Body Recovered

আসাম থেকে ভোট দিতে এসে নদী থেকে উদ্ধার প্রৌঢ়ের দেহ, ধূপগুড়িতে চাঞ্চল্য

জেলা

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে সুদূর আসাম থেকে নিজের গ্রামে ফিরেছিলেন। কিন্তু ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার আনন্দ স্থায়ী হলো না বেশিক্ষণ। নদী থেকে উদ্ধার হলো সত্তর বছর বয়সী প্রৌঢ় নিতাই সরকারের নিথর দেহ। ভোট দিতে এসে এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় ধূপগুড়ির চৌহদ্দি গাড়িয়ালটারি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নিতাই সরকার (৭০) দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর ছেলের সঙ্গে আসামে থাকতেন। ছেলে কর্মসূত্রে সেখানে থাকায় তিনিও সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত দু’দিন আগে আসাম থেকে ধূপগুড়ির চৌহদ্দি গাড়িয়ালটারি এলাকায় নিজের গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি।
পরিবার সূত্রে খবর, এদিন সকালে বুথে গিয়ে ভোট দিয়ে আসার পর দুপুরের দিকে গ্রামের বাড়ির অদূরে দৈখাওয়া নদীতে স্নান করতে নামেন নিতাইবাবু। বেশ কিছুক্ষণ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে তাঁর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় ডাউকিমারী ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ আসার আগেই স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় নদীপাড়ে। পুলিশ জল থেকে দেহটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মৃতের পুত্র হিরেন সরকার বলেন, ​“বাবা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। ভোট দিতেই বাড়িতে এসেছিলেন, কিন্তু এমনটা হয়ে যাবে ভাবিনি।”
পরিবারের দাবি, প্রৌঢ় ব্যক্তিটি শারীরিক অসুস্থতার কারণেই হয়তো নদীতে স্নান করার সময় জলে ডুবে যান। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
ভোট দিতে এসে এভাবে এক বৃদ্ধের মৃত্যুতে এলাকায় বিষাদের সুর। বাড়ির লোক ও প্রতিবেশীদের একটাই আক্ষেপ— ভোট দেওয়াটাই কি শেষ পর্যন্ত কাল হলো ওই বৃদ্ধের জীবনে?

Comments :0

Login to leave a comment