বিপন্ন ভারত রক্ষাই হোক স্বাধীনতার শপথ

মৃদুল দে

সেদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অনুগত, আর আজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে প্রকাশ্য ওকালতি। স্বাধীনতার ৭০বছরে পা ভারতের। যে সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি ইঞ্চিতে সাম্প্রদায়িকীকরণ চলছে। আবর্জনা উৎপাদনকারীরা কী করে স্বচ্ছ ভারত গড়বে? প্রশ্ন তুলেছেন লেখক।

ভারতের স্বাধীনতার এটা ৭০বছর। এমন একটা স্বাধীনতা দিবস যায়নি, যখন জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি দেশকে দারিদ্রমুক্ত, নিরক্ষরতামুক্ত, বেকারিমুক্ত এবং আধুনিক ভারত গঠনের লক্ষ্য ঘোষণা করেননি। এবার একটু স্বতন্ত্র। ২০১৪সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদী এবং সঙ্ঘ পরিবার দেশজুড়ে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কংগ্রেস ৬০বছরে যা করতে পারেনি, বি জে পি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরে তা করে দেখিয়ে দেবে। কিছুদিন আগে মোদীর ভাবমূর্তি তুলে ধরতে লেখা একটা বইয়ের উদ্বোধন করতে গিয়ে আর এস এস প্রধান মোহন ভাগবত কংগ্রেস যা ৬০বছরে করতে পারেনি, মোদীর নেতৃত্বে সরকার এখন তাই করে দেখাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন।

স্বাধীনতার সত্তর বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিরাট উৎসব আয়োজনে, বিজ্ঞাপনে এবং প্রচারে মোদী সরকার ও সঙ্ঘ পরিবার অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে। মোদী ঘোষণা করেছেন এবারের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন হবে সংকল্প পর্ব; দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আবেদন করেছেন আগামী পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০২২সালের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র, সন্ত্রাসবাদ, জাত-বৈষম্যবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতাবাদ উৎখাত করার শপথ নিন; স্লোগান দিয়েছেন ৯ই আগস্টের স্লোগানের ঢঙে: ‘ময়লা ভারত ছাড়’, ‘দারিদ্র ভারত ছাড়’, ‘সন্ত্রাসবাদ ভারত ছাড়’, ‘জাত-বৈষম্যবাদ ভারত ছাড়’ এবং ‘সাম্প্রদায়িকতাবাদ ভারত ছাড়’। আমেরিকা বা সাম্রাজ্যবাদ ভারত ছাড় — এটা অবশ্য ভুলেও বলেননি। পাঁচ বছর পরে স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর যখন উদ্‌যাপিত হবে তখন যেন ভারত এসব ব্যাধি থেকে মুক্ত হয়। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতি ফুলিয়ে মোদী তাঁর শাসনের বর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আড়াই মিনিটের একটি গান উদ্বোধন করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে দেশ মহান, দেশ এগিয়ে চলেছে।

২০১৮সালের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনে অন্য সুর বাজবে। কারণ এর পরেই লোকসভা নির্বাচনের বাজনা বেজে উঠবে। ২০১৪সালে লোকসভা নির্বাচনে কর্পোরেটদের মদতপুষ্ট মোদী এবং সঙ্ঘ পরিবার ক্ষমতায় আসার জন্য কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচারে, বিজ্ঞাপনে, হুমকি, শাসানিতে নতুন নতুন অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এটা ক্রমশ বাড়তে থাকবে এবং চূড়ান্ত রূপ পাবে ২০১৯সালে নির্বাচনের আগে। আর এস এস-র জন্ম থেকেই (১৯২৫) ফ্যাসিস্তধর্মী হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ও মতাদর্শ নিয়ে তারা চলছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে এই স্লোগান ব্রিটিশদের সহায়ক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে আর এস এস নিজেদের সরিয়ে রেখে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিরূপ ভূমিকা পালন করেছিল। গান্ধী ও তার প্রেক্ষিতে আর এস এস-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং মুচলেকা দিয়ে নিজেদের সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতির পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত বলে তারা গঠন করে রাজনৈতিক দল জনসঙ্ঘ যা আজকের ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু ফ্যাসিস্তধর্মী হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আর এস এস তার সমস্ত শাখা সংগঠনগুলিকে নিয়ে একমুখী কাজ করে এসেছে। আগে যেমন তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রিয়ভাজন ছিল স্বাধীনতার পরে প্রকাশ্যে তারা আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে ওকালতি করে আসছে

