল করলেন। সেন্টার লাইনের সামান্য উপর থেকে ব্রেন্ডনের সেন্টার প্রথম বুকে রিসিভ করেন সুহের। সামনে তখন রেনবোর একজন স্টপার। শরীরের দোলায় তাঁকে কাটিয়ে নেন লালহলুদের এই স্ট্রাইকার। তারপর আরও একজনকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে পরাস্ত করেন রেনবো গোলরক্ষককে। বিরতির ঠিক আগে আবার গোল। আবার সুহের। গোললাইন থেকে ডানমাওইয়ার মাপা পাস, হাফটার্নে দুরন্ত শটে বল জালে রাখেন কেরালার এই স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর বাঁশি বাজার মিনিট খানেকের মধ্যেই নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে নেন লালহলুদের এই স্ট্রাইকার। আল আমনার মাপা পাস ধরে রেনবো গোলরক্ষক অঙ্কুর দাসকে পরাস্ত করেন ভি পি সুহের। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে দিনে সহজতম সুযোগটি নষ্ট করেন উইলিস প্লাজা। ফাঁকা গোলের সামনে দাঁড়িয়েও বল জালে ঠেলতে পারেননি। বেশ কিছু ভালো পাস বাড়ালেও প্লাজার যে এখনও ফর্মে ফিরতে বহু দেরি তা তার খেলাতেই পরিস্কার। ৭২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের চতুর্থ গোল। আবার কারিগর আল আমনা। দুরন্ত ফিনিশ ব্রেন্ডনের। ৮০ মিনিটে চুলোভা এবং লুই ব্যারেটোর ভুল বোঝাবুঝির সুযোগে ব্যবধান কমান রেনবোর ছট্টু মন্ডল। প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই বেশ নজর কাড়লেন কার্লাইল মিচেল। খালিদের নতুন দলও প্রথম ম্যাচে বল মাটিতে রেখে খেললেন। তবে মাঝমাঠ ভালো খেললেও, রেনবোর মতো দূর্বল দলের বিরুদ্ধে রক্ষণের কিছূ ভুলচুক নিয়ে কিন্তু ভাবতেই হবে খালিদকে। অনেকটা পথ যে এখনও হাঁটা বাকি।

ইস্টবেঙ্গল: ব্যারেটো, চুলোভা, অর্ণব, মিচেল, সামাদ, ব্রেন্ডন (ইয়ামি), রফিক, আমনা, ডানমাওইয়া (সুরাবুদ্দিন), প্লাজা, সুহের (লোবো)।



Featured Posts

Advertisement