ভাঙড়ে অবরুদ্ধ গ্রামবাসীরা
আরাবুলের হুমকিতে হাটও বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি

ভাঙড়, ১২ই আগস্ট- প্রতি মঙ্গল ও শনি, সপ্তাহে দু’দিন হাট বসে নতুনহাটে। তৃণমূলী দুষ্কৃতীবাহিনীর ফতোয়ায় সেই হাট বসাও বন্ধ হয়ে গেছে। কার্যত অবরুদ্ধ ভাঙড়ের আন্দোলনরত এলাকার গ্রামবাসীরা। তাঁদের গ্রামের মধ্যেই আটকে রাখতে চাইছে আরাবুলের বাহিনী।

শুক্রবার রাতভর চলেছে বোমাবাজি। গ্রামবাসীদের পালটা প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল তৃণমূলী বাহিনীকে। রাতে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েই প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন হাজারো গ্রামবাসীরা। আর সেই ‘অপরাধে’ রাতভর বোমাবাজি চালানোর পরে শনিবার সকালে হাট বসতেও বাধা দিল তৃণমূলী বাহিনী। এদিন সকালেই সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙড়ের নতুনহাটের সামনে আসে শাসক দলের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম। সঙ্গে তাঁর ভাই খুদেসহ দুষ্কৃতী বাহিনী। প্রকাশ্যে হুমকি দিতে শুরু করে আরাবুল ইসলাম। কোনও দোকানপাট খোলা যাবে না, হাট বসতে দেওয়া হবে না। মমতা ব্যানার্জির রাজত্বে থেকে তৃণমূলের বিরোধীতা করা যাবে না, এসব হুমকি প্রকাশ্যে দিতে থাকে আরাবুল।

সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাহিনীর হুমকির মুখে দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। আনসার মোল্লার মুদি দোকান রয়েছে নতুনহাটে, তাও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় দুষ্কৃতীরা। সকালে বন্ধ রাখার পরে ফের বিকালের দিকে দোকান খুলতে চেষ্টা করলেও তা খুলতে দেওয়া হয়নি। শনিবারের হাটের দিন কার্যত বন্‌ধের চেহারা নেয় নতুনহাট। সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুনহাটে মহেদ্দুদিনের একটি সাইকেলের দোকান আছে। তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দোকানের চারপাশে টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ খুলতে না পারে। ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের এখন ভাতে মারতে চাইছে এখন সরকার, প্রশাসন।

মাছিভাঙার আন্দোলনকারী যুবক আবুল হোসেন মোল্লার কথায়, বাইরের লোকজন ধারণা করতে পারবেন না এখন কী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ভাঙড়ের গ্রামবাসীরা। গত ১৫-২০দিন ধরে ঘরে কিছুই নেই। মানুষজন ভাত আর আলু সেদ্ধ খেয়েই থাকছেন। কিনবে কোথা থেকে? দোকানপাট খুলতে দেওয়া হচ্ছে না, বাজার বসতে দেওয়া হচ্ছে না। দোকান খুললেও গ্রামবাসীদের পিচ রাস্তায় আসতে দেওয়া হচ্ছে না। নতুনহাট পর্যন্ত যেতেই পারছেন না গ্রামবাসীরা। বাচ্চার ওষুধ কিনতে গিয়েও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে গ্রামবাসীদের।

শুধু তাই নয় মাছিভাঙা সীমান্তে রাজারহাটের একটি এলাকা রয়েছে। সেখানে রেশন আনতে বকডোবা থেকে গ্রামবাসীরা মাছিভাঙা গ্রাম হয়ে যায়। কিন্তু তাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। মাছিভাঙার দিকে আসতে দেওয়াও হচ্ছে না। এতে দিনের পর দিন রেশন তুলতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। মূলত খামারআইট, মাছিভাঙা, উড়েপাড়ার মত গ্রামগুলিতেই এই অত্যাচারের মাত্রা বেশি। দোকানপাট, বাজার বসতে না দেওয়া হলেও নতুনহাট মোড়ের সামনেই এদিন সন্ধ্যা থেকে রাস্তা আটকে টহল দিচ্ছে তৃণমূলী বাহিনী। কোন গ্রামবাসীকে বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। সবজি বিক্রেতাদেও খামারআইট, মাছিভাঙা গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এরই মধ্যেই এদিন ভোরে আরাবুল বাহিনী মাছিভাঙা গ্রামের ঢোকার মুখে একটি বাগান সম্পূর্ণ কেটে সাফ করে দেয়। বাগানে আম গাছ, পেয়ারা গাছসহ একাধিক গাছ নিয়ে বড় বাগান ছিল। এদিন ভোরবেলায় দুষ্কৃতীবাহিনী সেই বাগান সম্পূর্ণ সাফ করে দেয়। ওই বাগানের মালিক যদিও শাসক দলেরই অনুগামী। তবুও রেহাই পাননি তিনি। তৃণমূলের দাবি ওই বাগানের ভিতরে লুকিয়ে থেকে নাকি গ্রামবাসীরা হামলা চালাচ্ছে!