RG Kar: Victim's family

লজ্জা থাকলে নিশ্চয়ই পদত্যাগ করবেন

সম্পাদকীয় বিভাগ

একটা সুসভ্য গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে রাজ্যে ও কেন্দ্রে নির্বাচিত সরকার রয়েছে, যেখানে কেন্দ্র রাজ্যের অধীনে ‘সুদক্ষ’ তদন্ত সংস্থা আছে, নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা আছে সেখানে সন্তানহারা বাবা-মা কতটা হতাশ হলে এবং অসহায় বোধ করলে নিজের রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রীকে নির্লজ্জ বলে আখ্যা দিয়ে সরাসরি পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করতে পারেন সেটা অনুভব করার মতো বোধ বুদ্ধি ও মানসিকতা তৃণমূল নেতা ববি হাকিম বা কুণাল ঘোষদের নেই সেটা বলাই বাহুল্য। অবশ্য সুদূর অতীতে তেমন কিছু যদি থেকে থাকলেও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির সেবা ভ্রান্ত তৃণমূল সংস্কৃতিতে অবগাহনের পর সেটা ধুয়ে মুছে বিলীন হয়ে গেছে। হৃদয় বলে যদি কোনও বস্তু এদের থাকত তাহলে আর যা-ই হোক চিকিৎসক কন্যাকে হারানো কোনও পিতা-মাতার প্রতি এমন চরম অমানবিক আচরণ ও কদর্যভাবে আক্রমণ করতে পারতেন না। তৃণমূল নেতা হয়েছেন বলে এবং মুখ্যমন্ত্রী ইয়েস ম্যাডাম হতে হবে বলে এভাবে মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিতে হবে?
এই সভ্য ভারত তথা সভ্য পশ্চিমবঙ্গে একটি নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও একটা সরকারি মেডিক্যারল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় একজন চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের পর খুন করে দেওয়া হয়। এমন এক সরকার, যার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং পুলিশ মন্ত্র্রী, সরকারি হাসপাতালে সেই চিকিৎসক ছাত্রীকে নিরাপত্তা দিতে পারল না। তার স্বপ্নগুলির সমাধির পাশাপাশি তার জীবনের অধিকারও কেড়ে নিয়েছে। ধর্ষণ খুনের পর গোটা ঘটনাটাকেই চাপা দিতে পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসনকে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রথমে পুলিশ পরে সিবিআই তদন্তের নামে প্রহসন হয়েছিল। সেই প্রহসনের তদন্তের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতে একজনের সাজাও হয়ে। কিন্তু ধূর্ত পরিকল্পনায় আড়াল করা হয় পালের গোদাদের।
শুধু অভয়ার বাবা-মা নয় বা অভয়ার জন্য ন্যায় বিচার চাওয়া ডাক্তার বা সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ নন, গোটা রাজ্যের তথা দেশের সচেতন নাগরিকরা জানেন ও বোঝেন কি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। কেউ বিশ্বাস করে না অপরাধী একজন। বরং সকলেই বিশ্বাস করে সরকারি ও শাসকের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা দুর্নীতি ও অপরাধচক্রের সংগঠিত ষড়যন্ত্রের পরিণতি এটা। ঠিকঠাক তদন্ত হলে স্বাস্থ্য ও পুলিশের অনেক বড় বড় মাথা জেলে যাবে। সরাসরি আঙুল উঠবে পুলিশ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দিকে। অতএব যে কোনও মূল্যেই সঠিক তদন্ত বরবাদ করতে তথ্য প্রমাণ লোপাট করে দিতে হবে। আর সেটা করতে গিয়েই গুচ্ছ গুচ্ছ প্রশ্ন ও অসঙ্গতি সামনে এসে গেছে। রায় ঘোষণা হলেও সেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাই অভয়া বিচার পেয়েছে, আসল দুষ্কৃতীরা সাজা পেয়েছে কেউ বিশ্বাস করে না।
অভয়ার বাবা-মা যে প্রশ্নগুলি তুলেছেন তার উত্তর না মিললে কোনও অবস্থাতেই বিচার হয়েছে বলা যাবে না। বস্তুত রায়ের ভাষ্যেও সরাসরি বা ঘুরিয়ে সেই প্রশ্নগুলি মান্যতা পেয়েছে। যে প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে বার করার দায় তদন্ত সংস্থা এবং সরকারের। সরকার যদি তাতে অপারগ হয় বা ব্যর্থ হয় তাহলে সন্তানহারা বাবা-মায়ের অধিকার আছে পুলিশ মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলার। শুধু বাবা মা কেন যে কোনও স্বাধীন নাগরিকের অধিকার আছে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ দাবি করার। বরং মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও পদাধিকারীর অধিকার নেই নির্লজ্জভাবে পদ আঁকড়ে থাকার।

Comments :0

Login to leave a comment