UNITED SPORTS FOOTBALL CLUB

অকপট কোচ,
কলকাতা লিগ মাতাতে তৈরি ইউনাইটেড

খেলা

cfl indian football united sports kolkata football bengali news

কলকাতা ফুটবল লিগের লড়াইতে নামতে প্রস্তুত ইউনাইটেড স্পোর্টস ফুটবল দল। কোচ স্টিভ হারবোটসের তত্ত্বাবধানে  চলছে চূড়ান্ত অনুশীলন।

ইউনাইটেড স্পোর্টস বরাবরই কলকাতা ময়দানে অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য নাম। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর নতুন ফুটবলার উঠে এসেছেন এই  ফুটবল দলের হাত ধরেই। যাঁদের মধ্যে অনেকেই বাংলা দলের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতে খেলেছেন। বহু ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা সুযোগ পেয়েছেন আই লিগেও। বলা যেতে পারে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন কলকাতা ময়দানের অতি পরিচিত মুখ। ইউনাইটেড স্পোর্টসের শক্তিশালী একটি দিক হচ্ছে তাঁদের ইউথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। এবারও সেই ইউথ ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে উঠে আসা ফুটবলারদের নিয়েই দল গড়েছে ইউনাইটেড।  

সঞ্জীব মণ্ডল, তারক হেমব্রম, সুব্রত মুর্মূ, রাজা বর্মণ সহ একাধিক ভালোমানের ফুটবলার রয়েছে ইউনাইটেডে। সেইসঙ্গে, আসামের সেন্টার ফরোয়ার্ড অ্যালেন ডেওরিকে সই করিয়েছে তাঁরা। অ্যালেন ডেওরি এর আগে খেলেছেন আইএসএল-এর ক্লাব নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি এবং মুম্বই সিটি এফসির হয়ে। তবে ঘরের ছেলেদের ওপরই বেশি ভরসা রাখতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিদেশিহীন লিগে খুশি তাঁরাও। ইউনাইটেড স্পোর্টস কর্তা নবাব ভট্টাচার্য বলছেন, “আমরা বরাবরই চেয়েছিলাম বিদেশিহীন লিগ। আগামী ৩-৪টি বছর বিদেশিহীন লিগ করাটা ভীষণভাবেই প্রয়োজন।“

এই মুহূর্তে সর্বভারতীয় স্তরে ভালোমানের বাঙালি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, নতুন ফুটবলার তুলে আনার ক্ষেত্রে ইউনাইটেড স্পোর্টসের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

নবাব ভট্টাচার্য আরও যোগ করেন, “আমি নিশ্চিত এইবছর অন্তত ৫-৬টা নতুন বাঙালি স্ট্রাইকার উঠে আসবে।“ অন্যদিকে, এই দলের উদীয়মান স্ট্রাইকার রাহুল রায় আসন্ন কলকাতা লিগে নজর কাড়তে পারেন। তাঁকে নিয়ে কর্তারা বেশ আশাবাদী। আই লিগ দ্বিতীয় ডিভিশনে গোলও পেয়েছেন বাঙালি স্ট্রাইকার রাহুল।  

আমরা কথা বলেছিলাম দলের কোচ স্টিভ হারবোটসের সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার ফুটবল নিয়ে কাজ করে চলেছেন এই বেলজিয়ান কোচ। 

গণশক্তিঃ আসন্ন কলকাতা লিগ নিয়ে কিভাবে পরিকল্পনা করছেন?

স্টিভ হারবোটসঃ আমাদের প্রি-সিজন খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ, সব ফুটবলারকে একসঙ্গে প্রথম দিকে পাইনি। তবে এখন আমরা সঠিক পথেই রয়েছি। যেভাবে অনুশীলন করতে চেয়েছিলাম, সেইভাবেই সবটা চলছে। গোটা দল একসঙ্গে প্র্যাকটিস করছে। আমি খুব খুশি। আমি জানি কিভাবে শুরুটা করতে হবে। নতুন কি পরিকল্পনা যুক্ত করা যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়েও ভাবনাচিন্তা রয়েছে। আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই। মহামেডানের বিরুদ্ধে খেলার জন্য আমরা মুখিয়ে রয়েছি।  

গণশক্তিঃ এই প্রথম বিদেশিহীন কলকাতা লিগ। এই বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?  

