ট্যাংরার দে পরিবারের তিন সদস্যের খুনের ঘটনায় শিশু কমিশনে সাক্ষ্য দিলেন পরিবারের সদস্য প্রতীপ দে। প্রতীপ জানান তার কাকা প্রণয় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করে। বেঁচে থাকার আশায় ওই কিশোর মৃতের অভিনয় করেন। সে আরও জানায় তার মা, কাকি এবং বোনকে খুন করার পর ছাদে গিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন দুই ভাই প্রসূন এবং প্রণয়।
প্রতীপের কথায় পরিবারের সদস্যরা যে আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা করছেন তার অনুমান সে করতে পেরেছিল তাদের বিভিন্ন আলোচনা থেকে। তার সাথে পরিবার যে এক বিপুল অর্থীক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে তাও সে অনুমান করতে পারে।
এদিন এনআরআএস হাসপাতালে প্রতীপের সাথে দেখা করার পর শিশু কমিশনের চেয়ারম্যান অনন্যা চকবর্তী জানান, বাড়ির সকলকে যে ভাবে খুন করা হয়েছে সেই ভাবে প্রতীপকেও খুন করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দুই ভাই সেই কাজ করতে পারেননি। তাই তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খাওয়ানোর পর বালিশ চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করেন কাকা প্রণয়।
ট্যাংরার দে পরিবারের তিন সদস্যকেই এখন রাখা হয়েছে এনআরএস হাসপাতালে। পুলিশ সূত্রে খবর সুস্থ হলে প্রসূন এবং প্রণয়কে তারা হেপাজতে নিতে পারেন। কিন্তু প্রতীপের কি হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউ রাজি হয়নি প্রতীপের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। সেই ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কোন হোমে তাকে রাখা হতে পারে।
গত বুধবার অভিষিক্তার সামনে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রণয় এবং প্রসূন। তাদের সাথে একই গাড়িতে ছিলেন প্রতীপ। আহত অবস্থায় তিনজনকে ভর্তি করা হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসকারি হাসপাতালে। আহত তিনজনের থেকে পাওয়া ঠিকানার তথ্য ধরে ট্যাংরায় পৌঁছায় আধিকারিকরা। সেখানে গিয়ে বাড়ির দুই গৃহবধু রোমি দে, সুদেষ্ণা দে এবং কিশোরী প্রিয়ম্বদার দেহ দেখতে পায় কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। সেই সময় প্রাথমিক তদন্ত তদন্তকারিরা মনে করেন যে তিনজন আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পরবর্তী সময় দেখা যায় যে খুন করা হয়েছে তাদের। প্রতীপ পুলিশকে জানায় যে তার কাকা প্রণয় তিনজনকে খুন করেছেন।
Tangra Suicide and murder
শিশু কমিশনে সাক্ষ্য দিলেন প্রতীপ, জানালেন সেদিনের অভিজ্ঞতা

×
Comments :0