West Bengal Election 2026

উন্নয়নের নামে ভাঁওতা, জবাবের অপেক্ষায় ধূপগুড়ি শহরের ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা

জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

জল-নিকাশি আর আবাসনের হাহাকারের মাঝেই ধূপগুড়ি পৌর পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকট হয়ে উঠছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের দুর্গন্ধে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল যখন অমিল, ঠিক তখনই ব্রাত্য থেকে গেল নাগরিকদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দুই দাবি— একটি আধুনিক ‘সুইমিং পুল’ ও ‘ইন্ডোর স্টেডিয়াম’। ছোটদের সাঁতার শেখা থেকে শুরু করে শরীরচর্চা, দশকের পর দশক ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন ধূপগুড়িবাসী। কিন্তু তৃণমূলী শাসনে সেই ফাইল আজও লাল ফিতের ফাঁসে বন্দি। সিপিআই(এম)’র স্পষ্ট অভিযোগ, সদিচ্ছার অভাব আর দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই শহরের উন্নয়ন আজ ‘বিশ বাঁও জলে’।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বারবার দাবি করে আসছে, তাদের নাকি ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ দশা। নিজস্ব তহবিলে পরিকাঠামো গড়ার টাকা নেই। কিন্তু এই খোঁড়া যুক্তি মানতে নারাজ নাগরিক সমাজ। স্থানীয় শিক্ষক সঞ্জয় ঘোষের সাফ কথা, ‘‘উদ্যোগ থাকলে টাকার অভাব বাধা হয় না। পৌরসভা যদি সঠিক সময়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠাত, তবে অর্থ বরাদ্দ হওয়া অসম্ভব ছিল না। আসলে পরিকল্পনার চেয়ে প্রচারেই বেশি মন বর্তমান শাসক দলের।’’
বর্তমানে ধূপগুড়ির অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে পকেটের কড়ি ও সময় খরচ করে সন্তানদের জলপাইগুড়িতে সাঁতার শেখাতে নিয়ে যান। পেশায় ব্যাংককর্মী সুমিত রায়ের আক্ষেপ, ‘‘জলাশয় কমছে। আগামী প্রজন্মের শারীরিক বিকাশের জন্য একটা সুইমিং পুল ও ইন্ডোর স্টেডিয়াম আশীর্বাদের মতো হতো, কিন্তু তা আজও স্বপ্নই রয়ে গেল।’’
শহরবাসীর অভিযোগ, জায়গার অভাবের যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্টেশন সংলগ্ন ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বাম পৌরবোর্ডের আমলে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য কেনা বিপুল জমি তৃণমূলের অনৈতিক বিরোধীতায় অব্যবহৃত পড়ে আছে। বর্তমানে সেই শেডে স্থানীয় মানুষ আলু ও গোবর রাখছেন। সেখানে অনায়াসেই সুইমিং পুল ও পার্ক গড়ে তোলা যেত। একইভাবে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণায়ন ক্লাবের দান করা জমিও আগাছায় ভরেছে। সেখানে অনায়াসেই একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্ডোর স্টেডিয়াম তৈরি করা সম্ভব ছিল।
এই বঞ্চনা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন ধূপগুড়ি বিধানসভার বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী নিরঞ্জন রায়। তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘‘গত দেড় দশক ধরে পৌরসভার ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল নেতারা কেবল পকেট ভরার রাজনীতি করেছেন। সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আগামী দিনে বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে এই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আমরাই পূরণ করব।’’
অন্যদিকে, দায় ঝেড়ে ফেলে পৌরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জমির খোঁজ এবং অসার ‘মডেল’র দোহাই দিচ্ছেন। অথচ চার বছর পার হলেও পৌর নির্বাচন করার হিম্মত দেখাচ্ছে না সরকার। ভোট আসে, ভোট যায়— শাসকদলের ইস্তাহারে বড় বড় হরফে প্রতিশ্রুতি ছাপা হয়। কিন্তু বাস্তবের জমিতে ধূপগুড়ির প্রাপ্তি কেবল একরাশ বঞ্চনা। শহরের ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা এখন এই অচলাবস্থা ভাঙার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

Comments :0

Login to leave a comment