Post Editorial

নির্বাচনী গণতন্ত্রে কারচুপির পর্দাফাঁস

সম্পাদকীয় বিভাগ

নীলোৎপল বসু

অতি সম্প্রতি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বাগ্মী নীরবতা একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে পর্যবসিত হয়েছে। তিনি মত দিয়েছেন যে, কিছু নাগরিকের ‘সামান্য অসুবিধা’ সত্ত্বেও, একটি ‘সুষ্ঠু নির্বাচন’ পরিচালনার জন্য ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধ করতে দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু, সেই নিরীহ মন্তব্যটি এখন হিমশৈলের চূড়ামাত্র বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
প্রকৃত বিস্ফোরণটি ঘটল গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রথম পাতায়। স্বাধীন মূলধারার গণমাধ্যমের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি নিয়ে যেখানে সংশয় বিরাজ করছে, এমন এক আবহে রিতিকা চোপড়ার নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপের পর্দাফাঁস করে একটা বোমা ফাটিয়েছে। প্রতিবেদনটি আসলে সেইসব বাস্তব তথ্য তুলে ধরেছে যা বেশ কিছুদিন ধরেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত আইনে এটি খুব স্পষ্ট করা আছে যে কমিশনের কার্যক্রমে তিনজন কমিশনারই সমান অংশগ্রহণকারী। যদিও, অন্য দুই কমিশনারের ১৪টি আপত্তি সত্ত্বেও, জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে এগিয়ে গেছেন, যার ফলে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিবেক জোশীর কাছ থেকে একটি গুপ্ত নোট আসে যে এটি ছিল ‘অননুমোদিত এবং অবৈধ’।
কতবার এরকম সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছিল, সেটা প্রশ্ন নয়। এই তথ্য ফাঁসের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এর সারবত্তাকে  আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে। আপত্তি বা মতবিরোধগুলোকে সাধারণ বিবাদ হিসাবে তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 
প্রথমত, এখন এটা স্পষ্ট হচ্ছে যে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করার সময়ে কেন ২০০২-০৩ সালের কার্যবিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এসআইআর কার্যক্রমে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা, যদি আদৌ প্রয়োজনীয় ছিল কিনা, সেটা করতে হলে সংসদকে জানানো ছাড়াই জনগণকে অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের জন্য ফর্ম ৬ তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। এটি নির্বাচনের আইনি কাঠামোর লঙ্ঘন হবে, নির্বাচন কমিশনের অপর দুই সদস্য সান্ধু এবং যোশী, উভয়েই এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এটা অদ্ভুত যে তা সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমার এগিয়ে যান এবং সেই আপত্তিকর বিষয়টিই সরকারি সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছিল।

দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সামনে এসেছিল, তা ছিল এসআইআর পরিচালনার সাংগঠনিক কাঠামো। আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হলেন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও)। একেবারে গোড়ার পর্যায়ের কাজটি করেন বিএলও এবং পরবর্তীতে ইআরও তা সংকলন ও চূড়ান্ত করেন। আইনত এভাবেই সংশোধনের প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সফটওয়্যার ব্যবহারের অজুহাতে, এই প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশনের আইটি প্রধানের অধীনে কেন্দ্রীভূত করা হয়। কমিশনের সম্পূর্ণ অজান্তেই নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগের প্রাক্তন প্রধানকে অপসারণ করা হয় এবং নতুন প্রধান সীমা খান্না একচেটিয়াভাবে শুধুমাত্র জ্ঞানেশ কুমারের কাছে রিপোর্ট করতে শুরু করেন।
দুই কমিশনার এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, দায়িত্বের পরিবর্তন এবং আইটি প্রধানের বদলির বিষয়টি সম্পূর্ণ কমিশনে আলোচনা করা হয়নি এবং এটি ছিল অননুমোদিত। এর ফলস্বরূপ, কোনও প্রকার নিরীক্ষা ছাড়াই ভোটার তালিকার ডেটাবেস কেন্দ্রীভূত করা হয়। এটিও ছিল দুই কমিশনারের উত্থাপিত আরেকটি বিষয়।
এর অর্থ ছিল যে, নিম্নস্তরকে এড়িয়ে সহজেই ভোটার তালিকায় কারচুপি করা যেতে পারে এবং এই কেন্দ্রীভূত শীর্ষ সংস্থার খেয়ালখুশিমতো নাম যোগ বা বাদ দেওয়া যেতে পারে। গোয়ার ঘটনায় এবং পশ্চিমবঙ্গে ১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য যথেচ্ছভাবে আবেদন দাখিলের ঘটনায় এটি স্পষ্ট হয়েছে। কমিশনাররা জানতে চেয়েছিলেন, কে এই বাদ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) দাখিল করা হলফনামা থেকে এটিও স্পষ্ট যে, পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে ব্যর্থ হওয়া ২৭লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২২লক্ষ আবেদন করেছিলেন (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দাবির বিপরীতে)। কিন্তু, বাকি ১৬ লক্ষ ভোটারের নাম অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ৩৮লক্ষ ভোটার জুডিশিয়াল ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা সম্পন্ন হতে ১২ বছর সময় লাগবে।
সার সংক্ষেপে, এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই তথ্য ফাঁসটি এমন উপসংহারে পৌঁছেছে যে আমাদের নির্বাচনী গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। গত বছর বিহারে এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে এটি শুধু নির্বাচন পরিচালনাকেই নয়, দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করেছে। এখন পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, এই প্রক্রিয়ার বিষয়বস্তু ছাড়াও স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা, নির্বাচন কমিশনের সততাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। 
ভোটার তালিকা তৈরির শুরু থেকে ব্যবহৃত পদ্ধতি অনুসারে, ২০০২-০৩ সালের কার্যক্রমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কোনও আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ২০২৫সালে শুরু হওয়া কার্যক্রমে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়, যেখানে ভোটারদের আবেদনপত্রের সাথে ১১টি নথি জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়, যা ভোটার তালিকায় তাদের স্থানকে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করবে। ২০০২-০৩ সালের আগের নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাদের নাম, তাদের বাবা-মায়ের যে কোনও একজনের নামের সাথে যুক্ত থাকার বিষয়টিও এর বাইরে ছিল। এই ধরনের পৈতৃক সংযোগের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের আর কোনও নথি জমা দিতে হবে না, এমন ঘোষণার পর এটি ছিল একটি চালাকি। এছাড়াও, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংশোধন করার জন্য সময়সীমাও ছিল খুবই কম।
বিজেপি-বিরোধী সকলের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশন প্রায় ঔদ্ধত্যপূর্ণ এক উদাসীনতার সাথে এগিয়ে যায়। এটি ছিল এ পর্যন্ত মেনে চলা প্রথার সম্পূর্ণ বিপরীত। অতীতে যখনই এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক অঙ্গনের সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই কাজ করেছে।

বিহার এসআইআর’র ফলাফলই সতর্ক সংকেত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল, যার ফলে ৬৫ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী বিশ্লেষকরা স্পষ্টভাবে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, সারাদেশে এই সংখ্যা বেড়ে ১০ কোটি পর্যন্ত হতে পারে। নির্বাচন কমিশন এবং শাসক দলের সমর্থকরা এই পূর্বাভাসকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিল। কিন্তু এখন, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরাকে বাদ দিয়ে, যেখানে এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে, সেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রকৃত সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৭ লক্ষ। এর মধ্যে হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেখানে এখনও এসআইআর সম্পন্ন হয়নি। 
আরও মারাত্মক বিষয় হলো, শুধু এই বিপুল সংখ্যাই নয়, বরং নির্দিষ্ট রাজ্যগুলির সংশ্লিষ্ট জনসংখ্যার সঙ্গে এর তুলনা। এই সংখ্যাগুলির আসলে দুটি সম্ভাবনাই থাকতে পারে– হয় ভোটারদের কম গণনা করা হয়েছে অথবা জনসংখ্যা বেশি গণনা করা হয়েছে। যেহেতু উভয় গণনাই সরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়, তাই এর একটিই ব্যাখ্যা হতে পারে যে এসআইআর খসড়া তালিকাটিতেই ব্যাপক হারে ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে।

