অনিল কুণ্ডু : পাথরপ্রতিমা
পাথরপ্রতিমায় লাইসেন্স বিহীন বোমা, বাজিতৈরির কারবারে খেসারত দিতে হলো বণিক পরিবারকে। ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ দক্ষিণ রায়পুর অঞ্চল। নীস্তব্ধ। নীরবতা। এখনও আতঙ্ক গ্রামবাসীদের পিছু ছাড়েনি। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনায় শাসক দল, পুলিশ, প্রশাসনের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের কথায়, বিস্ফোরণের পর ঢোলাহাট থানার পুলিশকে যতটা তৎপর হতে দেখা গেছে এই তৎপরতা আগে দেখালে এতোগুলো প্রাণ অকালে ঝড়ে যেতো না। বিনা লাইসেন্সে বছরের পর পর অবৈধ এই কারখানা চলেছে পুলিশ ফাঁড়ির নাগের ডগায়। বারবার আপত্তির অভিযোগ করা সত্বেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে পাথরপ্রতিমায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত চন্দ্রকান্ত বণিককে বুধবার কাকদ্বীপ আদালতে পুলিশ হাজির করলে বিচারক তাকে ৪ দিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এদিন ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সুন্দরবন পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন। বণিক পরিবারের বড় পুত্র চন্দ্রকান্ত বণিক গ্রেপ্তার হলেও তার ভাই তুষার বণিক অধরা। বিস্ফোরণের ঘটনায় এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ঢোলাহাট থানার পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিন পাথরপ্রতিমার দক্ষিণ রায়পুরে ঘটনাস্থলে আসেন সিপিআই(এম) নেতা কান্তি গাঙ্গুলি, ধীরেন শূর, সত্যরঞ্জন দাসসহ স্থানীয় পার্টি নেতৃত্ব। তাঁরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা বিস্ফোরণে মৃত এই পরিবারের গৃহকর্তা অরবিন্দ বণিকের ভাই প্রতিবেশি প্রদীপ বণিকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্ত করার দাবি জানিয়ে কান্তি গাঙ্গুলি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত কলকাতা হাইকোর্টের তত্বাবধানে করতে হবে। তা না হলে সত্য ঘটনা সামনে আসবে না। কারা এই অবৈধ লাইসেন্স বিহীন কারখানা চালাতে মদত, প্রশ্রয় দিয়েছিল। কেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা সব জানা সত্বেও ব্যবস্থা নেয়নি। এদিনও এই একই দাবি করেছেন গ্রামবাসীরাও। তাঁদের কথায়, শাসক দলের নেতা থেকে পুলিশ প্রশাসনের কারা কারা লাইসেন্স বিহীন এই কারখানা সম্পর্কে সব জানা সত্বেও অবৈধ এই কারখানা চালাতে প্রশ্রয় দিয়েছিল কোন স্বার্থে এবিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এধরণের অবৈধ কারবার করার কেউ সাহস না পায়। যাতে কেউ প্রশ্রয় না দেয়। বাজি তৈরির কোন বৈধ লাইসেন্স যে এই বণিক পরিবারের ছিল না বিস্ফোরণের ঘটনার পর গ্রামবাসীরাই এমনটাই জানিয়ে ছিলেন।
জানা গিয়েছে, মহেশতলার বাটানগরে তৃণমূল পরিচালিত মহেশতলা বাজি অ্যাসোসিয়েশনের সতর্কতা সচেতনতা শিবিরে গত ২৪ মার্চ অংশ নিয়েছিল চন্দ্রকান্ত বণিক। এরপরও অবৈধ এই কারখানা চালানো শুধু নয় বাড়িতে পরিবার নিয়ে বাস করা ঘরে প্রচুর বোমা, বাজি, বিস্ফোরক মজুত করা নিয়ে এই ব্যবসায়ী যুবকের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
Comments :0