মুক্তধারা
কবিতা
জোছনা রাতের যাত্রী
সুকান্ত মন্ডল
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
জোছনা আলোর মায়াময় রাতে
আমি যে এক যাত্রী,
নিঝুম পথের চারপাশ জুড়ে
গভীর নিথুর রাত্রি।
আঁধার রাতে জোনাকিরা সব
মেলেছে আলোর মেলা,
তারা যেন বলে ভয় পেয়েও গো,
দেখো আমাদের খেলা।
আমরা তো ভাই মানুষ নইকো
করি না তো কোনো ছল,
আমি হেসে বলি তোমরাই তো আমার
বন্ধু যে উজ্জ্বল।
ঝাউ আর ওই কদম গাছের
ডালপালাদের ঘেরে,
উড়ে যাও যখন ইচ্ছে করে
ছুঁয়ে যাও একটি বারে।
পথের দু'ধারে ঝিঁঝিঁ পোকাগুলো
আপন খেয়ালে ডাকে,
তারা যেন বলে বাহানা তো নেই
সুর দেব ঝাঁকে ঝাঁকে।
গাছের বনেতে ওরাই তো আজ
জাগিয়ে রেখেছে পথ,
ওদের ডাকেতে থমকে দাঁড়ায়
মনের কল্প-রথ।
ঝিঁঝিঁর ওই ডাক শুনে মনে হয়
ও বুঝি মেঘের দূর,
কানু ও রাধার প্রেমের মতন
কৃষ্ণের বাঁশির সুর!
মাঝরাতে ওই চামচিকি এসে
মাথাটা ছুঁয়ে যে যায়,
ঠান্ডা মধুর বাতাস ছড়ায়
নিজের ডানার ঘায়।
পুরনো বকুল গাছের ওপরে
পেঁচা বসে আছে ডালে,
চোখ দুটো গোল গোল করে
চেয়ে শুধায় সে এই কালে।
কী করছো তুমি এই নিঝুমেতে
একা ওই গাছের তলে?
এই দেখো আমি বসে আছি
বকুলের ডালে।
আমি বলি শোনো পেঁচা ভাই আমার
তুমি যে আপন মিতে,
ভুলিও না যেন আমাদের এই
মায়াময় পৃথিবীতে।
পেঁচা বলে ভাই মানুষ তো নই
দেব না তো কোনো ফাঁকি,
আমায় দেখে তুমি ভয় কেন পাবে?
আমি যে এক বোবা পাখি।
সব শেষে ওই রূপালি চাঁদটা
হেসে বলে দূর থেকে,
ভয় পেয়েও না গো আলো দিয়ে যাই
সারাটা পথকে ঢেকে।
আমাদের তুমি ভালোবেসে যাও
মেলাও কল্পনার হাত,
মনের ওই দরজাটা খোলো
কেটে যাবে এই রাত।
Comments :0