স্টিভ হারবোটসঃ  আমরা তৈরি হচ্ছি, তবে হাতে সময় খুব কম। আমাদের কাছে এটা বড় কোনও চ্যালেঞ্জ নয়। আমাদের ফুটবলারদের মধ্যে যথেষ্ট ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। বিদেশিরা ভালো মানের না হলে, খেলানোর কোনও মানে নেই। ইউনাইটেড এমন একটি দল, যাঁরা গত মরশুমে বিদেশি ছাড়াও কিছু ম্যাচ খেলেছে। আমাদের স্কোয়াডে যথেষ্ট পরিমাণে ভারতীয় স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার রয়েছে। ভালোমানের স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার না থাকা, এইমুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলের বড় একটা সমস্যা। তাই, এই লিগ ছেলেদের জন্য বড় মঞ্চ। আমি অনেকদিন আগেই বলেছিলাম, উন্নতি করতে গেলে বিদেশি ছাড়াই খেলা উচিৎ। আজ সেটাই হচ্ছে।  

অবশ্যই টপ ডিভিশন লিগগুলিতে বিদেশি ফুটবলার প্রয়োজন। কিন্তু আঞ্চলিক লিগগুলিতে ঘরের ছেলেদের ওপরই ভরসা করা উচিৎ। মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলও তাঁদের রিজার্ভ টিম নিয়ে খেলবে। অবশ্যই জুনিয়র ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া উচিৎ। তাঁরাই তো আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। আমি বিশ্বাস করি এটা।

গণশক্তিঃ দল নিয়ে কতটা আশাবাদী?  

স্টিভ হারবোটসঃ  আমরা আমাদের হোমওয়ার্ক সঠিকভাবেই করছি। যখন বাসুদেব গোকুলাম কেরালা এফসি-তে সই করল, আমরা তখনই পরিবর্ত হিসেবে প্রশান্ত দাসকে নিয়ে এসেছি। প্রশান্ত খেলো ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায়, বাংলা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অধিনায়কত্বও করেছে। আমাদের কলকাতা লিগের দলেও রয়েছে প্রশান্ত। সেইজন্যই সারা বছর ধরে আমরা নতুন ফুটবলার তৈরিতে ব্যস্ত থাকি। সমস্ত কোচিং স্টাফ, ক্লাব অফিসিয়াল এবং আমরা একসঙ্গে এই কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছি।

গণশক্তিঃ কাদের ওপর বেশি ভরসা রাখছেন?  

স্টিভ হারবোটসঃ আমরা সবসময় নতুন ট্যালেন্ট খুঁজে আনার চেষ্টা করি। তাই অন্য অনেক ক্লাবের থেকে আমরা আলাদা। আমাদের দলে বেশিরভাগই বাংলার ফুটবলার। অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে আমাদের দলে। আশা করছি তাঁরা সুযোগ পেলে, নিজেদের প্রমাণ করবে। আমি দলগত পারফরম্যান্সে বিশ্বাসী। আমাদের দলে কেউ একা নয়। জিতলে টিম জিতবে, হারলে টিম হারবে। সবার মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমার কাছে আমার দলই শেষ কথা। এই ছেলেগুলো নিশ্চয়ই একদিন আইএসএলে কিংবা জাতীয় দলের হয়েও খেলবে। আমি আশাবাদী ওঁদের নিয়ে।

বেলজিয়ান কোচের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর। সেইসঙ্গে, লিগের লড়াইতে নামতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা ইউনাইটেড স্পোর্টস।

প্রতিবেদন এবং সাক্ষাৎকারঃ শুভঙ্কর দাস

Comments :0

Login to leave a comment