উত্তর-পূর্ব রাজ্য মেঘালয়ে একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে প্রথমে ১০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়। পরে বিস্ফোরণে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার মেঘালয়ের পূর্ব জৈনন্তিয়া পাহাড় জেলার মাইনসিংহাট-থাংসকো অঞ্চলে একটি অবৈধ কয়লা খনিতে ডিনামাইট বিস্ফোরণে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৩ ডিসেম্বর একই থাংসকো এলাকায় একই রকম একটি ডিনামাইট বিস্ফোরণ হয় তাতেও দুই খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
এদিন বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা পৌঁছায়। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। জেলা পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার বলেন, অবৈধ কয়লা খনির ভেতরে একটি ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনার সময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক ভেতরে কাজ করছিলেন এবং চার শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর যেখানে অবৈধ খনিটি চলছিল সেই পাহাড়টি আংশিকভাবে ধসে পড়ে, যার ফলে কিছু খনি শ্রমিক আটকা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিহতরা সকলেই আসামের বলে মনে করা হচ্ছে, তবে তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এখনও বহু শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৃত শ্রমিকদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
ভূগর্ভ থেকে একেরপর এক পোড়া দেহ উঠে আসছে। কয়েকটি দেহ আগুনে গলে আলগা হয়ে গেছে। উপরে শুধু কালো ধোঁয়া। ভূগর্ভে আগুন। এ যেনো মাটির নীচে জতুগৃহ। মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খাদানে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতরে আরো দেহ রয়েছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। রাজ্যের পূর্ব জয়ন্তীয়া পাহাড় জেলার সুতুঙ্গা এলাকার থাঙকসোর কয়লা খাদানের বৃহস্পতিবার সকালে আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে পরপর চারটি খাদান রয়েছে। যাঁরা এদিন কাজে যান নি, তাদের মধ্যে কয়েকজন শ্রমিক জানান, তিনটি খাদানে ভোর রাত দুইটা নাগাদ কয়েকজন শ্রমিকরা খাদানে প্রবেশ করেন। যে খাদানে এদিন কাজ বন্ধ ছিল,সেই খাদানে সকালে ডায়নামাইট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কয়লা কাটার সুবিধার্থে ডায়নামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়লা ভাঙা হয়। এরপর বড় পাথরের মতো টুকরো হয়ে যাওয়া কয়লা কেটে তুলে আনেন শ্রমিকরা। এদিন পাশের খাদানে ডায়নামাইট বিস্ফোরণ ঘটানোর পর ওই খাদানে আগুন ধরে যায়। মহুর্তে আগুন অন্য খাদানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে র্যাটট হোল অর্থাৎ ইঁদুর গর্তের মতো খাদানের ভেতর থেকে শ্রমিকরা বেরোতে পারেন নি। প্রথমে কয়লার কালো ধোঁয়ায় তাদের দমবন্ধ হয়ে যায়। এরপর তাদের গায়ে আগুন ধরে যায়। কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে দেখে খাদানে ছুটে আসেন এদিন কাজে না যাওয়া শ্রমিকেরা। তাদের চিৎকারে অন্য খাদানের শ্রমিকরা ছুটে আসেন। জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। বিকেলর দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ভেতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে নামেন তাঁরা। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। পূর্ব জয়ন্তীয়া পাহাড় জেলার পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন ভেতরে কতজন শ্রমিক ঢুকেছিলেন, এর সঠিক সংখ্যা কেউ বলতে পারছেন না। তবে অনুমান করা হচ্ছে, অন্তত ৫০ জন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েছেন। তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
Comments :0