উত্তর দিনাজপুরে
বন্যাদুর্গত লক্ষাধিক মানুষ 

নিজস্ব সংবাদদাতা

রায়গঞ্জ, ১৩ই আগস্ট — বন্যার জলে প্লাবিত একের পর এক গ্রাম। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটছেন দুর্গত মানুষেরা। মাথায় বাক্স, কোলে গবাদি পশু নিয়েই একটু আশ্রয়ের খোঁজে পথে নেমেছেন তাঁরা। সূর্যাপুর, বস্তাডাঙ্গি, আগডিমটি, ভিটিয়ার, এলিঙ্গা, বাহিন,  ডাইটন, কানকি, চুটিয়াখোর, নন্দনগছ, মোহনা, পাঁচভায়া,  ভরতপুর, বাহিন, গৌড়ি, জুগিয়ামেড়, ডালিমগাও, উত্তর গৌরীপুর সর্বত্র একই অবস্থা। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা নেই পঞ্চায়েত সদস্যদেরও। এই অভিযোগ, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, কালিয়াগঞ্জ, চাকুলিয়ার বন্যা দুর্গতদের।

চারিদিকে শুধু জল আর জল। উঁচু আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। কুলিকের জঙ্গলে ঝড় বৃষ্টিতে পরিযায়ীদের বাসা ভেঙেছে। বহু ডিম ভেঙে নষ্ট হয়েছে। শনিবার সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নাগর, কুলিক, মহানন্দা, গান্ধার, শ্রীমতি, সুঁই নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। রবিবার পর্যন্ত সামান্য পলিথিন টুকু জোটেনি। প্রশাসনের দেখা নেই। প্লাবিত গ্রামগুলিতে পৌঁছালেন সি পি আই (এম) নেতারা। পার্টির জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল, পার্টিনেতা দিলীপনারায়ণ ঘোষ, উত্তম পাল উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। এদিকে ইসলামপুরে বিভিন্ন গ্রামেও যান পার্টিনেতারা। পণ্ডিতপোতা, আগডিমটি, নন্দনগছ, গোয়াবাড়ি, টিকাপাড়া এলাকার শিশু ও অসুস্থদের কিছু খাবারের জন্য হন্যে হয়ে ছুটলেন ডি ওয়াই এফ আই কর্মীরা। মরাগতি ক্যাম্পে ত্রাণ পৌঁছে দেন ডি ওয়াই এফ আই কর্মীরা। রায়গঞ্জের ভিটিয়ারের কয়েকশো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ফ্লাড সেন্টারে। 

প্রবল বৃষ্টিতে বীণা নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে গ্রামে। প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে, দুর্গত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের দাবিতে রবিবার ইটাহারের দুর্গাপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। মানুষের অভিযোগ এর আগে প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও দুর্বল বাঁধ মেরামতির কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। টানা প্রবল বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে দুর্গাপুরের আমলাপাড়া গ্রামে জল ঢুকছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। মহালদার পাড়া এলাকার ২০০ পরিবার জলবন্দি। প্রবীণ নীরেন মহালদার বলেন, প্রশাসন কোথায়? নাগর নদীর ধারে গ্রাম আছে প্রশাসন জানে না। গোটা গ্রামের ৩০০ মানুষ খোলা আকাশের নিচে। 

সি পি আই (এম) জেলা সম্পাদক অপূর্ব পালের অভিযোগ, দফায় দফায় এস ডি ও কে ফোন করা হয়েছে। কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন মানুষের পাশে নেই। রাস্তার উপর দিয়ে জল বইছে। বাড়ি ঘর ভেসে যাচ্ছে। প্রশাসনের কর্তাদের মোবাইলের সুইচ অফ। জেলাপরিষদ, পঞ্চায়েত সদস্যরা হাত গুটিয়ে বসে আছে। দুর্গত মানুষের সাহায্যে সর্বতোভাবে এগিয়ে এসেছে পার্টিকর্মীরা।