তিন বছর আগে ক্ষমতায় এসেই এই হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের জন্য আর এস এস নিয়ন্ত্রিত মোদী সরকার পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করে দেয়। সরকারে আসার আগে মনমোহন সিং সরকারকে মোদী ‘মৌনমোহন সরকার’ বলে অভিহিত করে নীতি ও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে পঙ্গুত্ব প্রাপ্তির অভিযোগ নিয়ে ঢালাও প্রচার করেছিলেন। পাশাপাশি ২০০৪সালে বাজপেয়ী সরকার আমলের দরদামের স্তরে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দরদাম নিয়ে যাওয়া, কৃষকদের উৎপাদন খরচের দেড়গুণ সহায়ক মূল্য দেওয়া, বছরে দু‌কোটি যুবকের চাকরি, বিদেশ থেকে কালো টাকা ও কালোবাজারিদের পাকড়াও করে ঘরে ঘরে ১৫লক্ষ টাকা পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি অলীক স্বপ্ন যা থাকতে পারে তার সবটাই পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসেই ছুঁড়ে ফেলে দিলেন প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ ও চেষ্টা। নীতি-পঙ্গুত্ব দূর করতে মোদী সরকার বসে পড়লো আমেরিকার পদতলে। যা ইউ পি এ সরকার অনেক কসরত করেও সবটা পেরে ওঠেনি। নয়া উদারীকরণের স্টিম রোলার চরম গর্ব বা ঔদ্ধত্যের সঙ্গে পালন করে চলেছে মোদী সরকার। হিন্দুরাষ্ট্র গঠন করতে সংবিধানের মূল স্তম্ভগুলিকে ভেঙে ফেলা দরকার, সেই কাজটাই প্রধান হয়ে উঠেছে মোদী সরকারের। খোলাখুলি সাম্প্রতিক অভিযানই শুধু নয়, উন্মত্ত সাম্প্রদায়িক মেরুকরণই কেবল নয়, এই কাজ করার জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যান্য শাখাগুলিকে কাবু করে দিয়ে আর এস এস-র নিজস্ব বাহিনী দিয়ে শাসন চালানোর কাজ বেপরোয়াভাবে বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। ধর্মান্তরকরণ, গোরক্ষা, পোশাক আশাক ‘শালীন’ করা, মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করা এবং ছেলেমেয়েদের মেলামেশা বন্ধ করতে রোমিওবিরোধী বাহিনী গঠন করা ইত্যাদির মাধ্যমে হত্যা, হিংসা, হুমকি একতরফাভাবে চলছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি ইঞ্চিতে সাম্প্রদায়িকীকরণ চলছে। বদলে দেওয়া হচ্ছে ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গবেষণা সংস্থাগুলি। দেশজুড়ে এমন একটা আবহাওয়া তৈরি করা হচ্ছে যেখানে ফ্যাসিস্তসুলভ হিন্দুরাষ্ট্রের মতাদর্শের সমালোচনা বা ভিন্নমত পোষণ করলে তাদের দেশদ্রোহী, জাতীয়তাবিরোধী আখ্যা দিয়ে হুমকি, হয়রানি বা নির্যাতন করা যায়। এরকম ঘটনাবলির সংখ্যা ও হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি এর ফলে নিরীহ ধর্মপ্রাণ সংখ্যাগুরু ধর্মের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা সম্পন্ন মানুষও ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। কুসংস্কার কিংবা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে বলার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের খুন হতে হচ্ছে, আক্রমণ নেমে এসেছে অমর্ত্য সেনের মতো মানুষদের ওপরেও। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না রবীন্দ্রনাথের মতো মহান ব্যক্তিত্ব এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধারাও।

গোটা প্রশাসন, সরকারি প্রচারমাধ্যমকে একমাত্র মোদী রাজত্বের হিন্দুরাষ্ট্রের মতাদর্শ অনুযায়ী চলতে বাধ্য করা হচ্ছে। কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত এবং মধ্য ব্যবসায়ীদের বেসরকারি প্রচারমাধ্যমও সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করা হয়েছে। আর এস এস, সরকার ও কর্পোরেট চক্রের নিয়ন্ত্রণে ধীরে ধীরে সবকিছুকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

