কোরীয় উত্তেজনায় ট্রাম্পকে
‘সংযম’ দেখাতে বললেন শি

সংবাদসংস্থা

বেজিঙ, ১২ই আগস্ট— কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংযম দেখাতে বললেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙ।

গণতান্ত্রিক কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রপরীক্ষা নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই মিটিয়ে নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন শি। শনিবার টেলিফোনে দুই রাষ্ট্রপতির মধ্যে কথা হয়। উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে, এমন মন্তব্য ও পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির এড়িয়ে চলা উচিত বলে জানিয়ে শি বলেছেন, এই বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তত। বেজিঙ চায় এর শান্তিপূর্ণ সমাধান।

শুক্রবারই প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হানার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে। গণতান্ত্রিক কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জের ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে পিয়ঙইয়ঙের উপর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উভয় পক্ষ থেকে পরস্পরকে হুমকি চলেছে। গণতান্ত্রিক কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। জবাবে প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকা-নিয়ন্ত্রিত দ্বীপ গুয়ামের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানায় গণতান্ত্রিক কোরিয়া। শুক্রবার নতুন করে আবারও ট্রাম্প হুমকি দেন, যদি গুয়ামে কিছু ঘটে তবে গণতান্ত্রিক কোরিয়াকে ‘বড় ধরনের সমস্যার’ মুখে পড়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিকে যুদ্ধের কিনারে নিয়ে যাচ্ছেন বলে গণতান্ত্রিক কোরিয়া অভিযোগ করার পরে ট্রাম্প হুমকি শোনান তাঁর টুইটে, ‘গণতান্ত্রিক কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। গণতান্ত্রিক কোরিয়া কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করলে তার সামরিক সমাধান এখন পুরোপুরি সঠিক পথে আছে। আশাকরি, কিম জঙ উন অন্য পথ খুঁজে নেবেন।’ সংকট সমাধানে চীন-রাশিয়ার এক যৌথ পরিকল্পনা পেশ করেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। গণতান্ত্রিক কোরিয়া আর আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন ও পিয়ঙইয়ঙের হুমকি-পালটা হুমকিতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’ জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেল, ‘সামরিক কোনও সমাধান নেই। হুমকির বিরুদ্ধে পালটা হুমকি দেওয়া ভুল।’

এই পরিস্থিতিতে এদিন ট্রাম্পকে ফোন করেন চীনের রাষ্ট্রপতি। কোরীয় উপদ্বীপে বি-পারমাণবিকরণ এবং শান্তি ও সুস্থিতি রক্ষার সঙ্গে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উভয়ের স্বার্থ জড়িত, তার উপর গুরুত্ব দেন শি। রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আলাপ-আলোচনার পথ নেওয়া উচিত বলে ট্রাম্পকে জানান তিনি। একইসঙ্গে জানিয়েছেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বিষয়টির যুক্তিসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী চীন। জানিয়েছে চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

গত মাসেই হামবুর্গে জি-২০’র বৈঠকের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে শি’র হয়েছিল ফলপ্রসূ বৈঠক। ‘চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নয়নের’ ক্ষেত্রে দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে যোগ করেছেন তিনি। বছরের শেষে ট্রাম্প আসছেন চীন সফরে। এই সফরকে চীন খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক ইস্যুর সমাধানে চীনের পদক্ষেপের গুরুত্বকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিলক্ষণ বোঝে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গেই, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সাধারণ বিষয়গুলিতে বেজিঙের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার কথা বলেছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement