editorial

বিশ্ব গুরু ফেল

সম্পাদকীয় বিভাগ

একাধারে সাপের মুখে এবং ব্যাঙের মুখে চুমু খেয়ে অজৈবিক প্রধানমন্ত্রী নিজেকে যতই ৫৬ ইঞ্চির বিশ্বগুরু বলে জাহির করুন না কেন বাস্তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর যে কল্কে জোটে না সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল ইরান-আমেরিকার দু’সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতির ঘোষণার মধ্য দিয়ে। দু’পক্ষের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার মধ্যে একটা সমঝোতার রাস্তা তৈরি করার যে ভারতের সামনে ছিল মোদী সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট নিষ্ক্রিয়তার ফলে সেটা হাতছাড়া হয়ে গেল। সে জায়গায় পাকিস্তান এগিয়ে এসে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করে সারা বিশ্বের নজর কেড়ে নিল।
যুদ্ধ শুরুর একদিন আগে ইজরায়েল সফরে গিয়ে গাজা ভূখণ্ডে গণহত্যার নায়ক বেঞ্জামিন নেতানেয়াহুর ভূয়সী প্রশংসা করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের যুদ্ধে ইজরায়েলকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থনের অঙ্গীকার করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি ইজরায়েলের জাতীয় সংসদে ভাষণ দিয়ে ইজরায়েলকে পিতৃভূমি এবং ভারতকে মাতৃভূমি আখ্যা দিয়েছিলেন। মোদী ইজরায়েল সফর শেষ হবার পরই আমেরিকা ও ইজরায়েল প্রবল বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইরানের বিরুদ্ধে। অচিরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। সীমাহীন ধ্বংসলীলার পাশে চলতে থাকে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল বিপর্যস্ত হয়। তার ধাক্কায় বিশ্ব বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে তেল-গ্যাসের দাম। বেশির ভাগ দেশ বিশেষ করে তেল-গ্যাসে আমদানি নির্ভর দেশগুলির অর্থনীতি সাংঘাতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। সর্বত্র শেয়ার বাজারে নামে ধস। বেশিরভাগ দেশের বিশেষ করে ভারতের মুদ্রার (টাকার) বিরাট মূল্য পতন ঘটে।
এই বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান শিকার ভারত হলেও যুদ্ধ ঠেকানোর প্রশ্নে ভারতের ইতিবাচক কোনও ভূমিকা ছিল না বললেই চলে। যুদ্ধ বিরতির জন্য অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রাণের বন্ধু, ইজরায়েল যার ‘পিতৃভূমি’ এবং ইরানের সঙ্গে যাদের নিবিড় সম্পর্ক সেই ভারত উদ্যোগ নিলে বা তৎপর হলে একটা সমঝোতার রাস্তা নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসত। অথচ স্বঘোষিত বিশ্বগুরু তা না করে গোটা যুদ্ধ পর্বে দিল্লি বসে এদেশ-সে দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করে কাটিয়ে দিলেন। আর সরকার থেকে বিবৃতি দিয়ে বারবার বাণী বিতরণ করা হলো ভারত চায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।
কিন্তু শুধু ভাষণে-বিবৃতিতে যে কাজ হয় না তার জন্য দরকার সক্রিয় উদ্যোগ সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে প্রতিবেশী ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তান। পাকিস্তান মুখে বেশি ভাষণ না দিয়ে মধ্যস্থতার কাজে নামে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক কথা বলে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন বাড়ায়। পাক বিদেশ মন্ত্রী বেজিং সফরে গিয়ে চীনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসেন। পাকিস্তানকে সামনে রেখে যুদ্ধ বন্ধে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় চীনও। এদিকে ট্রাম্পও চাইছিলেন এই এক উদ্যোগের মাধ্যমে সসম্মানে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে। পাক উদ্যোগকে আড়ালে মদত জুগিয়েছেন ট্রাম্পও। শেষ পর্যন্ত একরকম আকস্মিকভাবেই ঘোষণা হয়ে যায় দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির।

Comments :0

Login to leave a comment