উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতিতে বাতিল
একাধিক ট্রেন, তীব্র নাকাল যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা ও শিলিগুড়ি, ১৩ই আগস্ট— উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির জেরে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে বাতিল হয়েছে বহু ট্রেন। ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। কলকাতা থেকেও একাধিক উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন বাতিল হয়েছে রবিবার। উত্তরবঙ্গের একাধিক যাত্রী স্টেশন থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ট্রেন বাতিলের পাশাপাশি রবিবার রেল আধিকারিক থেকে রেলকর্মীদের চূড়ান্ত ব্যর্থতা, অসহযোগিতায় আরও নাকাল হয়েছেন যাত্রীরা। সপ্তাহ ধরে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গজুড়ে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন বহু রেল স্টেশন। জলের তলায় চলে গিয়েছে কিষানগঞ্জ স্টেশনের রেললাইন। যার জেরে শনিবার শিয়ালদহ, কলকাতা এবং হাওড়া স্টেশন থেকে নিউ জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, গুয়াহাটি তিনসুকিয়া এবং ডিব্রুগড়গামী ট্রেন ছাড়লেও রবিবার সকালে কিষানগঞ্জের আগে এসে দাঁড়িয়ে যায় প্রতিটি ট্রেনই। রেলের দাবি, নেপাল থেকে অতিমাত্রায় জল ছাড়ার কারণেই নাকি এই বিপত্তি।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে বাতিল করা হয়েছে শিয়ালদহগামী ডাউন পদাতিক এক্সপ্রেস। রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, আরও বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হতে পারে। শনিবার এবং রবিবার প্যাসেঞ্জার ও দূরপাল্লার ট্রেন মিলিয়ে ১৫টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে অপেক্ষারত এক ক্ষুব্ধ যাত্রী পি আগরওয়ালের কথায়, ‘শনিবার রাত নটায় পদাতিক এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ছিল। প্রথমে ঘোষণা হলো, ট্রেন চার ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। তারপর রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ জানানো হলো, ট্রেন রাত দুটো নাগাদ ছাড়বে। দুটোর সময়ও ট্রেন না ছাড়ায় অনুসন্ধান কাউন্টারে গিয়ে ট্রেন ছাড়ার সঠিক সময় জানতে চাওয়া হলে তখন বলা হয়, ভোর চারটের সময় ছাড়বে ট্রেন।’ কিন্তু ভোর চারটেতেও ট্রেন ছাড়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা না দেওয়ায় যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আগরওয়াল জানান, যাত্রীরা সবাই মিলে স্টেশন মাস্টারের ঘরে গেলে দেখা যায় তিনি সেখানে নেই। অসন্তোষ তৈরি হয় প্রত্যেকের মধ্যেই। রাতভর সময় পরিবর্তন করতে করতে রবিবার সকালে গিয়ে শিয়ালদহগামী পদাতিক এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জানানো হয়, ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

শিশু, মহিলাসহ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে আটকে পড়েছেন একাধিক যাত্রী। তাঁদের অভিযোগ, রেল আধিকারিকদের যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে কোনও হেলদোলই নেই। কোন ট্রেন কখন ছাড়বে বা কোন ট্রেন বাতিল করা হলো, সেই বিষয়েও সঠিক কোনও তথ্যও যাত্রীদের দিতে পারছেন স্টেশনের আধিকারিকরা। ফলে চূড়ান্ত হয়রানি সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মে বসেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

রবিবার মুরারই স্টেশনে ১০ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে দার্জিলিঙ মেল। সেখানেও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ ওই স্টেশনে ঘোষণা হয়, উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণে ট্রেন গন্তব্যের দিকে এগতে পারছে না। মালদহ লোকালে যাত্রীরা মালদহ পর্যন্ত যেতে পারবেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার জেরে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশন মাস্টারের কাছে বিক্ষোভ দেখান। তারপর দুপুর ১২টা নাগাদ ফের ঘোষণা করা হয়, ট্রেনটি আবার কলকাতায় ফিরে যাবে। অবশেষে রবিবার দুপুর ১২টা ৪৫ নাগাদ দার্জিলিঙ মেল মুরারই থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির জেরে হাওড়া, শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গগামী বহু ট্রেনই যাত্রাপথের মাঝে আটকে গিয়েছে। রেলের তরফে জানা গিয়েছে, শনিবার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ছাড়ার পর ১২৩৪৩ দার্জিলিঙ মেল, ১২৩৭৭ পদাতিক এক্সপ্রেস মুরারই ও ছাত্রা স্টেশনে আটকে যায়। ১২৫০৩ বেঙ্গালুরু-কামাক্ষ্যা এক্সপ্রেস বাঁশলোই ব্রিজ স্টেশনে আটকে যায়। ১৩১৪৭ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ও ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস শনিবার শিয়ালদহ থেকে ছাড়লেও মালদহ টাউন স্টেশনে থামিয়ে দিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেন হিসাবে শিয়ালদহে পাঠানো হয়েছে। ১৫৬৫৯ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস রবিবার ও সোমবার শিয়ালদহ থেকে ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু তা বাতিল করা হয়েছে। রেলের তরফে সমস্ত শাখার ডি আর এম-কে বড় স্টেশনগুলির ওপর সোমবার নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্টেশনগুলিতে যাতে পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জলের জোগান থাকে, তা ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। যাত্রী সুরক্ষার দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।