কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা প্রতিকার,
প্রতিরোধ নিয়ে কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই আগস্ট— কর্মক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন মহিলারা। বিভিন্ন ঘটনায় যাদের নাম জড়িয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত, সেই সংখ্যাও কম নয়। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা সেই রাজ্যে লাগাতার ঘটে চলেছে যৌন হয়রানি। রাস্তাঘাটে তো বটেই, রেহাই নেই কর্মক্ষেত্রেও। নির্বিকার প্রশাসন। কর্মক্ষেত্রে মহিলাকর্মীদের ওপর ঘটে চলা যৌন হয়রানি প্রতিকার ও প্রতিরোধ করতে রবিবার সি ‌আই টি ইউ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি একটি কর্মশালার আয়োজন করে।

যৌন হয়রানি কেবল উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত সমাজের মহিলাদের নয়— বয়স, শ্রেণি, ধর্ম নির্বিশেষে সব মহিলাদেরই সমস্যা। এদিনের কর্মশালায় বলা হয়, মহিলাদের ওপর এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ব্যাপারে সি আই টি ইউ ওয়ার্কিং কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি এরকম যাতে না হয় তাও নজরদারি করা হবে সি আই টি ইউ-র পক্ষ থেকে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, শ্যামল চক্রবর্তী, দীপক দাশগুপ্তসহ সি ‌আই টি ইউ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি সুভাষ মখার্জি, সম্পাদক অনাদি সাহু, গার্গী চ্যাটার্জি, রত্না দত্ত, মধুমিতা চ্যাটার্জি। রত্না দত্ত জানান, ‘‘যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে তা আগে কখনও দেখিনি।’’

জাতীয় মহিলা কমিশনের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যৌন হেনস্তার ১৯৭ শতাংশ অভিযোগ বেড়েছে। ২০১৬ সালে তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ক্ষেত্রে বিগত বছরের তুলনায় আরও ২৫ শতাংশ যৌন নিগ্রহ বেড়েছে। রাজ্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সমস্যার শিকড় বর্তমান প্রচলিত সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিহিত। সমাজ বিকাশের ধারায় বিশ্বাসী একটি শ্রমিক সংগঠন হিসেবে সি ‌আই টি ইউ-র ওপর বাড়তি দায়িত্ব বর্তায়। কর্মক্ষেত্রে যৌন নিগ্রহ রুখতে এদিনের কর্মশালায় কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জেলাস্তরে সি ‌আই টি ইউ-র সদস্যদের মধ্যে এই ধরনের কর্মশালা পরিচালনা করা সহ, অন্যান্য মহিলা শাখা সংগঠনের সঙ্গে যৌথ মঞ্চ গড়ে তোলা। সরকারি, বেসরকারি ক্ষেত্রে অভিযোগ সংগ্রহ এবং সংগঠন সহযোগী শাখা-সমিতিগুলির মাধ্যমে কলকারাখানা এবং প্রতিষ্ঠানে বাড়তি সচেতনতা গড়ে তোলা প্রভৃতি।

Featured Posts

Advertisement