আরো ৫কিষান জাঠা, দেশে
ক্রমেই তীব্র কৃষকের লড়াই

ফসলের লাভজনক দাম, ঋণ মকুবের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ১১ই আগস্ট — কেন্দ্রের জনবিরোধী নরেন্দ্র মোদী সরকারের ওপর লাগাতার চাপ বাড়াতে দেশজুড়ে আরো তীব্র হচ্ছে কৃষিজীবী ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই। উৎপাদন খরচের সঙ্গে আরো ৫০শতাংশ যোগ করে ফসলের সহায়ক মূল্য নির্ধারণ এবং সব ধরনের ঋণ থেকে কৃষককে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে ফের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নজিরবিহীনভাবে আছড়ে পড়তে চলেছে জোরালো আন্দোলন। শনিবার দিল্লিতে ১৫০টিরও বেশি কৃষক সংগঠনকে নিয়ে গঠিত অল ইন্ডিয়া কিষান সঙ্ঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির বৈঠকে ঠিক হয়েছে, প্রথম পর্যায়ের কিষান মুক্তি যাত্রা কর্মসূচির সফল রূপায়ণের পরে পরপর আরো ৫টি এধরনের পদযাত্রা সংগঠিত করা হবে। ৩১শে আগস্ট থেকেই শুরু হয়ে যাবে দ্বিতীয় পর্যায়ের কিষান মুক্তি যাত্রা। সর্বশেষ যাত্রাটি শুরু হবে ৬ই নভেম্বর। চলবে ১০ই নভেম্বর পর্যন্ত। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনটিতেই রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে আছড়ে পড়বে সুবিশাল কৃষক সমাবেশ। এদিনের যৌথ বৈঠকের পর কৃষক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, কৃষক-খেতমজুর-গ্রামীণ শ্রমজীবীদের ন্যায্য দাবিগুলি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, ফসলের লাভজনক দাম, কৃষিঋণ মকুব-সহ আরো কয়েকটি দাবিতে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ক্রমশই জোরালো হয়ে উঠছে কৃষক আন্দোলন। ঐক্যবদ্ধ চেহারার এই সংগ্রামের পুরোভাগে রয়েছে সারা ভারত কৃষকসভা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির নির্যাতন মোকাবিলা করেই তেজ বাড়ছে এই লড়াইয়ের। ঘটছে পুলিশের গুলিতে কৃষক মৃত্যুর ঘটনাও। গত জুলাইয়ের ১থেকে ১৮তারিখ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ‘কিষান মুক্তি যাত্রা’ হয়েছে মধ্য প্রদেশের মন্দসৌর থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত। ‘কিষান সংসদ’ নামে দিল্লির রাজপথে অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃষক সমাবেশ। উল্লেখ্য, গত ৬ই জুন এই মন্দসৌরেই কৃষক আন্দোলনের ওপর গুলি চালিয়ে ৬জন কৃষককে খুন করেছে মধ্য প্রদেশ পুলিশ। কৃষকসমাজের এই আন্দোলনের তীব্রতা আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষান সঙ্ঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির বৈঠকে।

এদিনের যৌথ সভায় ঠিক হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘কিষান মুক্তি যাত্রা’ আগামী ৩১শে আগস্ট শুরু হবে হরিয়ানা থেকে। পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ হয়ে জম্মু-কাশ্মীর পৌঁছাবে ৬ই সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ যাত্রাপথে কৃষকের দাবিগুলি জনপ্রিয় করে তোলা হবে।

তৃতীয় পর্যায়ের যাত্রা শুরু হবে কর্ণাটক থেকে, ১৬ই সেপ্টেম্বর। কেরালা, তামিলনাডু, অন্ধ্র প্রদেশ হয়ে ২৩শে সেপ্টেম্বর তেলেঙ্গানায় যাত্রা শেষ হবে।

চতুর্থ পর্যায়ের যাত্রার সূচনা উত্তর বিহারের চম্পারণ থেকে, ২রা অক্টোবর। উত্তর প্রদেশ ঘুরে উত্তরাখণ্ডে গিয়ে এই যাত্রা শেষ হবে ১০ই অক্টোবর।

পঞ্চম পর্যায়ের যাত্রা বেরোবে ২৯শে অক্টোবর, ওডিশা থেকে। ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, দক্ষিণ বিহার হয়ে ৫ই নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছবে যাত্রা।

ষষ্ঠ তথা শেষ পর্যায়ের যাত্রা হবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে। ৬ই নভেম্বর মিজোরাম থেকে যাত্রা শুরু হবে। ত্রিপুরা, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয় হয়ে আগামী ১০ই নভেম্বর আসামে শেষ হবে এই ‘কিষান মুক্তি যাত্রা’।