অগোছালো সাদার্নের
বিরুদ্ধেই আজ অভিযান শুরু

সাত বছরের লিগের খরা কাটাতে মরিয়া সবুজ মেরুন

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৩ই আগস্ট — রবিবারের সকাল। ছুটির দিনে তখন সবে আড়মোড়া ভাঙছে শহর কলকাতা। ধর্মতলা চত্বরে রোজের ব্যস্ততা নেই। গাড়ির ভিড় নেই। ট্রাফিক সার্জেন্টও তাই কিছুটা ছুটির মুডে। কিন্তু ঢিল ছোড়া দুরত্বে পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ আলাদা। ছুটি, আলসেমি, কুড়েমি শব্দগুলোর সেখানে প্রবেশ নিষেধ। রবিবারের সকালে মোহনবাগান তাঁবু জুড়ে শুধুই দুটি শব্দ ঘুরপাক খাচ্ছিল, ‘জিততেই হবে।’ দীর্ঘ সাত বছর কলকাতা লিগ ঢোকেনি সবুজ মেরুন তাঁবুতে। প্রতিবারই জিতেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব। তাই জ্বালাটা অনেকটাই বেশি। আই লিগ জয়ের পর পড়শি ক্লাবকে পিছনে ফেলা গেছে ঠিকই কিন্তু মনের কোথাও একটা না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েই গেছে। তাই এবার ঘরোয়া লিগ ঘরে তুলতে মরিয়া মোহনবাগান। সোমবার সাদার্ন সমিতির বিরুদ্ধে লিগ অভিযান শুরু করছে শংকরলাল চক্রবর্তীর দল। তার আগের দিন অনুশীলনে বেশ সিরিয়াস মোহনবাগান ফুটবলাররা। প্রতিপক্ষের অবস্থা একদমই ভালো নয়। বিভিন্ন বিতর্কে একসময় দল না নামানোরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সাদার্ন। শেষপর্যন্ত কোনমতে জোড়াতাপ্পি দিয়েই দল গড়েছেন সাদার্ন কর্তারা। প্রথম ম্যাচের আগে মাত্র তিন দিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলেন সাদার্ন কোচ হেমন্ত ডোরা।

রবিবার অনুশীলনে মূলত টিম কম্বিবেশন তৈরির উপরই জোর দিয়েছিলেন শংকরলাল চক্রবর্তী। সেটপিস অনুশীলনও চললো বেশ কিছুক্ষণ। লিগের প্রথম ম্যাচে বড় জয় দিয়ে শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল। লাল হলুদের উপর চাপ রাখতে বড় জয় চাইছে মোহনবাগানও। আর বড় জয়ের জন্য মূলত আক্রমণের বিদেশি জুটি কামো এবং ক্রোমার দিকেই তাকিয়ে সবাই। প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের হয়ে মাঝমাঠে খেলার সম্ভাবনা চেস্টারপল লিঙডো, সৌরভ দাস, রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ এবং পিন্টু মাহাতোর। রক্ষণে চোট আছে অভিষেক দাসের। তাই রাইটব্যাক পজিশনে অভিষেক হচ্ছে অরিজিৎ বাগুই। লেফট ব্যাক রিকি। স্টপারে জুটি বাধবেন কিংশলে এবং কিংশুক। তবে গোলে শিলটন খেলার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও খেলতে পারেন শিবিনরাজও।

সব মিলিয়ে ভালো শুরুর অপেক্ষায় মোহনবাগান। ভালো শুরুর অপেক্ষায় মোহনবাগান কোচ শংকরলাল চক্রবর্তীও। ‘আম শুরুর অপেক্ষায়। দেখা যাক কেমন শুরু হয়। তবে আমাদের দল তৈরি। আমরা অনেকগুলো অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি। তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ আলাদা। তবে আমিশুধু বিদেশি নয় পুরো দলের উপর নির্ভরশীল। সাদার্নের যাই অবস্থা হোক সহজ হবে না ম্যাচটা। তবে আমাদের একটাই লক্ষ্য। চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’ প্রতিজ্ঞতার সুর শংকরলালের গলায়। তবে শংকরলাল যাই বলুন। প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচে জয় পুরোটাই নির্ভরশীল কামো এবং ক্রোমা জুটির উপরই। কামো বলছেন, ‘ক্রোমার সঙ্গে আমার জুটি খুব ভালো খেলবে। তবে, সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার আমার লক্ষ্য নয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই লক্ষ্য।’ অন্যদিকে ক্রোমা জয়ের বিষয়ে ২০০ শতাংশ আশাবাদী। ‘আমরা চাপে নেই, কারণ আমরা জানি আমরা জিতবোই।’