সব দেখে বুঝে স্পষ্ট বলা যায় এসআইআর প্রক্রিয়াটি ছিল বাতিল করার বিষয়। রাজ্যভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সবচেয়ে বিতর্কিত প্রক্রিয়াটি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে ম্যাপিং এবং প্রকাশিত প্রাথমিক খসড়ার পরে যৌক্তিক অসঙ্গতি চিহ্নিত করার জন্য একটি র্যামন্ডম অ্যালগরিদমের উপর ভিত্তি করে তৃতীয় একটি স্তর যুক্ত করা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে, ১৯টি জুডিশিয়াল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। 
সব মিলিয়ে, এই ট্রাইব্যুনালগুলোর মাধ্যমে ৩৮,১০,৬২০টি আপিল বা আবেদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা ছিল। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে, এর মধ্যে অধিকাংশই হবে সেইসব ভোটারের আবেদন যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন যা জানা যাচ্ছে তা হলো, যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ২২লক্ষ ভোটার নাম পুনর্বহালের জন্য আবেদন করেছিলেন; আর ১৬ লক্ষের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিষ্পত্তির পর্যায়ে ছিল কারণ কমিশন ‘ফর্ম ৭’-এর মাধ্যমে তাদের নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। যে সামান্য সংখ্যক—অর্থাৎ ৮২,৭৮২টি—আপিল যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার মধ্যে ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রেই নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে। 
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে— শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, অন্যান্য জায়গাতেও—ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মূলত বিজেপি’ই এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিল এবং তারা ‘ফর্ম ৭’ গণহারে জমা দিয়ে বুথ লেভেল অফিসারদের ওপর নাম বাদ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। এটি পার্লামেন্টের করা নির্বাচনী আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ প্রসঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সম্পাদকীয় উল্লেখ করা যেতে পারে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘গোড্ডার অন্তত চারটি বুথে নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে: বিজেপি কর্মীরা খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য গণহারে 'ফর্ম ৭' জমা দিচ্ছিলেন। এখানে সতর্কবার্তাটি স্পষ্ট—বিজেপি কর্মীদের এই গণহারে আপত্তি জানানোর বিষয়টি কেবল পদ্ধতিগত লঙ্ঘনের অভিযোগই তোলে না, বরং সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম সুপরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়ার মতো গুরুতর উদ্বেগেরও জন্ম দেয়। যাদের নাম বাদ দেওয়ার তালিকায় রাখা হয়েছিল, তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন অথবা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।’’ 
কারণ, বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে ‘এসআইআর’-এর কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের চেয়ে বরং ভোটারদের হয়রানি করা এবং সেই প্রক্রিয়ায় দুর্বল ও প্রান্তিক ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।  এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই যে ‘বহিরাগত’ বা ‘অন্তর্ভুক্ত নয়’ বলে অভিযোগটি নিহিত রয়েছে।  দেশজুড়ে ‘এসআইআর’ ব্যবস্থাটি প্রমাণের দায়ভার ভোটারের ওপর চাপিয়ে দেয়, এমন সব নথিপত্র দাবি করে যা সংগ্রহ করা প্রায়শই কঠিন, অবাস্তব সময়সীমা নির্ধারণ করে এবং এসবের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটিকেই এক ধরনের শাস্তিতে পরিণত করে। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে থাকা নির্বাচন কমিশনকেই এই পরিস্থিতির দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। এসব ঘটনার মধ্যে সাধারণ যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হলো এই ধরনের অনিয়ম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের রহস্যজনক নীরবতা। 
পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল: ভোটার তালিকা পুনর্বহালের জন্য জমা পড়া প্রায় ৭ লাখ আবেদনের মধ্যে বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল—যাদের কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং ভৌগোলিকভাবে কেবল কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ (জেলার বাইরে নয়)—৯১শতাংশ আবেদনই তালিকাভুক্তির জন্য উপযুক্ত বলে রায় দিয়েছিল। খেয়াল-খুশিমতো যুক্তিহীন অসঙ্গতির অজুহাতে যাদের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত যাদের ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হলো—সেই বিষয়টি পুরো পরিস্থিতিকে আরও বেশি নিন্দনীয় করে তোলে।

উদ্বিবেগের বিষয় এটাও যে, বিচার বিভাগের ভূমিকাও হতাশাজনক। সুস্পষ্ট নথিপত্র ও পরিসংখ্যানগত তথ্য এবং বিহারে এই প্রক্রিয়ার ত্রুটিপূর্ণ প্রকৃতি তুলে ধরা সত্ত্বেও, সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর’র কার্যক্রম স্থগিত করতে অস্বীকার করেছিল। কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষেরই এমন ক্ষমতা থাকতে পারে না যা অধিকার হরণ বা বর্জনের পথ প্রশস্ত করে।

একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সবার জন্য সমান সুযোগ এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অন্ধকার। বিরোধী দলগুলোকেও এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে আরও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপের দাবি জানাতে হবে; যার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ পদে আসীন বর্তমান কর্মকর্তাদের অপসারণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

Comments :0

Login to leave a comment