তিস্তায় হলুদ সংকেত জারি
মেখলিগঞ্জে ত্রাণ নিয়ে দলবাজির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা

কোচবিহার, ১৩ই আগস্ট— ত্রাণ নিয়ে ব্যাপক দলবাজির অভিযোগ এনে রবিবার মেখলিগঞ্জ পৌর ভবনের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন মেখলিগঞ্জ শহরের বন্যা-কবলিত মানুষ। ১৯৮৭ সালের পর এই মেখলিগঞ্জ শহর ফের বন্যার মুখে। এদিন বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এই শহরের নিকাশি নালাগুলির ওপর তৃণমূল পরিচালিত এই পৌরসভা জবরদখলকারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ছাড়পত্র দেবার কারণে শহরের প্রায় আটটি ওয়ার্ডই প্লাবিত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরের বাজার সংলগ্ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বামফ্রন্টের হবার কারণে রবিবার সকাল পর্যন্ত বেছে বেছে শাসকদলের ঝান্ডাধারীদের ত্রিপল কিংবা শুকনো খাবার বণ্টন করা হচ্ছে। এছাড়াও চূড়ান্ত দলবাজির অভিযোগ উঠেছে গোটা মেখলিগঞ্জ ব্লকেও। সংশ্লিষ্ট ব্লক কার্যালয় থেকে ত্রাণ বণ্টনের পরিবর্তে শাসকদলের ব্লক সভাপতি তপন দামের বাড়ি থেকে ত্রাণ বণ্টন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সি পি আই (এম) নেতা দীপক গুহ।

এদিকে তিস্তা নদীতে হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে। মেখলিগঞ্জের তিস্তা চরের মানুষদের ২৪ঘণ্টা পরেও উদ্ধার করতে ব্যর্থ প্রশাসন। ৪৮ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুচলিবাড়ি এলাকার ডাকুয়াটারি গ্রামের জলবন্দি মানুষদের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছায়নি।

মাথাভাঙা মহকুমার ৩টি ব্লকের ২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২৪টিই বন্যা কবলিত। কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, আমন মরশুমের ৮০ শতাংশ ধানই এই মুহূর্তে জলের তলায়। আগামী তিনদিনের মধ্যে বন্যার জল না সরলে ধানের ফলন ব্যাপকহারে মার খাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়াও মাথাভাঙা, মেখলিগঞ্জ এবং দিনহাটা মহকুমার পাটচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে। পাট পচানোর জন্য বোঝা বেঁধে বিভিন্ন খাল-বিলের জলে ভিজিয়ে রাখা এই পাটের অধিকাংশ বোঝা বন্যার জলের তোড়ে ভেসে গেছে। এর পাশাপাশি চরম ক্ষতির সম্মুখীন জেলার সবজি চাষিদের একটি বড় অংশ। এই বন্যায় মাথাভাঙা, মেখলিগঞ্জ এবং দিনহাটা মহকুমায় চাষের ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতি হলেও, রবিবার পর্যন্ত কৃষিদপ্তর কোনও রিপোর্ট তৈরি করেনি এবং অধিকাংশ কৃষিদপ্তরই রবিবার বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ। এদিকে তিস্তা, মানসাই, ডুডুয়া নদীর জল কমলেও, রবিবার মাথাভাঙা শহরের ৩, ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে হাঁটুজল। এমনকি মাথাভাঙা পৌরসভার পৌরকর্মীদের পৌর ভবনে ঢুকতে হচ্ছে জল ডিঙিয়ে।

জেলার দিনহাটা মহকুমাতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, এই মহকুমার শালমারা, শুকারুর কুঠি, নয়ারহাট ‍ গীতালদহ, বড় শৌলমারি, জারি ধারলা, দরিবশ সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে পড়ে থাকলেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই বলে উঠেছে অভিযোগ। একই অবস্থার সম্মুখীন এই মহকুমার নব্য ভারতীয় সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের। প্রশাসনের কোনওরকম সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে একপ্রকার বাধ্য হয়েই পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ সীমানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন জারি ধরলা, দরিবশ সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষ। (ছাড় আছে)