টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এক মাসেরও বেশি সময় কেটেছে। রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় হয় টস। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। এর আগে টিম ইন্ডিয়া জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাত্র একটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে। ফাইনালে ওঠার পথে নিউজিল্যান্ড দুটি ম্যাচ হেরেছে। গ্রুপ পর্বে, আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে। সুপার এইটে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছে। ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়। তিন পয়েন্ট নিয়ে, পাকিস্তানের তুলনায় ভালো রান রেটের কারণে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়। সেমিফাইনালে কিউইরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে তাদের স্থান নিশ্চিত করে।
আজকের ফাইনালে আলোচনায় রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ফিন অ্যালেন এবং ভারতের ফাস্ট বোলার জসপ্রীত বুমরাহ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ফিন অ্যালেনের বিস্ফোরক ব্যাটিং। সেই ম্যাচে তিনি সেঞ্চুরি করে ম্যাচটিকে সম্পূর্ণ একতরফা ম্যাচে পরিণত করেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে টিম ইন্ডিয়ার জয়ে জসপ্রীত বুমরাহর বোলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের কাঁটা হতে পারেন ফিন অ্যালেন-টিম সেইফার্ট। তেমনই নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের সমস্যা ফেলবেন জসপ্রীত বুমরা। যদিও রেকর্ড বলছে, বুমরার কেরিয়ারে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্স গড়পড়তা। সেভাবে, কিউয়িদের নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বুমরা। ১৪ টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৬ উইকেট। স্ট্রাইক রেট কুড়ি কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রতি কুড়ি বলে একটি উইকেট পেয়েছেন। যা বুমরা সুলভ মোটেই নয়। এই পরিসংখ্যান নিশ্চিতভাবেই স্যান্টনারের নখদর্পণে। তবুও বুমরাকে সমীহ করছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।
যদিও সামগ্রিক রেকর্ড বলছে, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ৩০টি ম্যাচ খেলে ভারত জিতেছে ১৬ ম্যাচ নিউজিল্যান্ড জিতেছে ১১ ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৩টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৩ ম্যাচ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস রয়েছে রবিবার আহমেদাবাদে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। দিন ও সন্ধ্যায় আকাশ পরিষ্কার থাকবে। সন্ধ্যায় তাপমাত্রা কিছুটা কমবে।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের পিচ কালো এবং লাল মাটির মিশ্রণে তৈরি। এই পিচটি ব্যাটিংয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে আশা করা হচ্ছে। এই পিচে প্রচুর রান তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পিচটি ভালো বাউন্সও দেবে, যার ফলে ফাস্ট বোলাররা প্রাথমিক ওভারে ভালো পারফর্ম করতে পারবে। এই স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর ১৭০ থেকে ১৭৫ রানের মধ্যে।
আজকের ম্যাচে কে জিতবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে টসের উপর। এখনও পর্যন্ত, এই মাঠে প্রথমে ব্যাট করা দলটিই প্রাধান্য পেয়েছে, তবে এটি অর্জন করতে হলে, ব্যাটিং-বান্ধব পিচে তাদের মোট ২০০’র বেশি রান করতে হবে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে, ভারতীয় দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তবে নিউজিল্যান্ডকে ছোট করে দেখলে হবে না। কারণ নিউজিল্যান্ডের ঝুলিতে দু’টি আইসিসি ট্রফি রয়েছে। দু’বার ভারতকে হারিয়েছে খেতাব জিতেছে তারা। এবং টি-২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত জিততে পারেনি। মুখোমুখি সাক্ষাতে ৩-০ এগিয়ে মার্টিন ক্রোর দেশ। এই পরিসংখ্যান কিউয়িদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ফাইনালের মঞ্চে নিষ্ঠুর হতে হবে! সেকথা কিন্তু অকপটে জানিয়েছেন কিউয়ি অধিনায়ক। বলছেন, ‘টি২০-তে কয়েকটা ছোট মুহূর্ত ম্যাচের ফল বদলে দেয়। ফিল্ডিংয়ের মুহূর্তও বড় ভূমিকা রাখে। তাই ধারাবাহিক থাকতে হবে, তবে কিছু মুহূর্তে আরও নিষ্ঠুর হতে হবে।’
চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ধুঁকতে ধুঁকতে ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে আমেদাবাদেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে। সুপার এইটে, ইংল্যান্ড হারিয়েছে তাঁদের। তারপরও তাঁরা ফাইনালে পৌঁছেছে। সেমিফাইনালে বিধ্বংসী ক্রিকেট খেলে কিউয়িরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে খেতাবের সামনে পৌঁছেছে। টি-২০ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় নেই ভারতের। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। প্রত্যাশার চাপ রয়েছে।
ভারত- নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ
ভারতের একাদশ: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষাণ (উইকেটরক্ষক), তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, শিবম দুবে, বরুণ চক্রবর্তী/কুলদীপ যাদব, জসপ্রীত বুমরাহ এবং অর্শদীপ সিং
নিউজিল্যান্ডের একাদশ: টিম সেইফার্ট (উইকেটরক্ষক), ফিন অ্যালেন, রচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশাম, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), কোল ম্যাককনচি, ম্যাট হেনরি এবং লকি ফার্গুসন।
Comments :0