নতুনপাতা
জানা অজানা
বাংলায় প্রথম ঐতিহাসিক দুর্গাপূজো
তপন কুমার বৈরাগ্য
৯ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
বাংলার প্রথম ঐতিহাসিক দুর্গাপুজো বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের
মৃন্ময়ীদেবীর পুজো।৯৯৭খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজা জগৎমল্ল এই
পুজোর প্রচলন করেন। তার শাসনকাল ছিল৯৯৪থেকে৯৯৭
খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।এই মূর্তি হলো দেবী সিংহবাহিনি,রণচন্ডী,
মহিষাসুরমর্দিনি।এখানে লক্ষ্মী,সরস্বতী,কার্তিক গণেশ নেই।
দেবীর চরণে আছে মহিষাসুর ও মহিষ।অন্যায়ের বিরুদ্ধে
শুভশক্তির জয়ের প্রতীক।আগে বিষ্ণুপুর ছিল শাল পিয়ালের
বনে ঘেরা।পাশদিয়ে দ্বারকেশ্বর এবং শিলাই নদী প্রবাহিত।
বাঁকুড়ার মল্ল রাজবংশের সূচনা করেন আদি মল্ল।তার শাসনকাল
ছিল৬৯৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে৭১০খ্রিস্টাব্দ।মল্লরাজাদের আদি
রাজধানী ছিল প্রদ্যুম্নপুর।জগৎমল্ল ৯৯৪খ্রিস্টাব্দে রাজধানী
বিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত করেন।এখানকার শাল পিয়ালের বন
পরিষ্কার করার সময় মৃন্ময়ী দেবীর মূর্তি পান।সেই মূর্তি দেখে
গঙ্গার মাটি নিয়ে মৃন্ময়ী দেবীর মূর্তি যা আসলে দেবী দুর্গার
মূর্তি।সেই মূর্তি তৈরীর পর তার পূজার ব্যবস্থা করেন।রাজা শ্রী
মন্ত জগৎমল্ল সেই পূজোর ব্যবস্থা করেন যা বাংলার প্রাচীনতম
দুর্গাপুজো।মল্লরাজবাড়ির দুর্গাপুজো রাঢ় বাংলার এক শ্রেষ্ঠ
লোকসংস্কৃতির উৎসব।প্রথমদিন থেকে যেভাবে পুজোর ব্যবস্থা
করা হয়েছিল আজো সেই ভাবেই পুজো হয়ে থাকে।অষ্টমীর দিন
কামানের তোপধ্বনি করা হয়।ফৌজদার শিল্পীদের দ্বারা
বড় ঠাকুরানি, মেজো ঠাকুরানি এবং ছোট ঠাকুরানির পটচিত্র
আঁকা হয়।তাদের পুজো করা হয়।প্রায় পনেরোদিন ধরে মেলা
বসে।দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসে এই পুজো দেখতে।অষ্টমীর
দিন খুব ভীড় হয়।এই দুর্গাঠাকুরের মৃন্ময়ীমূর্তি বিসর্জিত হয় না।
রথের দিন ঠাকুরের মূর্তি পরিষ্কার করা হয়।এই বছরে এই
পুজো ১০২৯তম বছরে পদার্পণ করবে।যা বাংলার প্রাচীনতম
দুর্গাপুজো।মল্লরাজাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন বীর হাম্বীর।
তিনি ১৫৫৬খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬২০খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিষ্ণুপুরের
মল্লরাজা ছিলেন।তার সময় থেকেই বিষ্ণুপুরে টেরাকোটা বা
পোড়ামাটির মন্দির নির্মিত হয়।তার শাসনকাল ছিল মল্ল শাসনের স্বর্ণযুগ।এরপুর তার পুত্র রঘুনাথ সিংহ সিংহাসনে বসেন।
তার শাসনকাল ছিল ১৬২৬খ্রিস্টাব্দ থেকে১৬৫৬খ্রিস্টাব্দ।
তার আমলেই টেরাকোটার মন্দির আরো উন্নতি লাভ করে।
তিনি রাসমন্দির নির্মাণ করেন।
তার আমলেই বিষ্ণুপুরের ধ্রুপদ সংগীত এবং বিষ্ণুপুর ঘরানার
সৃষ্টি হয়।বীর হাম্বীর ছিলেন আকবরের সমসাময়িক।
Comments :0