Bengali New Year

বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতির আহ্বানে বর্ষবরণ ঢাকায়

আন্তর্জাতিক

চট্টগ্রামে উদীচি শিল্পগোষ্ঠীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

মীর আফরোজ জামান: ঢাকা

বাংলা নতুন বছরের প্রথম প্রভাত। ঢাকায় ঘড়িতে তখন সকাল ৬টা ১৫ মিনিট। পুব আকাশ রক্তিম হয়ে উঠেছে। আকাশে মেঘ থাকায় আলোটা শান্ত, আবছা। এমন পরিবেশে রাজধানীর রমনার বটমূলে বসে শতাধিক শিল্পী সম্মিলিত কণ্ঠে গাইলেন ‘জাগো আলোক-লগনে’। আর এভাবেই বরণ করে নেওয়া হলো বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩–কে। 
অন্য বছরের মতো এবারও রমনা বটমূলে নতুন বছর বরণের এই প্রভাতি আয়োজন করে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট।
বর্ষবরণের আয়োজন দেখতে ভোর থেকেই আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। সময় যত গড়াতে থাকে, বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। একসময় কানায় কানায় পূর্ণ হয় বটমূল প্রাঙ্গণ। বটমূল ছাড়িয়ে রমনা পার্কের অন্য জায়গাতেও বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করতে থাকেন বাংলা নববর্ষ বরণের এই আয়োজন।
যদিও ততক্ষণে ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়। ঢাকার বর্ষ বরণ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ।
গত বছরেও রমনায় নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছিল নববর্ষের অনুষ্ঠান। ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত মঞ্চে হয়েছিল বিজয় দিবসের আয়োজন। তার দুই দিন পরই গভীর রাতে ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনে ভাঙা হারমোনিয়াম-তবলা-তানপুরা এবং নালন্দার ছিন্নবিচ্ছিন্ন শিশুপুস্তকের দুঃসহ স্মৃতি। সেই রাতেই অগ্নিসংযোগ করা হয় দুই শীর্ষ সংবাদপত্র ভবনে। পরদিন আক্রান্ত হয় ‘উদীচী‘। 
ছায়ানটের সভাপতি ডাঃ সারওয়ার আলি বলেন, যে সংগীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা-মিলন-বিরহ-সংকটের সঙ্গী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সব অধিকার অর্জনের অবলম্বন, সব ধর্ম-জাতির মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে, কোনো অপশক্তি ভয় দেখিয়ে সেই সংগীত থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষকে নিরস্ত করতে চায়। তারা আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকারের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত। সমাজে বেড়েছে অসহিষ্ণুতা। বেড়েছে আপন মত প্রকাশে দলবদ্ধ নিগ্রহের শঙ্কা।’’
মার্কিন-ইজরায়েলী আগ্রাসনে পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন বলে উল্লেখ করেন ছায়ানট সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি। শুনতে চাই, সমাজের অভয়বাণী যেন সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারেন, সবাই যেন নির্ভয়ে গাইতে পারি, যেন সংস্কৃতির সব প্রকাশ নির্বিঘ্ন হয় বাঙালি শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করে।’

Comments :0

Login to leave a comment