এই হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের জন্য বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করা দরকার যার কাজও মোদী সরকার শুরু করেছে। বি জে পি ৩১শতাংশ এবং সঙ্গীদের নিয়ে বি জে পি ৩৯শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তিন বছরে কর্পোরেট, গোটা মিডিয়া, সি বি আই, বিজেপি শাসিত রাজ্যে পুলিশবাহিনী, বিচার ব্যবস্থার একটা বড় অংশকে নিয়োজিত করা হয়েছে বিরোধীদের জব্দ করতে। গোটা বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে মোদী সরকার। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলিকে কুক্ষিগত করার জন্য আর্থিক চাপ এবং সি বি আই-র চাপ ক্রমশ বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। বামপন্থীরা ছাড়া অন্য দলগুলি বা তাদের নেতাদের আর্থিক ও অন্যান্য দুর্বলতাকে ব্যবহার করে পেশি ও অর্থবল কিংবা সি বি আই-র মাধ্যমে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। গুজরাটে অতি সম্প্রতি রাজ্যসভার নির্বাচনে উৎকটভাবে বি জে পি-র এই কদর্য কৌশল সামনে এসেছে। তামিলনাড়ু অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, বিহার ইত্যাদি রাজ্যের ঘটনাবলির এই ধারা চলছে। অন্ধ না সাজলে কারোর দেখার অসুবিধা হয় না যে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস আর এস এস- বি জে পি-র সবচেয়ে বিশ্বস্ত বাহন হিসেবে কাজ করছে। ব্যবস্থাপনা হলো নারদা-সারদা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশ, চরম আর্থিক নৈরাজ্য ইত্যাদি গুরুতর অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে মোদী সরকার তার মান রাখার জন্য মাঝেমধ্যে চিমটি কাটবে আর এর বেশি কিছু রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে করবে না। বিনিময়ে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে সঙ্ঘ পরিবারকে সবরকম সাহায্য করবে এবং তর্জন গর্জনে বি জে পি-র বিরুদ্ধে চিমটি কাটবেন রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বেশ্বরী; সর্বোপরি সঙ্ঘ পরিবারের অতি বিশ্বস্ত মজুতবাহিনী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে। এরাজ্যে বামপন্থীদের ওপর ফ্যাসিস্তসুলভ কায়দায় নৃশংস বর্বরতা চালাতে ও গণতন্ত্রবিধ্বংসী কার্যকলাপে এবং নীতিতে গাঁটছড়া বাঁধা তৃণমূল কংগ্রেস এবং আর এস এস-বি জে পি’র। নির্বাচনে এসব দলগুলির ভাণ্ডারে মজুত হয়ে চলেছে শত শত বা হাজার হাজার কোটি টাকা। আইনে এমন সংশোধনী করা হয়েছে যাতে কর্পোরেটরা এই দলগুলি বা তাদের নেতাদের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিলেও নাম গোপন থাকবে। মাফিয়াচক্র এদের দ্বারা পুষ্ট। তুলে দেওয়া হয়েছে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ বিধি। এর পরিবর্তন না হলে গণতন্ত্রের কিছু আর অবশিষ্ট থাকে না। ফ্যাসিস্ত আর এস এস নিয়ন্ত্রিত মোদী সরকারের শাসনে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংসদীয় গণতন্ত্র চরম বিপদের সম্মুখীন যা স্বাধীনতার পর দেখা যায়নি। আগামী পাঁচ বছর মোদী এই ভয়াবহ রাস্তায় দেশকে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প ঘোষণা করছেন এই স্বাধীনতা দিবসে।

আবর্জনা উৎপাদনকারীরা কী করে স্বচ্ছ ভারত গড়বে? দানবীয় হারে বাড়ছে বেকারি, কর্মচ্যুতি, দরদাম, দারিদ্র, জাতবৈষম্য, গণতন্ত্রধ্বংস ও সাম্প্রদায়িকতা। চলছে বেলাগাম বেসরকারিকরণ — ব্যাঙ্ক, বিমা, রেল, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র এমনকি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষায় সরঞ্জাম উৎপাদনও। স্বাস্থ্য, শিক্ষা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে দ্রুত চলে যাচ্ছে। কর্পোরেটদের এত সুখের পৌষমাস আগে কখনও দেখা যায়নি। দশ শতাংশের হাতে দেশের নব্বই শতাংশের সম্পদ। এগিয়ে চলেছে দেশ! এটাই হিন্দুরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে চলার ধারা। বীভৎস ‘মনুস্মৃতি’কে পালিশ করে দেশের সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে সঙ্ঘ পরিবার। এটা হয়ে উঠবে ‘মোদীস্মৃতি’! বিপন্ন ভারতীয় জাতিসত্তা, ভারতীয় গণতন্ত্র, দেশ ও দেশবাসীর ভবিষ্যৎ।

স্বাধীনতা সংগ্রামে চব্বিশ বছর বয়সে বীর শহীদ চন্দ্রশেখর আজাদ স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন ব্রিটিশ শাসনের নৃশংসতার বিরুদ্ধে তোমাদের রক্ত যদি গরম না হয় তাহলে বুঝবো তোমাদের শিরায় রক্ত নয়, বইছে জল। আজ স্বাধীনতার ঐতিহ্য, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও আর্থিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জেগে ওঠার সময়, আপসহীন প্রতিবাদ ও লড়াই করার সময়।