আগমনীতেই বড়
দলকে হারালো পাঠচক্র

পাঠচক্র ৪ (সানডে, মনোতোষ, বাবুন-২)মহমেডান ২ (দিপান্দা-২)

দীপঙ্কর ঘোষাল

কল্যাণী ১৩ই আগস্ট — সময়টা কম নয়। ৩৬ বছর লিগ জেতেনি মহমেডান। এবারও হার দিয়েই মরশুম শুরু। প্রাক মরশুমে দুর্দান্ত অনুশীলন করেছে মহমেডান। কল্যাণীতে আবাসিক শিবিরেরও ব্যবস্থা করেছিলেন কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। আদতে তা কতটা কাজে দিয়েছে, প্রশ্ন থেকেই যায়। মহমেডানের চার গোল খাওয়ার ম্যাচে তাঁদের ডিফেন্সের অবদানও কম নয়। এবারই প্রথম প্রিমিয়ার ডিভিসনে খেলার সুযোগ পেয়েছে পাঠচক্র। স্নেহাশিস, বুধিরাম বা লালকমলদের বাদ দিলে কার্যত শিক্ষানবীশ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দল। কিন্তু কাজে অনেক পরিণত। প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মহমেডান স্পোর্টিংকে ৪-২ গোলে হারালো পাঠচক্র।

শুরু থেকেই নড়বড়ে মহমেডান রক্ষণভাগ। মাঝমাঠের সঙ্গে বোঝাপড়ার বালাই নেই। দেখে মনে হতে পারে, ১১জন ফুটবলারই খেলছে, একটা দল নয়। ম্যাচের ৩০মিনিটে মহমেডান বক্স থেকে বুধিরাম টুডুর টোকা, বল পোস্টে লাগে। মাথায় হাত মহমেডান গোলকিপার শঙ্কর রায়ের। একটা বিপদ থেকে বাঁচলেন। দ্বিতীয়বার রক্ষা পেলেন না। ৩৬ মিনিটে নিজেদের বক্সে বল ক্লিয়ারের চেষ্টা করেন প্রণীত লামা। তাঁর শট, পাঠচক্রের জোয়েল সানডের গালে লেগে গোলে। মহমেডানের তিন ডিফেন্ডার রিচার্ড, রানা, লামা সেখানে উপস্থিত। গোলকিপার শঙ্কর বল ধরার জন্য এগিয়ে আসছিলেন। তার আগেই গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে দলে প্রহ্লাদের জায়গায় তারিককে নামান মহমেডান কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। ৫৮ মিনিটে মনোতোষ চাকলাদার যেভাবে ডাইভিং হেডে গোল করলেন সেক্ষেত্রে মহমেডান ডিফেন্সের কিছুই করার ছিলো না। হেড করার সময় বল দারুণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। গতবার আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা দিপান্দা ডিকা এবার মহমেডানে। ৬৪ মিনিটে শেখ ফায়াজের ক্রস থেকে সাইডভলিতে গোল দিপান্দার। ৬৭ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দ্বিতীয় গোল দিপান্দার। জোড়া গোলে সমতা ফিরিয়েও খুশি হতে পারলেন না দিপান্দা।

মহমেডান ডিফেন্সের যে হাল, তাতে গোল ধরে রাখতে পারবে না সেটা পরিষ্কারই ছিলো। ৭০ ও ৮৩ মিনিটে পরপর দুটি গোল করেন পাঠচক্রের বাবুন দাস। চোটের কারণে এক বছরের বেশি সময় মাঠের বাইরে ছিলেন বাবুন। প্রত্যাবর্তনে জোড়া গোল, সহায়তা একটি গোলের। নৈহাটির বাবুন কলকাতা ময়দানে আগামীর তারকা, বলাটা বোধ হয় খুব ভুল হবে না। ম্যাচ হেরে মহমেডানের তারকা ফুটবলার দিপান্দা ডিকা বলছেন,‘জোড়া গোলে খুশি হতে পারছি না। প্রথম ম্যাচে এমনটা হতে পারে। আশা করি ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।’ মহমেডান কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওরা যে গোলগুলি করেছে, আদতে সেগুলি আমাদেরই করা। মনোতোষের গোল ছাড়া সব আমাদের ডিফেন্সের ভুলে হয়েছে।’ পাঠচক্রের কোচ পার্থ সেন বলছেন, ‘মহমেডান নামে বড়, দল হিসেবে আমাদের সমানই মনে হয়েছে।’



মহমেডান : শঙ্কর, প্রণীত (অঙ্কিত), রিচার্ড, রানা, অমিত, দীপেন্দু, ফায়াজ, তীর্থঙ্কর (মমতাজ), প্রহ্লাদ (তারিক), দিপান্দা, জিতেন।