T20 World Cup

ভারতীয়দের ‘হৃদয়’ ভেঙে দেব, হুঙ্কার মিচেল স্যান্টনারের

খেলা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে। রবিবার ভারত এবং নিউজিল্যান্ড দুইদল ইতিহাস তৈরিতে জায়গা ছাড়বে না। ভারত ঘরের মাটিতে ট্রফি তুলে নেওয়ার বিরল কীর্তি অর্জনের লক্ষ্যে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে আগ্রহী। দুইদলই একটি রোমাঞ্চকর ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমিরা নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বিগ্ন। ২০২৩ সালে, অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী হয় ভারতকে হারিয়ে। শনিবার নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বৃহত্তর ক্রিকেট প্রেমিদের সামনে খেলার চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করে আবারও ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের উন্মাদনায় বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দল কি প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়ার মতো ২০২৩ সালে দর্শকদের চুপ করিয়ে দিতে চায়?  স্যান্টনার বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হলো দর্শকদের চুপ করিয়ে দেওয়া। কিন্তু ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে এবং সেগুলো পরিবর্তনশীল। আমার মনে হয় ভারতের ঘরের মাঠে জয়ের জন্য অনেক চাপ রয়েছে। আমরা পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে দেখেছি যে অনেক দলই মোটামুটি একই স্তরে থাকে। আবার প্রায়শই একটি ম্যাচের ফলাফল কয়েকটি ছোট মুহূর্ত দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে। বৃহস্পতিবার রাতে ইংল্যান্ড জয়ের খুব কাছাকাছি এসেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে, কিন্তু তারপরে আমাদের বিরুদ্ধে একটি ছোট ভুল তাদের মূল্য দিতে হয়েছে। তাই, এটি আমাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের বিষয় যে আমরা যদি এভাবে খেলতে থাকি, তাহলে আমরা অন্য একটি বড় দলকে হারাতে পারব।’’ তিনি আরও বলেন, "ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ভারতের উপর অনেক চাপ রয়েছে। আমরা যদি মাঠে গিয়ে তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারি, তাহলে দেখা যাবে কী হয়। আমি খুবই উত্তেজিত। আমরা আগেও খেলেছি। ছেলেরা আগামীকালের জন্য তৈরি। আগামীকাল মাত্র একটি খেলায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বুমরাহর প্রশংসা করে স্যান্টনার বলেন, আমার মনে হয় যে সে যেভাবে খেলছে, সবারই তার কথা বলা উচিত। আমার মনে হয় ইংল্যান্ডকে হারানো খুব কঠিন মনে হয়েছিল। বুমরাহ অবশ্যই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। স্যান্টনার স্পষ্ট করে বলেন, ভারত কেবল কোনও একজন খেলোয়াড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সে স্পষ্টতই একজন বিশ্বমানের বোলার, কিন্তু শুধু সে নয়। আমার মনে হয় দলের প্রতিটি খেলোয়াড় ব্যাট এবং বল উভয় হাতেই ভালো পারফর্ম করেছে।  আমরা এই ফর্ম্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান করা শীর্ষ পাঁচ ভারতীয় খেলোয়াড়ের দিকে নজর দেব।
সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটে ভারত এবং নিউজিল্যান্ড ৩০ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। মেন ইন ব্লু এই ম্যাচগুলির মধ্যে ১৮টি জিতেছে, যেখানে ব্ল্যাক ক্যাপস জিতেছে ১১টি। তবে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত এখনও নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি। টুর্নামেন্টে দুটি দল এখন পর্যন্ত তিনবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে এবং ভারত তিনবারই হেরেছে। গত কয়েক বছর ধরে, টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত করতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যার ফলে টি-টোয়েন্টি র্যা ঙ্কিংয়ে ভারত নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়েছে। দুই দল যখন আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। 
আগামী রবিবার ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে টিম ইন্ডিয়া টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য রাখবে। সেই ম্যাচের আগে, নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বিবৃতি ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার বলেন যে, যদিও তার দল এই ম্যাচে ফেভারিট নাও হতে পারে, তবুও ভারতীয়দের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ জিতে নেওয়াই নিউজিল্যান্ডের আসল লক্ষ্য। স্যান্টনার বলেন, তার দল ছোট ছোট সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং নিউজিল্যান্ড এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনালে বিশ্বকাপ জয় করবে। তিনি বলেন, "সবাই মনে করে আমরা এই ম্যাচে ফেভারিট নই, কিন্তু তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা যদি আমাদের ছোট ছোট কাজগুলো ঠিকঠাক করি এবং দল হিসেবে ভালো পারফর্ম করি, তাহলে আমাদের ট্রফি জেতার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি যদি আমাদের ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতে হয়, তবুও অসুবিধা নেই, ভারতকে হারাতে চাই আমরা।’’
২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন তাঁর লক্ষ্য আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে একঘেয়ে ভারতীয় দর্শকদের শান্ত করা। কামিন্সের এই বক্তব্য পরবর্তীতে সত্য প্রমাণিত হয় যখন অস্ট্রেলিয়া ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয়। এখন, একইভাবে, স্যান্টনারের এই বক্তব্য ফাইনালের আগে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। 

স্যান্টনারের এই বক্তব্য ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার বলেন, এখন প্রায় সব প্রতিপক্ষ দলগুলি একই কথা বলে, সবাই একই সুরে কথা বলে, নকল করে। নতুন কিছু বলো। তাঁর দাবি, চাপ তো অবশ্যই আছে, এটা অস্বীকার করা যায় না। 

Comments :0

Login to leave a comment