The teacher who writes with leg

ক্লাস নেন পায়ে লিখে, শিক্ষক জগন্নাথের লড়াইকে অভিবাদন জানাচ্ছে বাধমুণ্ডি

জেলা স্পটলাইট

পায়ে লিখে ক্লাস নিচ্ছেন বাঘমুন্ডির জগন্নাথ মাহাতো

ভাস্কর দাশগুপ্ত

পা দিয়ে যে পান করে তাকে বলা হয় পাদপ। কিন্তু যিনি ছোটবেলা থেকে পা দিয়ে সমস্ত কাজকর্ম করেন তাকে কী বলে?
না, এমন কোনও শব্দ বাংলায় চালু নেই যা দিয়ে বর্ণনা করা যাবে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের বুড়দা কালিমাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাভা তোরাং নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগন্নাথ মাহাতোকে।
জন্ম থেকেই জগন্নাথ বিশেষভাবে সক্ষম। স্কুলের ছোট ছোট শিশুদের অঙ্ক করান, ছবি আঁকেন একচল্লিশ বছরের এই প্রাথমিক শিক্ষক। তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্ম দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনও বাধাই নয়।
বাঘমুন্ডির বুড়দা গ্রামে বাড়ি জগন্নাথ মাহাতোর। পাঁচ ভাই বোন। ছোটবেলায় যখন দিদিরা পড়তে বসত তিনি দেখতেন তাঁরা হাতে কলম নিয়ে লিখত। কিন্তু তাঁর হাত নেই।
মন খারাপ হলেও ভেঙে পড়েনি ওইটুকু শিশু। বাঁ পায়ের দুই আঙুলের মাঝে তুলে নিয়েছিলেন কলম। তা দেখে সবাই অবাক হলেও সকলেই তাকে উৎসাহ দিয়েছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পায়ে তুলে নিয়েছিলেন কলম। শুরু হয়েছিল এক জীবন যুদ্ধের লড়াই। সেই স্বপ্ন সফল করে আজ তিনি প্রাথমিক শিক্ষক।
বুড়দা বিবেকানন্দ শিশু মন্দির থেকে প্রাথমিক পাঠ। তারপর বুড়দা হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক। ঝালদা সত্যভামা বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর পুরুলিয়া শহরের জে কে কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে বিধাননগরে মৎস্য দপ্তরে চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি থেকে কর্মস্থল দূর হওয়ায় সেই চাকরি ছেড়েও
দিয়েছিলেন।


২০১২-তে ‘টেট’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৪ তে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। কঠিন লড়াই চালিয়েছেন জগন্নাথ মাহাতো। তাঁর এই লড়াইকেই সম্মান জানাচ্ছেন স্কুলের সহশিক্ষক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা এবং গ্রামবাসী সকলেই।

Comments :0

Login to leave a comment