Tea Gardens of Mal Subdivision

এখনও মেলেনি বোনাস, বকেয়া মজুরি নিয়ে চরম দুর্দশায় চা শ্রমিকরা

খেলা

দুর্গাপুজো পেরিয়ে গেলেও বোনাসের টাকা হাতে পাননি মাল মহকুমার চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা। বাগরাকোট, কিলকোট, নাগেশ্বরী, বামনডাঙা চা বাগানের শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০ শতাংশ হারে পুজোর বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা মেলেনি। শুধু চলতি বছরের বোনাসই নয়, গত বছরের পুজোর বোনাসের ১০ শতাংশও বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মচারীদের গত দু’মাসের মজুরি ও বেতন বকেয়া বলে অভিযোগ। বাগানের কাজ বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে শ্রমিক পরিবার গুলির।
পুজোর পর অধিকাংশ চা বাগানে কাজকর্ম স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও এই পাঁচটি বাগানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য চা বাগানে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। সাধারণত কালীপুজো পর্যন্ত চা বাগানে পাতা তোলার কাজ জোরকদমে চলে। অথচ এই সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের আয় কার্যত বন্ধ। একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক বাগান পরিদর্শন করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
বকেয়া বোনাস ও মজুরি মেটানোর দাবিতে দুর্গাপুজোর ষষ্টির দিনও বাগরাকোট চা বাগানের শ্রমিকরা ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। মালবাজার থানায় বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। শ্রমিক রাজেশ ওঁরাও, পূর্ণিমা তামাংদের বক্তব্য, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রাপ্য টাকা মিলছে না।
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিআইটিইউ সমর্থিত চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন। সংগঠনের নেতা পবন প্রধান বলেন, ‘‘চা বাগানের ইতিহাসে এই প্রথম দুর্গাপুজোয় শ্রমিকরা বোনাস থেকে বঞ্চিত হলেন। বিজেপি নেতারা শ্রমিকদের পাশে থাকার কথা বললেও বাস্তবে কোনও সমাধান হচ্ছে না। দীপাবলির আগেই সমস্ত বকেয়া মেটাতে হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কালীপুজোর পর জয়েন্ট ফোরামের নেতৃত্বে শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। তাঁর আরও অভিযোগ জোরপূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে বাগান থেকে পাতা তোলার জন্য বিজেপি সর্মথিত শ্রমিক সংগঠনের নেতারা চাপ সৃষ্টি করছে। যা নিয়ে শ্রমিকরা সরবও হয়েছেন।
সিআইটিইউ’র জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি রামলাল মুর্মুর অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের উদাসীনতায় চা শ্রমিকদের অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে। অবিলম্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে বাগানগুলির দায়িত্ব গ্রহণ, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বোনাস আদায় এবং কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
শ্রমিকদের এত অভিযোগ ও আন্দোলনের পরেও বাগান কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কবে বকেয়া মিলবে এবং কবে বাগানগুলিতে কাজ শুরু হবে, সেই অনিশ্চয়তা নিয়েই দিন কাটছে কয়েক হাজার শ্রমিকের।

Comments :0

Login to leave a comment