বিশ্ববরেণ্য সত্যজিৎ রায়ের নামাঙ্কিত চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইস্টিটিউট তথা এসআরএফটিআই কুৎসিতভাবে লাঞ্ছিত হলো হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের হাতে। সঙ্ঘ পরিবারের ছত্রছায়ায় লালিত-পালিত এক অখ্যাত অপরিচিত সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (এবিজিপি) সদলবলে ক্যাম্পাসের ভেতরে ছুরি, লাঠি, রড, ইট-পাথর নিয়ে চড়াও হয় ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটা সত্য ‘জয় শ্রীরাম’ ‘ভারত মাতা কি’ স্লোগান দিয়ে বহিরাগত দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া তাণ্ডব চালায়। তাদের আক্রমণে জখম অনেক ছাত্র। ওদের আগ্রাসী হামলা থেকে বাদ যায়নি ছাত্রীরাও। গোটা ঘটনা মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় ব্যাপারটা বিচ্ছিন্ন নয়। বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আগাম পরিকল্পনা করে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এসআরএফটিআই-র অডিটোরিয়াম ভাড়া করে সংগঠনের কোনও সভা করার অছিলায় সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ হিন্দুত্ববাদীদের আসল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে প্ররোচনা দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করা যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলা চালানো যায়। সাজানো চিত্রনাট্য অনুযায়ীই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিজেপি এবং আরএসএস’র বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে উন্মত্ত তাণ্ডব চালিয়েছে। যথারীতি পুলিশ ছিল দর্শক। নিশ্চয়ই উপরওয়ালার হুকুম ছিল।
এবিজিপি নামে কোনও সংগঠনের নাম এ রাজ্যের কেউ কোনোদিন শুনেছেন বলে মনে হয় না! এই এক সঙ্ঘ নির্মিত সংগঠন আর কোথাও না গিয়ে খোদ এসআরএফটিআই-র ভেতরে তাদের অনুষ্ঠান করতে চলে গেল। আর কর্তৃপক্ষও তাদের অনুমতি দিয়ে দিল। ব্যাপারটা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। এই অডিটোরিয়াম সাধারণভাবে বাছাই করে নিয়ন্ত্রিতভাবে ভাড়া দেওয়া হয়। কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠন, রাজনৈতিক বিষয় আলোচ্য হলে হল ভাড়া দেওয়া হয় না। তাহলে আরএসএস’র হিন্দুত্ববাদীরা হল পেল কি করে? নিশ্চিতভাবেই শাসকদের প্রভাবশালী কারও হাত ছিল। তাছাড়া ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষার অঙ্গ হিসাবে শ্যুটিং করে। সেজন্য বহিরাগতদের হল ভাড়া দিলে আগাম ছাত্রদের জানাতে হয়। কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের অন্ধকারে রেখেছে।
এসআরএফটিআই একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। সারা দেশ থেকে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে শিখতে আসে। ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। রাজ্যের কোনও রাজনৈতিক দলও এই ক্যাম্পাসে হস্তক্ষেপ করেনি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম সুকৌশলে হিন্দুত্ববাদীরা ঢুকে তাণ্ডব চালিয়ে দখলদারির পরোক্ষ চেষ্টা করল। শাসক দল ও সরকারের মদত না থাকলে এটা কোনোভাবেই সম্ভব হত না।
আসলে গত কয়েক বছর ধরে জেএনইউ সহ দেশের নামী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গেরুয়া আধিপত্য বিস্তারের যে আগ্রাসী প্রয়াস চলছে এটা তারই অঙ্গ। কয়েক মাস ধরে যাদবপুর ঘিরে যে নৈরাজ্য গুন্ডামি চলছে তারই সম্প্রসারিত প্রয়াস হলো এসআরএফটিআই-তে গুন্ডামি।
editorial
হিন্দুত্ববাদী গুন্ডামি
×
Comments :0