সোপিয়ানে গুলির লড়াইয়ে নিহত
হিজবুল কমান্ডার গজনভি

সংবাদসংস্থা

শ্রীনগর, ১৩ই আগস্ট — দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ানে শনিবার রাত থেকে চলা গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে হিজবুল মুজাহিদিনের চিফ অপারেশনস কমান্ডার ইয়াসিন ইট্টু ওরফে গজনভি। এই গুলি বিনিময়ে গজনভি ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে আরও দুই সন্ত্রাসবাদী ছাড়াও দুই সেনা জওয়ানেরও। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাতে সোপিয়ানের আবনিরা গ্রামে অভিযান চালায় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সেনা ও সি আর পি এফ-কে নিয়ে তৈরি স্পেশাল অপারেশন্স গ্রুপ (এস ও জি)। সোপিয়ানে যে জায়গায় সন্ত্রাসবাদীরা আত্মগোপন করেছিল, তা ঘিরে ফেলে জওয়ানরা। নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে দাবি, বাহিনীকে দেখেই তাদের দিকে গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীরা। গুলিতে পাঁচ জওয়ান জখম হয়। পরে, তাঁদের মধ্যে ২জনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। এর ফলে, বাহিনীকে ভোর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। যদিও, রাতভর বিক্ষিপ্ত গুলি বিনিময় চলে দুপক্ষের মধ্যে। কিন্তু, দিনের আলো ফোটার পর পুরোদমে পালটা হামলা চালায় বাহিনী। তাতেই তিন সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যু হয়। নিহত সন্ত্রাসবাদীদের শনাক্ত করা হয়েছে, ইয়াসিন ইট্টু, ইরফান, প্রযুক্তি-দুরস্ত এই সন্ত্রাসবাদীই হিজবুলের অনলাইন প্রচারের দায়িত্বে ছিল এবং ইট্টুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উমর।

গোয়েন্দাদের দাবি, মধ্য কাশ্মীরের বাদগাম জেলার বাসিন্দা ইট্টু দীর্ঘদিন ধরেই হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে জড়িত। গত বছর বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকে উপত্যকায় অশান্তি ছড়ানোর নেপথ্যে ইট্টুর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ইট্টু ১৯৯৬ সালে হিজবুলে যোগ দেয়। ২০০৭ সালে সে একবার আত্মসমর্পণ করেছিল। পরে ২০১৪ সালে প্যারোলে মুক্তি পায়। সেই সময় সে আবার সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীতে নাম লেখায়। এবার সে স্বঘোষিত অপারেশন্স প্রধান হয়ে ওঠে।

শনিবারের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে দুই সেনা জওয়ানও। নিহতদের মধ্যে রয়েছে পি ইলিয়ারাজা এবং গাবাই সুমেধ ওয়ামান। ইলাইয়া রাজার বাড়ি তামিলনাড়ুর কান্দানি গ্রামে। ওয়ামান মহারাষ্ট্রের লোনাগ্রা গ্রামের বাসিন্দা। —পি টি আই/ইউ এন আই

জখম হয়েছে আরও এক ক্যাপ্টেনসহ তিনজন

পাক সেনার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন: জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় শনিবার দুদফায় সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তানের সেনা। তাতে এক জওয়ান ও এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ ভারতীয় সেনা চৌকিগুলি লক্ষ্য করে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালাতে শুরু করে পাক বাহিনী। পালটা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাও।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাক বাহিনীর গুলিতে মধ্য প্রদেশের বাসিন্দা নায়েব সুবেদার জগরাম সিংহ তোমর (৪২) গুরুতর জখম হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গোললাদ কালরান গ্রাম লক্ষ্য করে পাক সেনার নির্বিচার গুলি বর্ষণে ৪০বছরের এক মহিলার মৃত্যু হয়।