জীবীকা সঙ্কটে। রাজ্য জুড়ে কোন নির্দিষ্ট পুনর্বাসন ছাড়াই চলছে হকার উচ্ছেদ। রাজ্য সরকারের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিআইটিইউ সব বিভিন্ন বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন। এদিন দমদম স্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় সিআইটিইউ নেৃতৃত্ব। সেই বিক্ষোভ চলাকালিন একজন মহিলা হকার জীবীকা চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বাকি হকার এবং যাত্রীদের চেষ্টায় তিনি প্রাণে বাঁচেন।
এদিন দমদম রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে হকারদের জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন গার্গী চ্যাটার্জি, ময়ুখ বিশ্বাস, দেবাংশু নন্দী, তরুণ নাহা রায়, বাবিন ব্যানার্জি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সন্তোষপুর, বারুইপুরের পাশাপাশি একই সময়ে উত্তর ২৪ পরগনার ৫টি স্টেশনে আরপিএফ বাহিনী নিয়ে নামবে। সঙ্গে থাকবেন রেল আধিকারিকরা। উচ্ছেদের চেষ্টা হবে দমদম, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, ব্যারাকপুর, হাসনাবাদ, বসিরহাটে। নদীয়ার রানাঘাটেও নামতে চলেছে আক্রমণ। এই আশঙ্কা জানিয়েছেন রেল হকার কর্তৃপক্ষ।
যাত্রী পরিষেবায় মন নেই রেলের। যথারীতি স্টেশনে এস্ক্যালেটর চলছে না, ফ্যান ঘুরছে না, ট্রেনে ভ্যাপসা গরমে ভিড় থিকথিক করছে। নামমাত্র টয়লেট। সেখানেও ফেলো কড়ি, মাখো তেল। পে অ্যান্ড ইউজ। রেল এখন বড় ব্যবসার জন্য রাস্তা চওড়া করতে রেল হকার মুক্ত স্টেশন করতে চাইছে।
সম্প্রতি রেল যে যে স্টেশনে উচ্ছেদ করতে গেছে একত্রিত হয়ে তা রুখে দিয়েছেন রেল হকাররা। এইবার সেই রেল হকারদের জমায়েতকে ভাগ করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল পুলিশ আক্রমণ কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে নদীয়ার গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন রানাঘাটে। পরের দিন আগাম ঘোষণা করেছে ক্যানিং এবং চম্পাহাটি স্টেশন হকারমুক্ত করার। রেল হকারেরা দাঁতে দাঁত কামড়ে রেল স্টেশনে একত্রিত হচ্ছেন, জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রেলে হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি অলকেশ দাস।
রানাঘাট রেল স্টেশনে সমস্ত রেল হকারেরা একত্রিত হয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পরিবারের সকলকে নিয়ে আরপিএফ এর বন্দুক, লাঠি, বর্মের সামনে দাঁড়াবে। আলোচনা ছাড়া, উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া কোনও দোকান স্পর্শ করতে গেলেও বাধা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ রেলে হকার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ নিজেদের মধ্যে পরিকল্পনা করে বিভিন্ন স্টেশনে প্রতিরোধের পরিকল্পনা করেন। পশ্চিমবঙ্গ রেল হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি অলকেশ দাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর শীল, সিআইটিইউ ও রেল হকার্স নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি, নদীয়া জেলা সম্পাদক অয়ন মিত্র, সভাপতি অমল ভৌমিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক মানিক বক্সী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি কৃষ্ণ প্রসাদ চৌধুরী সহ রাজ্য নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন স্টেশনে উপস্থিত থাকবেন।
সোদপুরে বুধবার রাত থেকে রেল হকারেরা রাত জেগে ছিলেন। পরের দিন হকার উচ্ছেদ অভিযান মোকাবিলা করবেন বলে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঝরাতে রেল পুলিশের অতর্কিত হামলার পরেই রেল হকারেরা সতর্ক হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশন পাহারা হচ্ছে।
Comments :0